স্বাধীন ভারতে রানি শিরোমণিকে ভুলিয়ে দেওয়া চলবে না

কখনও কোথাও শুনেছেন লক্ষ্মীবাইকে 'ঝাঁসির শিরোমনি' বলতে? দুই মহিয়ষী নারী রাজ্যের জন্য আপ্রাণ লড়াই করেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে।

Share:

‘কর্ণগড়ের রানি মাগো অস্ত্র ধরেছিল/ কোলকাতার লোকে উকে চুয়াড় বলেছিল’  – অমিত মাহাতো

বিদ্রোহী রানি বললেই কার কথা মনে পড়ে? শুধু ঝাঁসির লক্ষ্মীবাই? সেটাই স্বাভাবিক কারণ, ভুলিয়ে দেওয়া হয় বাংলার কথা। এই মাটির বিপ্লবের কথা। নারীর কথা। ইতিহাস বারবার বিকৃত হয়। করা হয় আসল ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে। তেমনই চেষ্টা করা হয়েছে মেদিনীপুরের এই ইতিহাসকে আস্তে আস্তে মুছে ফেলার। অবহেলা নয়। পরিকল্পিতভাবেই হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে আমার অবিভক্ত মেদিনীপুরের এই ইতিহাস। আসলে বাংলার নারীর দাপটের এই ইতিহাসে ফিকে হয়ে যাবে অবাঙালি দাপট। রানি লক্ষ্মীবাইয়ের জন্ম ১৮২৮ সালে। তাঁর জন্মের ১০ বছরেরও আগে মৃত্যুবরণ করেন বিদ্রোহী রানি শিরোমণি (RANI SHIROMANI)। অথচ হারানো ইতিহাসে কান পাতলে শোনা যায় শিরোমনি মানে ‘মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাই’। কখনও কোথাও শুনেছেন লক্ষ্মীবাইকে ‘ঝাঁসির শিরোমনি’ বলতে? দুই মহিয়ষী নারী রাজ্যের জন্য আপ্রাণ লড়াই করেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে। তবু বাংলা আর বহিঃবাংলার এই নোংরা খেলাটা শুরু হলো দেশেই।

বিপ্লব মানেই তার সূত্রধর মেদিনীপুর। এই অঞ্চলের মাটি, গাছ, জল শেখায় প্রাণভরে ভালোবাসতে। আর সেই ভালোবাসায় আঘাত নেমে এলে গর্জে ওঠে আমার মেদিনীপুর। যা এখন হয়, তা হয়ে গেছে বহু বহু বছর আগেও। কারণ এই অঞ্চল যে বিপ্লবের আঁতুড়ঘর।

কেশরী বংশের রাজা ইন্দ্রকেতু রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উত্তরসূরী নরেন্দ্রকেতু রাজ্যের দায়ভার তুলে দেন লোধা সর্দার রণবীর সিংহের হাতে। অপুত্রক রাজা ভবিষ্যতের শাসক হিসেবে দত্তক নেন জনৈক মাঝি অভয়ার পুত্রকে। তারপর পারাং নদী দিয়ে বয়ে গেছে রাজ্যপাটের স্মৃতিমোড়া কত জল।  উত্তরসূরী রাজা অজিত সিংহের মৃত্যুর পরে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বভার তুলে নেন দ্বিতীয় রানি শিরোমণি।‌ (রাজ্য মানে জমিদারি। তখনকার দিনে জমিদার ও জমিদার পত্নীকে যথাক্রমে রাজা ও রানি বলা হত।)

রানির তখন ৩ টি গড়, কর্ণগড়, আবাস গড়, জামদার গড়। সমগ্র কর্ণগড় জনপদ ছিল পরিখা ঘেরা। টিলার উপর রাজপ্রাসাদ। রাজ্য পরিচালনা করতেন অপুত্রক রানি শিরোমণি। সন্তানহীন কি? বোধহয় ভুল। তিনি গর্ভধারিনী নন। সমস্ত প্রজাই তাঁর সন্তান। পরম যত্নে আগলে রাখেন রাজ্যবাসীকে।

কলকাতার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে হিংস্র শাসক চোখ ঠিকরে পড়ল শান্ত জঙ্গলের গর্ভে। স্থানীয় জমিদারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হল চড়া ভূমি রাজস্ব। যা আদায় করতে গেলে শেষ হয়ে যাবে ভূমিপুত্রদের জঙ্গল, নিষ্কর জমির অধিকার। সরব হয়ে উঠল পাইক-বরকন্দাজরা। জঙ্গলের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ল প্রতিবাদ। প্রতিবাদকে শুরুতেই শেষ করে দিতে লোপ করা হলো পাইকান পেশা, বাতিল করা হয় জমির অধিকার। আরও তীব্র হলো প্রতিবাদ। টিলার ওপরে মাকড়া পাথর ও  পোড়া ইঁটের রাজপ্রাসাদ হয়ে উঠল বিপ্লবের আঁতুড়ঘর। কুলদেবী মহামায়ার রাজ্য রক্ষা করতে রানি দেবী আখ্যান প্রচার করতে শুরু করেন গোপনে। বিপ্লবের জন্য ব্যয় করতে থাকেন দু’হাত উজাড় করে। হয়ে ওঠেন নেত্রী। মূলত এই কৃষক বিদ্রোহকে ইংরেজরা হেঁয় করার জন্য নাম দিল ‘চুয়াড় বিদ্রোহ’।

এর আগেও জগন্নাথ সিংহের নেতৃত্বে হয়েছে বিপ্লব। এবার তা আরও তীব্র। সম্মুখে এসে বিদ্রোহ করলেন রাইপুরের দুর্জন সিং-ও। নিজেকে ঘোষণা করলেন স্বাধীন তালুকদার হিসেবে।

বিপ্লবের জন্য অর্থ ব্যয় করতে করতে রানির বাকি পড়েছে খাজনা। ‘নানাকর’ আদায়ে চাপ দিতে শুরু করে শোষক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

রাজ্যের লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করলো রানির দেওয়ান যুগলচরণ। গোপনে খবর পৌঁছে যেতে থাকল সাদা চামড়ার শাসকদের কাছে। তা অবশ্য চোখ এড়ায়নি প্রজাপালিতার। জমিদারি থেকে নয়াবসত পরগনার কুড়মি (?) রানি বিতাড়িত করলেন তাকে। নিযুক্ত করলেন এককালের বরখাস্ত চুনীলালকেই।

দাউ দাউ করে জ্বলছে বিপ্লবের আগুন। ১৭৯৮ সালে  প্রায় ৪০০ ‘চুয়াড়’ তীর-ধনুক, বল্লম, লাঠি, আগুন নিয়ে লুঠ করতে শুরু করল সরকারি অফিস, গুদামঘর। বিদ্রোহ দমন করতে এসে বিনা খাদ্য, জলে বন্দি ইংরেজবাহিনী।

এদিকে কালেক্টরেট থেকে খবর গিয়েছে কোম্পানিতে। মেদিনীপুরে আসতে শুরু করেছে ইংরেজ সেনাবাহিনী। রানীর কাছে পৌঁছাল সেই খবর। শেষ আঘাত হানতে ব্লুপ্রিন্ট কষলেন কুড়মি রানি। কালেক্টরেটে খবর পাঠালেন, চুয়াড়দের দমানো যাচ্ছে না। তিনি কোম্পানির সঙ্গে সন্ধি করতে প্রস্তুত। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ রানীর কথা বিশ্বাস করার সাহস দেখালো না সাদা চামড়ার বেনিয়ারা। 

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বন্দি করা হলো চুনীলালকে। তিনিই সেনাপতি। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো বনসুরাম বক্সীর বিরুদ্ধে।

গোলা, বারুদ, বন্দুক নিয়ে ইংরেজ সৈন্য ঘিরে ফেলেছে দুর্গ। সুড়ঙ্গ দিয়ে কর্ণগড় থেকে আবাস গড়ে যাওয়ার পথে বন্দি করা হল রানিকে। ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম রাজনৈতিক বন্দিনী। হেসে উঠল ইলবার্ট। জঙ্গলের গাছে গাছে ঝুলছে বিদ্রোহীদের দেহ। রক্ত আর অশ্রু মেখে হাহাকার করছে পারাং। এদিকে গোলার আঘাতে আগেই প্রাণ হারিয়েছেন রাজা দুর্জন সিং।  তারপরে এই সময়টা ১৭৯৯ সালের ৬ এপ্রিল।

জনদরদী রানিকে বন্দি করে নিয়ে আসা হল আবাসগড়ে। পরদিন কলকাতায়। প্রিভি কাউন্সিল থেকে আদেশ এল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের। নাড়াজোলের রাজা আনন্দলাল খানের মধ্যস্থতায় শিরোমনি গৃহবন্দি থাকলেন আবাসগড়ে।

১৮১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জনগণের দেবী। গৃহবন্দি থাকা অবস্থাতে স্বাভাবিকভাবেই না কি গুপ্তহত্যা? সেই প্রশ্ন আজও তোলে জঙ্গলের প্রতিটি গাছ, গড়ের ধ্বংসস্তূপ। ইতিহাস চাপা পড়ে গেছে।

– নিসর্গ নির্যাস মাহাতো 

২৭ বছরেই সব শেষ, ঘুমের মধ্যেই প্রয়াত ‘ঘোস্ট’ অভিনেত্রী অনন্যা রাজ

‘১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায়,’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

২১ অগস্ট তারেকের সফরের আগেই ঢাকার হাতে হাদির দুই খুনিকে তুলে দিচ্ছে মোদি সরকার?

রাতের অন্ধকারে বিরসা মুণ্ডা-আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙল দুষ্কৃতীরা, চাঞ্চল্য তাহেরপুরে

‘হেনস্থার জন্য মানসিক চাপে ছিলেন আশিসদা’, প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মহত্যায় শোকাহত মমতা

মেয়ের বান্ধবীকে যৌন হেনস্থা, অভিযুক্তকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিল স্থানীয়রা

‘বিজেপি হলেও ছাড় নেই’, বাঁকুড়ায় সিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলা নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

শ্যাম্পু-তেল দিয়েও থামছে না চুল পড়া? বাড়িতেই বানান এই ৫ হেয়ার মাস্ক

‘আশিসদাকে কেউ হয়তো ফোন করে ভয় দেখাতে পারে,’ বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা, সীমানা সিল করল পুলিশ

নিম্নচাপের জেরে রাজ্যজুড়ে বদল আবহাওয়ার, আজ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

সাগরে নিম্নচাপের জের, অতি ভারী বৃষ্টিতে ভাসবে কলকাতা

‘বন্দেমাতরম’ ইস্যুতে সোনিয়াকে বিঁধলেন অমিত শাহ-শুভেন্দু অধিকারী

‘মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন তাই করছেন,’ আচমকাই শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বীরভূমের কেষ্ট