চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানেন কী বিদ্যাসুন্দর কালী বাড়ির হাড় হিম করা ঘটনা,কেন বন্ধ হয়েছিল নরবলি ?

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর কটা দিন। এরপরেই মর্ত্যে অশুভ শক্তির বিনাশ করতে আসছেন স্বয়ং আদ্যাশক্তি। দিকে দিকে শুরু হয়ে যাবে মা কালীর আরাধনা। দেবী কালি হলেন দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী।শাক্তমতে কালী হল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বলা হয় দেবী কালী হলেন স্বয়ং মহাদেবেরই ক্রোধের বহি:প্রকাশ। কালীপুজো এলে উঠে আসে বর্ধমান রাজবাড়ির কালী মন্দিরের পুজোর কথা। বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালী বাড়ির নাম শুনেছেন নিশ্চয়। এই কালী বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক মিষ্টি প্রেমের গল্প। সঙ্গে রয়েছে হাড় হিম করা অলৌকিক ঘটনাও। আগে এই মন্দিরে নরবলি হত। কিন্তু এক অলৌকিক কান্ড ঘটার পর পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি ।

বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমলের কথা। বর্ধমানের বেশিরভাগ এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ভর্তি। বিশেষ করে দামোদর তীরবর্তী তেজগঞ্জ এলাকায় ছিল আরও গভীর জঙ্গল। রাতের বেলা তো দূর, দিনের বেলায় গা ছমছমে পরিবেশ থাকত। কেউ সাহাস পেত না একা ঐ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার। সেখানে ছিল প্রাচীন কালী মন্দির। সেখানে পুজো দিতে আসতেন রাজা।লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে এই কালী মন্দিরে নরবলি দেওয়া হত। যারা অন্যায় অত্যাচার করত তাঁদের ধরে এনে মায়ের সামনে বলি দেওয়া হত। তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ শ্মশানকালী নামেও পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস ছিল এখানে অভিশপ্ত আত্মারাও ঘুরে বেড়ায়। তাই আর কেউ দিনের বেলাতেও সচরাচর ওই পথে যেতে সাহস করতেন না। একদিন ঘটল অঘটন!

নিমেষের মধ্যে এক প্রেমের ঘটনা বদলে দিল সবকিছু।এই মন্দিরের পূজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। রাজবাড়ি থেকে এই মন্দিরে পুজোর ফুল দিতে আসতেন মালিনী মাসি।একদিন মালিনী মাসি মন্দিরে ফুলের মালা নিয়ে এসেছেন। সেই মালা দেখে পূজারি সুন্দর মালীকে জিজ্ঞাসা করেন, এত সুন্দর ফুলের মালা কে গেঁথেছে ? যে মালা গেঁথেছে সেও নিশ্চয়ই এমনই সুন্দর! তাকে কী একবার দেখা যাবে ? উত্তরে মালী বলে ওঠেন, এটা সম্ভব নয়.. কেননা এই মালা গেঁথেছে স্বয়ং রাজকন্যা বিদ্যা। এই কথা শোনামাত্র পূজারি সুন্দরের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

একদিন লুকিয়ে সবার অন্তরালে গুপ্তপথ দিয়ে রাজকন্যাকে প্রথমবারের মত দেখলেন। তাঁর অপরূপ সৌন্দর্যে মূর্ছা যাবার জোগাড় সুন্দরের। এভাবে তাঁরা লুকিয়ে প্রেম করতে লাগলেন দুজনে। এই গুপ্তপথের কথা আর জানতে বেশি বাকি রইল না রাজার। রাজার কানে পৌঁছোতেই রেগে আগুন। রেগে গিয়ে রাজা নির্দেশ দেন রাজকন্যা বিদ্যা ও পূজারি সুন্দর দুজনকেই বলি দেওয়া হবে। দিনও স্থির হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : পুজোর আগে কেউ কালী প্রতিমা বাড়িতে রাখেন না! জানুন সারদা মা ও রঘু ডাকাতের কাহিনী

যেদিন বলি হবে সেদিন দুজনকে নিয়ে কাপালিক উপস্থিত হল মা কালীর মন্দিরে। এদিকে সুন্দর ও বিদ্যা তাঁরা শেষ আবেদনটুকু করে কাপালিককে। যেন তাঁদের যেন শেষবারের মত মাকে প্রণাম করতে দেওয়া হয়। কাপালিকও রাজি হন। এরপর তাঁরা দুজনে মাথা ঠেকিয়ে মা কালীকে মনে মনে ডাকতে থাকে। তখনই ঘটে এক অলৌকিক কান্ড। মেঘের ঘনঘটা তৈরি হয়। প্রচন্ড জোরে বিদুৎ এর শব্দ শোনা যায়। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারে চারিদিক ঢেকে যায়। বিদ্যা ও সুন্দর তাঁরা দুজনেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এদিকে কাপালিক এসব দেখে অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন সবকিছু স্বাভাবিক, কিন্তু সেখানে নেই বিদ্যা ও সুন্দর। তাঁদের খোঁজ কোথাও পাওয়া যায় নি। স্থানীয়দের বিশ্বাস মা কালী নিজের কাছে টেনে নিয়েছেন তাঁদের। তাই তাঁরা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। এরপর থেকে এই মন্দিরে রাজার আদেশেই বন্ধ হয়ে যায় নরবলি। 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ