এই মুহূর্তে

হুমায়ুনের বাবরি মসজিদের অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা ৩০০ বাংলাদেশি জঙ্গির!

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী ৬ ডিসেম্বর তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রায় ৩০০ সদস্য সীমান্ত টপকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই জঙ্গিরা চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্তে জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসী শিবিরে জড়ো হয়েছে। মূলত, অবৈধভাবে সীমান্ত টপকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ওই জঙ্গিরা। অনুষ্ঠানে পুলিশ বা প্রশাসন বাধা দিলে চরম নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্য রয়েছে ওই জঙ্গিদের। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। ওই সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিএসএফ। বাংলাদেশ সংলগ্ন জলপথ ও স্থলপথে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিজিবির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের রাজশাহীর জেলার উল্টোদিকে হচ্ছে মুর্শিদাবাদ। আন্তর্জাতিক সীমানা ১৪৩ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৪৩ কিলোমিটার রয়েছে স্থলভূমি। বাকি ৮০ কিলোমিটার রয়েছে জলপথ। এপারে পদ্মা এবং ওপারে গঙ্গা। স্থলভূমিতে বেশিরভাগ জায়গায় নেই কাঁটাতারের বেড়া। কাঁটাতার বিহীন মুর্শিদাবাদের চর কাকমারী সীমান্ত ও শিবগঞ্জ। এখান থেকেই মূলত জঙ্গি ও চোরাকারবারীরা অতি সহজেই যাতায়াত করে থাকেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি হওয়ার কারণে নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল বিএসএফ। তবে ইদানিং তাতে খানিকটা শৈথিল্য দেখা গিয়েছে। আর সেই সুযোগ নিচ্ছেন চোরাকারবারীরা।’

সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের খবর পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়েছে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের জামায়াতে ইসলামী নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বাবরি মসজিদ স্থাপনের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে থাকা তিনটি সংখ্যালঘু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী) নূরুল ইসলাম বুলবুল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতের প্রাক্তন সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান।। গোরু ও সোনা চোরাকারবারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর রাজশাহী ও পরের দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সহ ভারতীয় সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন কুখ্যাত পাকিস্তানি জঙ্গি হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী  ইবতিসাম ইলাহি জাহির। পাকিস্তানের মারকাজি জমিয়ত আহল-ই-হাদিয়াতের সাধারণ সম্পাদক জাহিরের সঙ্গী ছিলেন আবদুর রহিম বিন আবদুর রাজ্জাক। যিনি আল জামিয়া আস-সালিফার সদস্য। এই সংস্থাটি একটি ইসলামি গবেষণা কেন্দ্র। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় মসজিদগুলির ইমামদের সঙ্গে আলোচনা করেন জাহির। ভারতকে শিক্ষা দিতে মাদ্রাসা পড়ুয়াদের নিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দেশ দেন। পরে একটি সভায় উসকানিমূলক ভাষণ দিয়ে ইসলামের জন্য সকলকে কুরবানি দিতে তৈরি থাকার নির্দেশ দেন। তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের জন্য কুরবানি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।

জাহিরের ঘুরে যাওয়ার পরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে একাধিক জঙ্গি শিবির চালু হয়েছে। মূলত সীমান্ত টপকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে নাশকতা চালানোর উদ্দেশেই ওই শিবির চালু হয়েছে। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে পুলিশের উপরে হামলা চালানো (শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে যা করা হয়েছিল), হিন্দুদের দোকানপাট লুটতরাজ করার মতো ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

হিন্দু নিধন যজ্ঞের হোতাদের জামাই আপ্যায়ন ঢাকার ভারতীয় দূতের, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুক্তিযোদ্ধারা

জেলের গেটে প্রথমবার মৃত ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর মরদেহ ছুঁয়ে কাঁদলেন হাসিনার দলের ছাত্র নেতা

বাংলাদেশের নরসিংদীতে ফের হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে খুন

বাংলাদেশে কোনও হিন্দু সাংসদ হতে পারবেন না, ফরমান মুসলিম নেতার

‘ইউনুস একজন খুনি ফ্যাসিস্ট’, নির্বাসনের পর প্রথম জনসভায় শেখ হাসিনা

খালেদা পুত্র তারেককে ‘বসন্তের কোকিল’ বলে কটাক্ষ জামায়াতে আমীরের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ