আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিয়ের ১১ দিন আগে হয়ে গিয়েছিল খুনের পরিকল্পনা, ৩ বার ব্যর্থ হয়েও শেষে সফল

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলং: রাজা রঘুবংশী হত্যামামলার যাবতীয় রহস্য উন্মোচন করল শিলং পুলিশ। প্রথম দিনেই পুলিশি হেফাজতে থাকা সোনম রঘুবংশী, রাজ কুশওয়াহ সহ পাঁচ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিলংয়ের এসপি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এসপি বিবেক বলেন যে রাজা হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হল রাজ কুশওয়াহা। সোনম তার সঙ্গ দিয়েছিল। ফলে এই হত্যার সমান অংশীদার সেও। সকল অভিযুক্ত নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

রাজা-সোনমের বিয়ের ১১ দিন আগে রাজকে খুনের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। অভিযুক্ত তিন যুবকই রাজের বন্ধু। একজন তো আবার খুড়তুতো ভাই। বন্ধুর কথা রাখতেই রাজাকে খুনের সিদ্ধান্তে মত দেয় ওই তিন যুবক। ফেব্রুয়ারিতে সোনম এবং রাজ পরিকল্পনা করে যে সোনম হঠাৎ নিখোঁজ হবে। তারপর এমন কিছু প্রমাণ দেখানো হবে যাতে মনে হয় সোনম নদীতে ভেসে গিয়েছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনা করা হয়, কোনও যুবতীকে খুন করে সোনমের স্কুটিতে বসিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে মনে হয় সোনমকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনওটাই সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যেই রাজা ও সোনমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তারা কামাখ্যা বেড়াতে যায়। ১৯ মে তিন অভিযুক্তও  আসে। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল গুয়াহাটিতেই রাজাকে হত্যা করা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তখন সোনম সোহরায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে। অভিযুক্ত তিন যুবকও সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় করে। এরপর রাজা যখন ওয়াসেদংয়ের পার্কিং লটে টয়লেটে যান তখন হত্যাকারীরা তাঁকে হত্যা করে। সোনমও সেই সময় উপস্থিত ছিল। অভিযুক্তরা মৃতদেহটি পার্শ্ববর্তী খাদে ফেলে দেয়। এই সব ঘটে দুপুর ২:১৮’র মধ্যে। এরপর সোনম ও তিন হত্যাকারী খুনের স্থান ছেড়ে চলে যায়। সোনম তার রেইনকোট আকাশ নামে এক হত্যাকারীকে দেয়। কারণ তার শার্টে রক্ত লেগেছিল।

এরপর হত্যাকারীরা সোনমকে নিয়ে ওয়াসেদং থেকে চলে যায়। মাঝপথে স্কুটি থামিয়ে আকাশ রেইনকোটটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর সোনম বোরখা পরে গুয়াহাটিতে আসে। আইএসবিটি থেকে শিলিগুড়ির বাসে উঠে বসে। শিলিগুড়ি পৌঁছে সেখান থেকে আবার বাসে পটনা পৌঁছায়। পটনা থেকে ফের বাসে আরা এসে ট্রেন ধরে লখনউ যায়। এরপর সোনম লখনউ থেকে বাসে ইন্দোর যায়। সেখানে ২৬ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ছিল সে।

এদিকে মেঘালয়ে গিয়ে ইন্দোরের নবদম্পতি নিখোঁজ- এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ কুশওয়াহ সোনমকে বলে ইন্দোর ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা। বরং সে ফিরে যাক শিলিগুড়িতে। সেখান থেকে ফোন করে জানাক যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর ৮ জুন সোনম ইন্দোর ছেড়ে শিলিগুড়ি চলে যায়। তখন পুলিশের দুটি দল উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে ছিল। সেই সময় কোনওভাবে রাজ জানতে পারে যে কেউ উত্তরপ্রদেশ থেকে তার এক বন্ধুকে পুলিশ আটক করেছে। তখন রাজ সোনমকে বলে, সোনম যেখানেই থাকুক না কেন পরিবারকে ফোন করে জানাক যে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। সে কোনওভাবে পালিয়ে গাজিপুরে এসেছে। এইভাবেই গাজিপুরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড কোনও কনট্রাক্ট কিলিং নয়। রাজ এই হত্যাকাণ্ডে খরচের জন্য ৫৯ হাজার টাকা দিয়েছিল। তিনটি স্থানে রাজাকে হত্যা করতে বিফল হয়ে অভিযুক্তরা চতুর্থ স্থানে সফল হয়। পারিবারিক চাপে বিয়ে করেছিল সোনম। তার প্রেমঘটিত বিষয় সম্পর্কে বাড়ির লোক অবহিত ছিল কিনা তা এখনও জানা যায়নি। ২ জুন যখন রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয় তখন সোনম ইন্দোরে ছিল।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

রানওয়ে নয়, এবার জলেই ল্যান্ডিং! ভারতে শুরু হতে চলেছে প্রথম বাণিজ্যিক সি-প্লেন পরিষেবা

সতর্ক হোন, ১ মে থেকে বদলে যাচ্ছে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়ম

বৈষ্ণোদেবীকে দর্শন করে ফেরার পথে গাড়িতে আগুন, পুড়ে ছাই ৫ জন

লক্ষ ফলোয়ার্স থাকা ইনফ্লুয়েন্সার স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী, হাড়হিম ঘটনা

তামিলনাডুতে ফের বাজিমাত স্ট্যালিনের, দাগ কেটেছেন বিজয়-ও, বলছে বুথফেরত সমীক্ষা

ঈশ্বরের আপন দেশে পালাবদল, সিপিএমকে হটিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ