এই মুহূর্তে

আদিবাসী কিশোরীর গণধর্ষণ ঘিরে ধুন্ধুমার চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঢাকা:সংখ্যালঘু কিশোরীর গণধর্ষণ ঘিরে ধুন্ধুমার চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির গুইমারায় গুলিতে তিনজনের প্রাণ গেল। নিহতদের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কাদের ছোড়া গুলিতে তারা নিহত হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষ। তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজন আহত হয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন মোঃ সাবের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, গুইমারা থেকে তিনজন পুরুষের মৃতদেহ জেলা হাসপাতালে(District Hospital) পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহ গুলি কে চিকিৎসকরা মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোমবার তাদের ময়না তদন্ত হবে। গুইমারা থেকে আরো আহত চার জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের সেখানে চিকিৎসা চলছে।

জানা গেছে ,পাহাড়ি একটি কিশোরীকে দলবদ্ধ ভাবে গণধর্ষণের প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে শনিবার ভোর পাঁচটা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এই অবরোধ কর্মসূচির দরুন চট্টগ্রাম – খাগড়াছড়ি খাগড়াছড়ি- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি(Khagrachari) এইসব এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রবিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা আটকে গাছের গুড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। জানা গেছে মঙ্গলবার রাত নটা নাগাদ বাংলাদেশের সময়সূচি অনুযায়ী প্রাইভেট টিউশন সেরে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। ঐদিন রাত এগারোটার সময় বাংলাদেশের(Bangladesh) সময়সূচী অনুযায়ী অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেতের ধার থেকে তাকে তার পরিবারের লোকজনরা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ তাকে ইতিমধ্যে আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে ছয়দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী অফিসাররা।

রবিবার এই ধর্ষণের প্রতিবাদে যখন বিক্ষোভ চলছিল সেই সময় একটি গুই মারার বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। বেশ কিছু বাড়িতে ও আগুন লেগে যায়। এই ঘটনাটি ঘটে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজারে। ওই বাজারটি চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি থেকে একশ গজ দূরে বাজারে আগুন দেওয়ার ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাজারের অধিকাংশ দোকানদার পাহাড়ি বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে। এই টহল দেওয়ার সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের মুখোমুখি হলে সেই সময় গুলি চলার শব্দ পাওয়া যায়। সেই গুলিতে ৬ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছিল সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা তাদের উপর অন্যায় ভাবে গুলি চালায়।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন এসেছো বাজারে বিভিন্ন দোকান ও বসত বাড়িতে লুটপাট করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কার মধ্যে বেশকিছু মুখোশ পরা লোকও ছিল। দোকানপাট বসতবাড়ির সঙ্গে অনেকগুলো মোটরসাইকেল আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়েই গুলি চলার ঘটনা ঘটে এমনটা দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানকার সংবাদ মাধ্যমে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শহরের মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী পিকেটিং করছে। বাজার ও বাজারের আশেপাশে কোন দোকানপাট খোলেনি। প্রয়োজনে যারা বাইরে বেরোচ্ছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

২০২৪ সালের ৪ অগস্টই শেখ হাসিনাকে খুনের ছক কষেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার

বর্ষবরণের আগে ইলিশ ছুঁলে লাগছে ছ্যাঁকা, কেজি ছাড়াল ৭,৫০০

গান-বাজনার উল্লাসের মাঝেই যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৫

তারেকের জমানায় মবের মুল্লুক, কুষ্টিয়ায় হামলা চালিয়ে পীরকে পিটিয়ে হত্যা মৌলবাদীদের

ভয় দেখিয়ে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, গ্রেফতার নরপিশাচ মাদ্রাসা শিক্ষক

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ