এই মুহূর্তে




দেবীর সঙ্গে পুজো হয় অস্ত্রেরও ! রায় বাড়িতে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পর শুরু হয় পুজো

নিজস্ব প্রতিনিধি : আর মাত্র কিছু সময়। এর পরেই উৎসবের আনন্দে মেতে উঠবে বাঙালি। প্রাণের দুর্গাপুজো বলে কথা। উমাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ, কোথাও বা প্রতিমা সাজাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। আর প্রত্যেক বছরের মত এবারেও মায়ের আগমনীতে মেতে উঠেছে মালদহের রায় বাড়ি। রায় বাড়ির পুজো ২২৪ বছরে পা দিল।

আরও পড়ুন : ‘বেড়ার উপর হাতের ছাপ’, লাল দুর্গা প্রসন্ন হয়ে বিরাজমান পাচঁগাঁও মণ্ডপে

আজ থেকে প্রায় ২২৪ বছর আগে শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। তবে রায় বাড়িতে দু্র্গা পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দেবীর সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রেরও পুজো করা হয়। মালদহের রায় বাড়িতে দেবী দুর্গার সঙ্গে পুজো করা হয় অস্ত্রেরও। তবে যতই অস্ত্র পুজো করা হোক, এই বাড়িতে কোনও বলিপ্রথা নেই। ২২৪ বছর ধরে এই একই প্রথা চলে আসছে। তিলাসনে অবস্থিত এই রায় জমিদারবাড়ি। এই পুজোর শুরুটা হয় শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া দিয়ে।

ইতিহাস : শোনা যায়, অবোধ নারায়ন রায়ই প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। ডাল ব্যবসা করার জন্য উত্তর প্রদেশ থেকে অবোধ নারায়ন রায় এসেছিলেন এই বাংলায়। পরে তিনি বিপ্লবীদের পরামর্শে শুরু করেন এই পুজো। সেই তিন বিপ্লবী ছিলেন সন্ন্যাসী বিদ্রোহের তিন সদস্য, যাঁরা মালদহের এই জঙ্গলে এসে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁরাই অবোধ নারায়ন রায়কে এই পুজোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন :নেই গণেশ সরস্বতীরা! কেন রায় বাড়িতে ‘কুলোপতি’ নামে পুজিত হন 

রায় বাড়ির পুজোর সূচনা হয় রথের দিন। সেদিনই কাঠামো পুজো হয়। তারপরই শুরু হয় দেবী মূর্তি গড়ার কাজ। সপ্তমীর দিন নাপিত গঙ্গাজল ছিটিয়ে রাস্তা শুদ্ধ করে নিয়ে যান এই পরিবারের সদস্য এবং চারজন ব্রাহ্মণকে। জল ভরে আসার পথে নদী থেকে বাড়ি আসার মধ্যে এই পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়।

আজও চলে আসছে অতীতের নিয়ম। মৈথিলী ব্রাহ্মণরা এই সময় আসেন এই বাড়িতে তাঁরাই ভোগ রান্না করেন এই পুজোর। তাঁরাই পুজোর বাকি সমস্ত কাজ করে থাকেন।মালদহের এই রায় বাড়ির পুজো অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। পুজোর কাটদিন আনন্দে মেতে ওঠে রায় পরিবার। দূর দুরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে দুর্গাপুজো দেখতে।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান রেলে চড়িয়ে মা দুর্গাকে রংবুলের বাংলো নদীতে নিরঞ্জন

লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে উমাকে বিদায় সংখ্যালঘুদের, সম্প্রীতির ছবি মরা মহানন্দার ঘাটে

‘আসছে বছর আবার হবে’, বিষন্ন মন নিয়ে দশমীর রাতেও মণ্ডপে-মণ্ডপে হাজির দর্শনার্থীরা

দশমীতে হয় না বিসর্জন, উত্তরের চাষি পরিবারের কুটিরে ভান্ডানি রূপে বিশ্রাম নেবেন উমা

আবারও শুরু দিন গোনা! জেনে নিন আগামী বছরে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট, কী কী বার থাকছে ছুটি?

প্রথা মেনেই ইছামতিতে বিসর্জন টাকি রাজবাড়ির দুর্গা প্রতিমার, নদীর পাড়ে ভিড় দুই বাংলার মানুষের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ