এই মুহূর্তে

আচমকা হাসপাতালে হাজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অর্ধেক চিকিৎসককে না দেখতে পেয়ে চটে লাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সরকারি অফিসে সময়মতো কর্মচারীরা পৌঁছান কি না এই প্রশ্নটা সাধারণ মানুষের মনে বহুদিনের! অনেক সময় দেখা যায়, অফিস খোলে ঠিকই, কিন্তু কর্মচারীদের দেখা মেলে একটু দেরিতেই। আর যদি হঠাৎ করেই কোনও মন্ত্রী সেখানে হাজির হন, তখন তো পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনই দুই জায়গায় আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে বেশ অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন দুই মন্ত্রী। 

ঘড়ির কাটায় তখন সকাল সাড়ে ৮ টা। ঠিক তখনই কাউকে না জানিয়েই নরসিংদীর পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। হাসপাতালে এসে প্রথমেই হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করেন তিনি । ডাক্তাররা সময়মতো কর্মস্থলে আসছেন কি না, সেটি যাচাই করতেই তিনি সরাসরি সবার অ্যাটেনডেন্স চেক করেন। সম্প্রতি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেরিতে আসা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এই পরিদর্শন।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের মহাযুদ্ধের প্রভাব পড়বে না পেট্রল ডিজেলে, নিশ্চিত করল কেন্দ্র

পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, হাসপাতালের মোট ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যেও দু’জন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের পরে হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন। তিনি জানান, পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিত না থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। আজকের পরিদর্শনে সেই অভিযোগের সত্যতা কিছুটা মিলেছে। দায়িত্বে থাকা ১৬ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মানবিক দায়িত্বের কাজ। সরকার চায় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। কিন্তু চিকিৎসকরাই যদি সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হন, তাহলে সেই লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার নগদ অর্থে রেবিস প্রতিরোধের টিকা সংগ্রহ করছে এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় সেই টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে রেবিস টিকার কোনও ঘাটতি থাকবে না বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং পলাশ থানার পরিদর্শক কুতুবুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, কয়েকদিন আগে আরেকটি ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমিসংস্কার কার্যালয়ে আচমকা পৌঁছে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিস খোলার কিছুক্ষণ পরেই তিনি সেখানে হাজির হন। কিন্তু গিয়ে দেখেন অফিসের দরজায় তালা ঝুলছে এবং কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা নেই। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছে তিনি প্রায় আধঘণ্টা অফিসের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করেন।এই সময় অফিসের কাজের জন্য আসা সাধারণ মানুষ মন্ত্রীকে সেখানে বসে থাকতে দেখে বেশ অবাক হন। কিছুক্ষণ পর একে একে কর্মচারীরা অফিসে আসতে শুরু করলে মন্ত্রীকে সামনে দেখে তারা বেশ হতভম্ব হয়ে পড়েন। সরকারি দফতরের এমন কর্মসংস্কৃতি দেখে ভূমি প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অফিসে দেরিতে আসার এই প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত্যার প্রতিবাদে ২৫ মার্চ ব্ল্যাক আউট পালন বাংলাদেশে

স্বামী-সন্তানের খোঁজে বাংলাদেশ গিয়ে ৮ মাস জেলে, অবশেষে বাড়ি ফিরলেন বনগাঁর মহিলা

ইউনূসের নিয়োগ করা চার রাষ্ট্রদূতকে গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়ালেন তারেক রহমান

জামায়াতের যৌন দাসীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নয়া সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

কুমিল্লায় মন্দিরে বোমা হামলা, পুরোহিত-সহ আহত তিন

‘চলেন যুদ্ধে যাই’, তারেক রহমানের আচমকা ঘোষণায় শোরগোল

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ