চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ইউনূস জমানায় ‘মবের মুল্লুক’ বাংলাদেশ, ৬ মাসে গণপিটুনিতে নিহত ১২১ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানি ‘পোষ্যভৃত্য’ তথা ‘রাজাকার’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় ‘মবের মুল্লুক’ পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাধের সোনার বাংলা। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে গত ছয় মাসে তথাকথিত উত্তেজিত জনতার হাতে গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১২১ জন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রধান তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মতে, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা বলে যে কোনও কিছু আর অবশিষ্ট নেই, গণপিটুনিতে নিহতদের পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। সরকার নির্বিকল্প সমাধিতে থাকাতেই সাধারণ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখাতে পারছে।’ সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার জমানায় পান থেকে চুন খসলে রে-রে করে আসরে নামা পাকিস্তানি ও মার্কিন দালাল হিসাবে পরিচিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মাতব্বররা কোথায় গেলেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

সেনা বিদ্রোহের মুখে গত ৫ অগস্ট ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার পরিবর্তে ক্ষমতায় আসীন হয় পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের ‘পোষ্যভৃত্য’ তথা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার বাহিনীর শীর্ষ নেতা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতায় এসেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও জেল থেকে মুক্তি দেন। আর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই দেশজুড়ে দাপিয়ে বেড়াতে থাকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা। মূলত ইউনূস সরকারের আওয়ামী লীগ নিধন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেয়।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ করার অপরাধে নিরীহ নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে মারার কর্মযজ্ঞে নেমে পড়ে। শুধু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরা, পাশাপাশি ধর্ষণ-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কাজকর্মও চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসেই ৭২ ঘন্টায় কমপক্ষে ৬৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে দেশে। ধর্ষণ-ছিনতাইয়ের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গণপিটুনি বা মব লিঞ্চিং। আইন ও সালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা জমানায় ২০২০ সালে দেশে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন ৩৫ জন। পরের বছর অর্থা‍ৎ ২০২১ সালে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছিলেন ২৮ জন। পরের বছর ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৫১ জনের। আর ২০২৪ সালে ১৪৬ জনের। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন অর্থা‍ৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মারা গিয়েছিলেন ৩৮ জন। আর অগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মারা গিয়েছে ১০৮ জন।

আইন ও সালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় ‘মবের মুল্লুকে’ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। অগস্টে গণপিটুনিতে মারা গিয়েছেন ২০ জন। সেপ্টেম্বরে ২৪ জন, অক্টোবরে ২৩ জন, নভেম্বরে ১৪ জন, ডিসেম্বরে ১৭ জন এবং জানুয়ারিতে ২১ জন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে অর্থা‍ৎ গত ৫ অগস্টের পর ‘মব ভায়োলেন্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতার পরিমাণ এক লাফে অনেকটা বেড়েছে। ওই মব ভায়োলেন্স বন্ধ করতে ইউনূস সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বরং উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে উসকে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পদে থাকা বিভিন্ন জনকে সরাতে নানাভাবে ‘মবের’ সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই বেড়েছে মবকেন্দ্রিক হিংসা বা গণপিটুনি।

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ