দীর্ঘ অসুস্থতার পর এই অনুষ্ঠানে নবযৌবন লাভ করেন মহাপ্রভু জগন্নাথ

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রতি বছর লীলা পুরুষোত্তম মহাপ্রভু জগন্নাথ স্নানযাত্রার পরেই দাদা বলরাম ও ছোট বোন সুভদ্রা সমেত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় ১৫ দিনের জন্য তাঁদের সেবা শুশ্রূষা চলে। বলা বাহুল্য যে, এই বিশেষ সময় তাঁরা কোনও বিগ্রহ থাকেন না, বরং হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষের মত। এই অনবসর কালে তাঁদের জ্বর কমানোর জন্য শুধু আয়ুর্বেদিক পাচন বা বক্কাল সেবন নয়, গায়ের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে মাখানো হয় বিশেষ তেলও। তবে জানা যায়, চিরাচরিত প্রথা অনুসারে শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পূর্বে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান হল নেত্রোৎসব (Netrotsava) বা নয়নকল। এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয় অমাবস্যার দিন, অর্থাৎ রথযাত্রার ঠিক আগের দিন। এই দিনটিকে শ্রীজগন্নাথের জাগরণ বা নবজন্ম হিসেবেও ধরা হয়।

 নেত্রোৎসবের তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত অর্থ

‘নেত্রোৎসব’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘নেত্র’ (চোখ) এবং ‘উৎসব’ (উৎসব বা উৎসারণ) শব্দদ্বয়ের সংমিশ্রণে। এই উৎসবের মূল ভাবনা হল—অনবসর বা অসুস্থতা পর্ব শেষে শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা নতুন জীবন লাভ করেন এবং তাঁদের চোখ পুনরায় আঁকা হয়, যেন তাঁরা নতুনভাবে জগৎ দর্শনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা অনুসারে, নেত্রোৎসব হল প্রভুর চেতনার পুনরুত্থান। এটি যেমন বিগ্রহের পুনঃপ্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রতীক, তেমনি ভক্তদের মনেও এক নবচেতনার সঞ্চার করে।

 নয়ন বা চোখ আঁকার প্রথা – ‘নয়নকল’

নেত্রোৎসবের দিন বিগ্রহের গোলাকার নয়নগুলি প্রাকৃতিক রং দিয়ে নতুন করে আঁকা হয়। এই প্রক্রিয়াকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘নয়নকল’। এই রংগুলিতে কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না। মূলত চন্দন, কাঁচা লাল/সাদা গুঁড়ো রঙ, কেশর প্রভৃতি থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরি হয়। এ সময়ে নির্দিষ্ট সেবকগণ, বিশেষত ‘দত্ত মহাপাত্র’ পরিবার, এই নয়ন আঁকার গুরুদায়িত্ব পালন করেন। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং নিষ্ঠার কাজ, যা বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।

 ভক্তদের দৃষ্টিতে নেত্রোৎসব

অনবসর পর্বের প্রায় ১৫ দিন প্রভু দর্শন বন্ধ থাকে। সেই দীর্ঘ বিরতির পর নেত্রোৎসবের দিন প্রভুর নয়ন দর্শন ভক্তদের কাছে এক অতুলনীয় অনুভূতি। ভক্তদের মতে, এই দিন প্রভু চোখ মেলে ভক্তদের দিকে চেয়ে থাকেন, যেন তিনি আবারও তাঁদের কল্যাণের জন্য প্রস্তুত। এই উৎসব শুধু একটি আচার নয়, বরং ভক্ত ও ভগবানের অটুট সম্পর্কের এক গভীর অনুভব। অনেক ভক্ত এই দিন বিশেষ ব্রত পালন করেন এবং মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে নেত্রোৎসবের আচার প্রত্যক্ষ করেন।

 নবযৌবন বেশ – প্রতিপদে জগন্নাথের নবরূপ

নেত্রোৎসবের পরদিন অর্থাৎ আষাঢ় মাসের শুক্লা প্রতিপদে অনুষ্ঠিত হয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, যার নাম নবযৌবন বেশ। এই দিনে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা নতুন রং, নতুন বস্ত্র ও অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে নবীন কিশোর রূপে প্রকাশিত হন। এই সাজকে বলা হয় ‘নবযৌবন বেশ’, যার অর্থ হল নবীন যৌবনের প্রকাশ। প্রভুর এই রূপ দর্শন করা ভক্তদের জন্য বিশেষ পুণ্যফলদায়ক বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি প্রভুর আরোগ্য লাভ ও রথযাত্রার প্রস্তুতির প্রকাশ। এই দিন থেকেই মূলত রথযাত্রার চেতনা ও উৎসব শুরু হয়।

 আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

নেত্রোৎসব কেবল একটি প্রতীকী নয়ন আঁকার রীতি নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও মানবিক রূপান্তরের প্রতীক। যেমন প্রভু অসুস্থতা থেকে মুক্ত হয়ে আবার নবচেতনায় দুনিয়া দেখেন, তেমনই মানুষও এই উপলক্ষে নিজের চিন্তাধারায় নতুন আলো পায়।

ভক্তরা বিশ্বাস করেন—এই দিনে প্রভুর নয়ন নতুন করে আঁকার মধ্য দিয়ে ভগবান তাঁদের প্রতি নতুন করে দৃষ্টি দেন। এই দৃষ্টি আশীর্বাদের রূপে বিবেচিত হয়, যা জীবনে নতুন শক্তি, দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্যম প্রদান করে।

নেত্রোৎসব এক অনন্য ও অনুভবনীয় আচার যা শুধু জগন্নাথ ভক্তদের নয়, সমগ্র ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিগ্রহকে জীবন্ত ও মানবীয় করে তোলা হয়, তেমনি অন্যদিকে অগণিত ভক্তরাও নিজেকে প্রভুর সঙ্গে যুক্ত করে আত্মশুদ্ধি, চেতনার উন্মেষ ও নবজীবনের প্রেরণা লাভ করে।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, নেত্রোৎসব হল শুধুমাত্র চোখ আঁকার অনুষ্ঠান নয়, এটি হল ভক্ত ও ভগবানের এক মহাসংযোগের দিন, যেখানে চক্ষু শুধু দর্শনের নয়, চেতনার দ্বারও হয়ে ওঠে।

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে মর্মান্তিক পরিণতি, ট্রলারের কেবিনে রহস্যজনক মৃত্যু মৎস্যজীবীর

মঙ্গলে বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শুভেন্দুর, একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা

টুলু-কাণ্ডে নয়া মোড়! রাতভোর তল্লাশিতে উদ্ধার একাধিক নথি, গ্রেফতার ৩

সাতসকালেই ব্লু লাইনে সিগন্যালিং ত্রুটি, সমস্যায় নিত্যযাত্রীরা

২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ধাক্কা! বিপুল ক্ষতির মুখে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’

মঙ্গলে ফের ভবানী ভবনে হাজিরা অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের

তারেক রহমানের মাসতুতো দাদার কোটি টাকা ছিনতাই করে চম্পট দুষ্কৃতীদের

মার্কিন স্বামীর শেষ ইচ্ছে পূরণে উত্তরাখণ্ডে হাজির জাপানি পত্নী, সঙ্গে যা নিয়ে এলেন..

বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের ইঙ্গিত, মঙ্গলবার কলকাতা-সহ কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস?

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ

‘তোমাদের খতম করে দেব’, সৌরভ -ডোনাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি

গ্রামে গ্রামে এবার পৌঁছবে ইন্টারনেট, ৩ বছরের মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবারে জুড়বে বাংলা

ভূমিকম্পের তাণ্ডবে তছনছ কলম্বিয়া! ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে নিখোঁজ ২,০০০-এর বেশি

ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের মিলনক্ষেত্র, ঘুরে আসুন বর্ধমানেশ্বর শিবমন্দির