সুতির শাড়ি থেকে গামছা, তাপপ্রবাহে স্বস্তির ভরসা হোক ভারতীয় পোশাক

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: তাপপ্রবাহের দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই ভরসা করেছেন ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের দিকে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুতির শাড়ি, খাদি, মুলমুল কিংবা গামছার মতো প্রাকৃতিক তন্তুর কাপড় শুধু আরামদায়কই নয়, প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সমান কার্যকর। জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই দেশীয় বস্ত্রগুলি এখন আবারও গ্রীষ্মকালীন ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতীয় উপমহাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বস্ত্রগুলির ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত আধুনিক সিন্থেটিক কাপড়ের তুলনায় সুতি, খাদি বা হ্যান্ডলুমের মতো প্রাকৃতিক তন্তু গরমে অনেক বেশি আরামদায়ক। এগুলি সহজে বাতাস চলাচল করতে দেয় এবং শরীরের ঘাম দ্রুত শোষণ করে, ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় শীতল থাকে।

ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় মানুষ এখন পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্য নয়, আরাম এবং ব্যবহারিক দিককেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে বাংলার তাঁতের শাড়ি, দক্ষিণ ভারতের কটন শাড়ি এবং বিভিন্ন রাজ্যের হ্যান্ডলুম পোশাক গ্রীষ্মের ফ্যাশনে নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ব্রিটিশরা ১৬০৮ সালে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যখন প্রথম ভারতে আসে এবং অত্যন্ত  মশলা, বস্ত্র ও নীল উপাদানের সন্ধান করে। ভারতীয় সুতি, বিশেষ করে বাঙালি মসলিন, কালিকটের (বর্তমানে কোঝিকোড়) ক্যালিকো এবং ছাপা চিন্টজ তাদের মুগ্ধ করেছিল। ভারী ও খসখসে ইউরোপীয় পোশাকের তুলনায় এই সূক্ষ্ম ও আরামদায়ক বস্ত্রটি বিলাসবহুল বলে মনে হয়েছিল। ষোড়শ শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশ ক্রেতারা শুধু উৎকৃষ্ট মানের ভারতীয় পোশাকই কিনছিলেন না, বরং এই বস্ত্রগুলোর প্রতি তারা এতটাই মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমদানি করা দেশীয় পশম ও লিনেন শিল্পে অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল। সুতির শাড়ি, গামছা, শারারা এবং ঢিলেঢালা সালোয়ার স্যুট সহ ভারতীয়  পোশাক কেবল ঐতিহ্যবাহী পরিধেয়ই ছিল না, বরং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় তাপ সহ্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। রেয়ন, ভিসকস, মিশ্র সুতি, পলিয়েস্টার এবং অন্যান্য কৃত্রিম ও আধা কৃত্রিম বুনন আধুনিকতার সমার্থক হয়ে ওঠার অনেক আগে থেকেই এগুলি কার্যত আবহাওয়া প্রতিরোধী ছিল।

একসময় দৈনন্দিন ব্যবহারের এই সাধারণ কাপড় হিসেবে পরিচিত গামছাও এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। বিভিন্ন ডিজাইনার গামছার নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কার্ফ, স্টোল, কুর্তা এবং অন্যান্য পোশাক তৈরি করছেন।এছাড়াও পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে খাদি, মুলমুল এবং অন্যান্য হ্যান্ডলুম বস্ত্রের জনপ্রিয়তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলি যেমন টেকসই, তেমনই স্থানীয় কারিগর ও তাঁত শিল্পকেও সমর্থন করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গ্রীষ্মকালে হালকা রঙের ঢিলেঢালা কটন বা খাদির পোশাক বেছে নেওয়া উচিত। এতে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং তাপজনিত অস্বস্তিও কম হয়।প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে তাই আধুনিক ফ্যাশনের মাঝেও সুতির শাড়ি, খাদির কুর্তা কিংবা একটি সাধারণ গামছা আবারও প্রমাণ করছে যে আরামদায়ক ফ্যাশন অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ঐতিহ্যের মধ্যেই।

স্বাদে ও গন্ধে অনন্য, বিশ্বের সবচেয়ে মিষ্টি আম কোনটি জানেন?

সাবধান! এই ভুলগুলির জন্য আপনার কুলদেবতা রুষ্ট হচ্ছে না তো?

আপনার বাড়িতে কি প্রায়ই আগুন লাগে? অগ্নিকোণে ভারসাম্য বজায় রাখলেই সমস্যার সমাধান

শনি থেকে শুরু হচ্ছে ‘মৃত্যু পঞ্চক’, ভুলেও এই ৫ টি কাজ করবেন না

জুন মাসেের শেষে কোন ৪ রাশির জাতকদের জীবনে সৌভাগ্য আসছে, জেনে নিনি

আজকের রাশিফলঃ শনির কুদৃষ্টি, রাস্তায় গাড়ি আস্তে চালান, পরিবারে খুশির খবর আসতে পারে…

শেষ রক্ষা হল না, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মা-বাবার সমাধিস্থলে চারা রোপণ করলেন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো

বিদ্রোহীদের কাছে মাথা নোয়ালেন না মমতা, ফের স্বপদে বহাল অভিষেক

বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল

দিল্লিকে চাপে রাখতে এবার ‘ভারত-শত্রু’ তুরস্কের সঙ্গে সামরিক চুক্তি তারেকের

সুতির শাড়ি থেকে গামছা, তাপপ্রবাহে স্বস্তির ভরসা হোক ভারতীয় পোশাক

অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩০০০ টাকা পেয়ে হতবাক গ্রামীণ চিকিৎসক

তৃণমূলের ডামাডোলে পোয়াবারো কংগ্রেসের, মেখলিগঞ্জ পুরসভার দখল নিল