গয়াক্ষেত্রে পতিত হয়েছিল দেবীর স্তন, জেনে নিন মঙ্গলা গৌরীর অজানা কাহিনী

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বিহারের গয়া শহরের এক নিরিবিলি, শান্তিপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত মঙ্গলা গৌরী মন্দির হিন্দুধর্মের এক মহাপবিত্র তীর্থস্থান। এটি অষ্টাদশ মহাশক্তিপীঠের একটি এবং ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম, যেখানে দেবী সতীর দেহের একটি অংশ পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এই মন্দিরটি দেবী মঙ্গলা গৌরীকে উৎসর্গীকৃত। যিনি কল্যাণ, পুষ্টি ও দানশীলতার দেবী হিসেবে পূজিত হন। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে আসলে মা তাঁদের ইচ্ছা পূরণ করেন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দেন।

ইতিহাস ও পৌরাণিক পটভূমি:

মঙ্গলা গৌরী মন্দিরটির ইতিহাস গভীরভাবে পৌরাণিক ও তান্ত্রিক সাহিত্যে প্রোথিত। পদ্ম পুরাণ, বায়ু পুরাণ, অগ্নি পুরাণ, দেবী ভাগবত পুরাণ এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে এই মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া আদ্যাস্তোত্রে এই পীঠের উল্লেখ করে বলা হয়েছে “গয়াক্ষেত্রে গয়েশ্বরী”। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সতীর পিতৃগৃহে দক্ষ যজ্ঞে অত্যন্ত অপমানিত হয়ে দেবী সতী আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। ফলে ভীষণ ক্রোধে ফেটে পড়েন ভগবান শিব এবং সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাঁর তাণ্ডব নৃত্যের সময় বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডিত করেছিলেন, যাতে ব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হওয়া থেকে বিরত থাকে। সেই দেহাংশগুলি যেসব স্থানে পড়েছিল, সেগুলিই শক্তিপীঠ হিসেবে আখ্যা পায় । জানা যায়, গয়ার এই স্থানটি সতীর স্তন পতনের স্থান হিসেবে পরিচিত, যা পুষ্টির প্রতীক।

মন্দিরের স্থাপত্য ও কাঠামো:

বিভিন্ন সূত্রানুসারে জানা যায়, বর্তমান মন্দিরটি ১৫ শতকে নির্মিত। এটি পূর্বমুখী এবং গয়ার মঙ্গলা গৌরী পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। মন্দিরে পৌঁছাতে একটি পাথরের সিঁড়ি ও মোটরচালিত রাস্তা রয়েছে। গর্ভগৃহে দেবীর প্রতীক রূপে প্রতিস্থাপিত হয়েছে স্তনের চিহ্ন, যাকে কেন্দ্র করেই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের সামনে একটি ছোট মণ্ডপ আছে এবং উঠানে রয়েছে একটি অগ্নিকুণ্ড, যা যজ্ঞ ও তান্ত্রিক কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

গর্ভগৃহে দেবীর মূর্তিটি চতুর্ভুজা, তিনি সিংহে উপবিষ্ট। তাঁর হাতে ত্রিশূল, জপমালা, কমণ্ডলু এবং অভয় মুদ্রা রয়েছে। এই মূর্তি শক্তির, আশীর্বাদের ও ধার্মিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। মন্দির চত্বরে রয়েছে আরও কয়েকটি ছোট মন্দির—যেমন শিব, গণেশ, হনুমান, মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা এবং দক্ষিণা কালীর মূর্তি।

ধর্মীয় তাৎপর্য ও পূজা পদ্ধতি:

মঙ্গলা গৌরীকে কল্যাণের দেবী হিসেবে পূজা করা হয়। তিনি বিবাহিত জীবনে সুখ, সন্তান প্রাপ্তি এবং সংসারে শান্তির জন্য বিশেষভাবে পূজিত হন। এখানে প্রতি বর্ষাকালে, বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের প্রতি মঙ্গলবার, বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা “মঙ্গল গৌরী ব্রত” নামে পরিচিত। এই দিনে বিবাহিতা নারীরা উপবাস থেকে দেবীর পূজা করে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সংসারের কল্যাণ কামনা করেন। দেবীর ভৈরব রূপে এখানে পূজিত হন গদাধর। ভৈরব শক্তিপীঠে দেবীর রক্ষাকর্তা রূপে বিরাজ করেন। মঙ্গলা গৌরীর সঙ্গে গদাধর ভৈরবের উপস্থিতি এই স্থানকে আরও শক্তিশালী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র করে তোলে।

সময়ের তথ্য ও দর্শন ব্যবস্থা:

মন্দিরটি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। মন্দির কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ পূজার ব্যবস্থা করে থাকে, এবং অনেক সময় তীর্থযাত্রীরাও এখানে যজ্ঞ বা পুণ্যকর্ম করেন।

মঙ্গলাগৌরী শক্তিপীঠের গুরুত্ব:

এই মন্দির শুধু শক্তিপীঠ হিসেবে নয়, বরং গয়ার একটি বৈষ্ণবপ্রধান অঞ্চলেও শক্তির দেবীর উপস্থিতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। গয়া মূলত বিষ্ণুপদ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত, তবুও এখানে মঙ্গলা গৌরী শক্তিপীঠ হিন্দু ধর্মের শাক্ত দর্শনের এক অমূল্য নিদর্শন। এটি দেখায়, হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন উপাসনাপদ্ধতি কীভাবে একই ভূখণ্ডে সহাবস্থান করে এবং ভক্তদের জন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার এক পূর্ণাঙ্গ ক্ষেত্র তৈরি করে।

নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, মঙ্গলা গৌরী মন্দির কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি নারীশক্তির পুষ্টি, কল্যাণ, আশীর্বাদ ও দানশীলতার এক প্রতীক। যারা তাঁদের জীবনে পূর্ণতা, মানসিক শান্তি ও সংসারে সুখ চান, তাঁদের কাছে এই শক্তিপীঠ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। গয়া শহরের প্রাচীনতা ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে এই মন্দির এক উজ্জ্বল দীপ্তি, যা যুগের পর যুগ ধরে ভক্তদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। প্রতি বছর নবরাত্রির সময় এই শক্তিপীঠে অগণিত ভক্তের ভিড় হয়।  ভক্তদের বিশ্বাস, এই শক্তিপীঠে গিয়ে দেবীর কাছে নিজের মনোস্কামনা জানালে দেবী সেই ইচ্ছা পূরণ করেন।

দুর্নীতির কাদা লেগেছিল গায়ে, মৃত্যুর দু’বছর বাদে ক্লিনচিট পেলেন মনমোহন সিংহ

গুরুপূর্ণিমায় বেলুড় মঠে শুভেন্দু অধিকারী, মহারাজের পা ছুঁয়ে প্রণাম মুখ্যমন্ত্রীর

‘এক ভারত, অনেক পরম্পরা’, মহাকাল মন্দিরের প্রসাদে ঠাঁই হল ইডলি-সম্বরের

৬৮ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি, সোহমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ ব্যবসায়ীর

বর্ষার সন্ধ্যায় জমে উঠুক আড্ডা, বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে মোচার চপ

বিমানবন্দরে আমির-গৌরীর ছবি তুলতেই ভয়ে শিউরে উঠল নায়কের সৎ-ছেলে, কী এমন ঘটল?

পুলিশের ভয়ে চুরির গয়না ও নগট টাকা ফিরিয়ে দিল চোরেরা! তাজ্জব কাণ্ড নদিয়ায়

একই পরোটার মধ্যে পাবেন চার রকমের স্বাদ, কীভাবে বানাবেন জেনে নিন

ভারত-চিনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার

দক্ষিণবঙ্গে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

মাথার দাম ছিল ১ কোটি! ধানবাদ থেকে গ্রেফতার পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির বেসরা

অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করতে চিন থেকে অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনছে ইরান

স্বাদ ও স্বাস্থ্যের পারফেক্ট কম্বিনেশন, বানিয়ে ফেলুন তেল ছাড়া লেমন সয়াবিন

‘শুনানি’ চলাকালীন আর শোনা যাবে না কোনও অডিও, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের