জানেন কি অনাবসরে মহাপ্রভু আলারনাথ রূপে দর্শন দেন এই প্রাচীন মন্দিরে

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় :          গোপী-ভাবে বিরহে প্রভু ব্যাকুল হইয়া

                                                অলরনাথে গেল প্রভু সবারে ছাড়িয়া।

                                                                      – শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত

আগামী ১১ জুন মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের স্নানযাত্রা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্নানযাত্রার দিনে ১০৮ কলসি জলে স্নান করার পরেই জ্বর চলে আসবে মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ, শ্রী বলরাম ও দেবী সুভদ্রার। তার পরেই শুরু হবে তাঁদের অনাবসর। এই সময় না শ্রীমন্দির খোলা থাকে, না চলে দীনবন্ধুকে দর্শন। তাই অগণিত ভক্তপ্রাণরা অপেক্ষায় থাকেন রথযাত্রার। কারণ, দীর্ঘ ১৫ দিন পর ভক্তরা তাদের মহাপ্রভুর মহাদর্শন পাবেন। বলা বাঞ্ছনীয়, তখন ভগবানকে দেখতে মন্দিরে যেতে হয় না, বরং স্বয়ং কালের কর্তাই তাঁর দাদা বোনকে সঙ্গে নিয়ে ৮ দিন ধরে উঁচুনিচ নির্বিশেষে ভক্তদের দর্শন দিতে চলে আসেন মন্দিরের বাইরে।

তবে জানেন কী ? পুরুষোত্তম ধাম থেকে মাত্র প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরেই এমন এক মন্দির বর্তমান, যেখানে জগদীশ্বর শ্রী জগন্নাথ অনাবসরে  নির্জনে বিশ্রামে থাকাকালীন অবস্থান করেন । ওড়িশার ব্রহ্মগিরি অঞ্চলে অবস্থিত শ্রী আলারনাথ মন্দির ভগবান বিষ্ণুর এক গুরুত্বপূর্ণ এবং আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস— অনাবসরকালে তিনি শ্রী আলারনাথ রূপে ব্রহ্মগিরিতে অবস্থান করেন, ফলে এই বিশেষ সময়ে এই মন্দিরে বিপুল ভক্তসমাগম হয়ে থাকে।

ভগবান আলারনাথ ও তাঁর রূপ

ভগবান আলারনাথ হলেন শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্মধারী চতুর্ভুজ বিষ্ণুর রূপ। তবে এই মূর্তির একটি বিশেষ দিক হল, তিনি ডান হাতটি অভয় মুদ্রায় ধারণ করেন—যা ভক্তকে নির্ভয়তা ও আশ্বাস প্রদান করে। সাধারণত অভয় মুদ্রা কালী মূর্তিতে মধ্যে দেখা গেলেও এটি বিষ্ণুর প্রাচীন রূপ আলারনাথেও দেখা যায়। এছাড়া তাঁর পাশে অবস্থান করেন শ্রীদেবী ও ভূদেবী। মন্দিরে একটি গরুড় মূর্তিও রয়েছে— যিনি হাঁটু গেড়ে প্রার্থনারত অবস্থায় বসে আছেন।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও আলারনাথ

কথিত আছে, এই মন্দিরটি বৈষ্ণব ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের অনাবসরের সময় এখানে থাকতেন। তিনি তাঁর প্রিয় ভগবান জগন্নাথকে দর্শন না পেয়ে গভীর বিচ্ছেদে আক্রান্ত হয়ে এই মন্দিরে প্রচণ্ড আধ্যাত্মিক আবেগে ডুবে যেতেন। কথিত আছে, তিনি যখন প্রথম ভগবান আলারনাথের সামনে প্রণাম করেন, তখন তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাসে পাথর গলে যায় এবং তাঁর দেহের ছাপ সেখানে অঙ্কিত হয়। সেই ছাপ আজও মন্দিরের প্রাঙ্গণে দর্শনীয়। মন্দিরের ভিতরে এক বিশেষ মূর্তি রয়েছে যা “সদ্ভুজ” নামে পরিচিত — এই মূর্তিতে একত্রে কৃষ্ণ, রামচন্দ্র ও চৈতন্য মহাপ্রভুর ছয়টি হাত দৃশ্যমান। এটি চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐক্যবদ্ধ রূপের প্রতীক, যা বৈষ্ণব দর্শনের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।

মন্দিরের স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জনশ্রুতি মতে, আনুমানিক ১১২৮ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা মদন মহাদেব। এর স্থাপত্যে প্রাচীন ওড়িশি ধাঁচের প্রভাব লক্ষণীয়, যেখানে পাথরের কারুকাজে নানা দেবদেবীর মূর্তি, অলঙ্করণ এবং প্রতীক সমৃদ্ধ রচনা দেখা যায়। মূল গর্ভগৃহে আলারনাথ দেবের বিগ্রহ ছাড়াও, রয়েছে রুক্মিণী ও সত্যভামার ছোট ছোট মূর্তি। মূল কক্ষে যাওয়ার আগে এক প্রবেশকক্ষে ভগবান ব্রহ্মা ও শিবের প্রতিকৃতি ছাদে স্থাপিত আছে, যা হিন্দু ধর্মে ত্রিমূর্তির ঐক্য বোঝায়।

অনাবসর ও পায়েস ভোগ

আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের স্নানযাত্রার পরে শুরু হয় ভগবান জগন্নাথের অনাবসর — এই সময়ে ভক্তরা তাঁকে দর্শন করতে না পারায় আলারনাথ মন্দিরে আসেন এবং মহাপ্রভুর বিশেষ ভোগ গ্রহণ করেন।  জানা যায়, ভগবানকে দেওয়া ক্ষীর বা পায়েস ভোগ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি বিভিন্ন ভাত, ডাল, তরকারি, পিঠা, খিচুড়ি ও কলাভাজার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৬টায় মন্দির খোলে এবং রাত ৯:৩০ টায় বন্ধ হয়।

যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান

পুরী থেকে আলারনাথ মন্দিরে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি বা বাসে করে পৌঁছনো যায় । রাস্তা পিচঢালা ও সমতল, মাঝে মাঝে কিছু আঁকাবাঁকা মোড় দিয়ে যেতে হয়। যাত্রাপথে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, নারকেল ও তালবন দেখা যায়, যা সেই যাত্রাপথকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।

নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, শ্রী আলারনাথ মন্দির কেবল একটি পূজাস্থান নয় — এটি হিন্দু ধর্মবিশ্বাস, বৈষ্ণব দর্শন ও চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভগবান জগন্নাথের অনুপস্থিতিতে এই মন্দির ভক্তদের কাছে আশ্রয়, বিশ্বাস এবং ঈশ্বর দর্শনের এক অনন্য স্থান হয়ে ওঠে। যারা পুরীতে দর্শনে যান, তাঁদের জন্য আলারনাথ মন্দির এক অতি আবশ্যক গন্তব্য।

দিনদুপুরে শিক্ষিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপের পর বিষ খেল অভিযুক্ত, চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

ঈশানকে পিছনে ফেলে ICC-এর ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করলেন অভিষেক

মন্ত্রিত্ব বেঁচে গেল হরদীপ পুরীর, মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে লড়ছেন

১০ বছরের নাবালিকাকে ঘরে আটকে রেখে যৌন হেনস্থা! গ্রেফতার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ

দিঘায় ঢোকার মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, কী কারণে বিপত্তি?

সংস্কার শেষে মা ফিরেছেন গর্ভগৃহে! এবার তারাপীঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণে নয়া উদ্যোগ

উ‍ৎসবের মরশুমে অতিথিদের চমকে দিতে বানিয়ে ফেলুন বিটের জিলিপি

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে অপসারিত হলেন কোচির পুলিশ কমিশনার

‘আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভাল’ বয়স মনে করিয়ে মমতাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ শুভেন্দুর

আত্মঘাতী তিনবারের প্যারা এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী নীরজ, কী এমন ঘটেছিল?

সুদানে বাজারের মধ্যে আচমকা ড্রোন হামলায় মৃত শতাধিক, বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা

কোচিং ক্লাসে ১৩ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেফতার ২১ বছরের শিক্ষক

‘ঠান্ডা নয়, গরম জল খেয়ো!’ নিউজিল্যান্ডে বৈভবকে মায়ের মতো স্নেহের পরামর্শ, ভাইরাল মিষ্টি মুহূর্ত

নভেম্বরের শুরুতেই বন্ধ নৈহাটির বড়মার মন্দির, কত দিন মিলবে না দর্শন?