ICU থাকা স্ত্রীকে দেখতে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা সফর ৮২ বছরের বৃদ্ধের

Share:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  বয়সের ভারে কষ্ট হয় হাঁটতে, চোখে ক্লান্তি, তবু মনে অদ্ভুত এক শক্তি। প্রতিদিন ভোর হতেই তিনি বেরিয়ে পড়েন একটা দীর্ঘ যাত্রার জন্য।  গন্তব্য একটাই হাসপাতাল। কারণ সেখানে শুয়ে আছেন তাঁর জীবনের সঙ্গী, তাঁর ভালোবাসা। বাসের জানালার পাশে বসে তিনি চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন দূরের পথে।  যাওয়ার পথে প্রতিদিন মানুষ বদলায়, সময় গড়ায় কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য বদলায় না। প্রতিটা ধাক্কা, প্রতিটা ক্লান্তি তিনি সহ্য করেন শুধু এক ঝলক স্ত্রীকে দেখার আশায়। চিনের ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে উঠে আইসিইউতে থাকা তাঁর স্ত্রীর জন্য খাবার তৈরি করতেন। এরপর তিনি বাসে করে ছয় ঘণ্টা ভ্রমণ করে হাসপাতালে যেতেন, তাঁকে খাওয়াতেন এবং তারপর আরও ছয় ঘণ্টা ভ্রমণ করে বাড়ি ফিরতেন। মাত্র আধা ঘণ্টার জন্য তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে রোজ ১২ ঘন্টা ধরে শুধু রাস্তাতে সফর করেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরে স্ত্রী প্রতি বৃদ্ধের ভালোবাসা দেখে কেউ চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি।   

এই ঘটনা ১০৫ দিন ধরে চলেছিল। এই বয়সেও তাঁর এই অদম্য ইচ্ছা এবং স্ত্রীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও নিষ্ঠার গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম সিনওয়েনফাং জানিয়েছে যে, ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝৌশানের ৮২ বছর বয়সী কৃষক চেন আচং এবং তার স্ত্রী শু ৫০ বছরেরও বেশি   বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন।  এক বছর আগে জুর স্ট্রোক হয় এবং এর কিছুদিন পরেই তাঁর মারাত্মক নিউমোনিয়া হয়। সেই কারণে তাঁকে নিংবোর লি হুইলি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ছেলে কাজের সূত্রে বাইরে থাকার কারণে বৃদ্ধই দেখাশোনা করেন তাঁর স্ত্রীকে। সারাদিনে একাবার সহ ধর্মিণীকে দেখতে রোজ ১২ ঘণ্টা যাতায়াত করেন। 

বৃদ্ধ প্রতিদিন তিনি ভোর সাড়ে চারটেয় ঘুম থেকে উঠে খাবার তৈরি করতেন এবং তারপর নিংবোর উদ্দেশ্যে একটি বাস ধরতেন, যেখান থেকে তিনি আরেকটি বাসে করে হাসপাতালে যেতেন। আইসিইউতে  থাকা রোগীদের দেখার  জন্য সময় ছিল সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত, কিন্তু তার অ্যাপয়েন্টমেন্টের পর চেন দুপুর পর্যন্ত সেখানেই থাকতেন। তিনি বলেছেন,  “আমরা হাসপাতালের করিডোরে থাকতাম এবং তারপর বাসে করে ঝৌশানে ফিরে যেতাম।” চেন  তাঁর  স্ত্রীর সাথে মাত্র আধ ঘণ্টা কাটানোর জন্য ১০৫ দিন ধরে ১২ ঘণ্টার কষ্টকর যাতায়াত সহ্য করেছিলেন। একসাথে কাটানো সময়টুকুতে তিনি তার স্ত্রীর হাত শক্ত করে ধরে রাখতেন এবং অনবরত  তাঁর   সঙ্গে কথা বলতেন। চেন একবার তার স্ত্রীকে ফিসফিস করে বলেছিল, “আমার মনে আছে, যখন আমি মাঠে কাজ করতাম, তুমি বাড়িটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে। তুমি আমার কাপড় ধুয়ে দিতে, আর আমি যখনই মাছ খেতাম, তুমি সবসময় সেটার মাথা আর লেজটা ফেলে দিয়ে শুধু সবচেয়ে ভালো অংশগুলো আমার জন্য রেখে দিতে।”

আরও পড়ুন: কোচবিহারে নাকা চেকিংয়ে সাফল্য! গাড়ির ডিকি খুলতেই বেরিয়ে এল ব্যাগ ভর্তি টাকা

চেনের ভালোবাসা ও নিষ্ঠা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।  এক বছরের মধ্যে চেন তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য নিজের সমস্ত সঞ্চয়, এক লক্ষ ইউয়ানেরও (১৪,০০০ মার্কিন ডলার) বেশি, ব্যয়  করেছেন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে সাহায্য করার জন্য তাদের ছেলেও নিজের বাড়ি বিক্রি করে দেন। চেনের অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতি সাড়া দিয়ে হাসপাতাল তার সাক্ষাতের সময়সূচী পরিবর্তন করে দেয়, গণপরিবহন দফতর তার ভাড়া মওকুফ করে দেয় এবং সাধারণ মানুষ ১,৪০,০০০ ইউয়ানেরও (২০,০০০ মার্কিন ডলার) বেশি অনুদান দেয়। ১৩ মার্চ, চেন যথারীতি তার স্ত্রীকে দেখতে যান এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে মনে হয়। তা দেখে চেন বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম যে পরিবারের সবাই ভালো আছে এবং চিন্তা না করতে, আর সে উত্তরে মাথা নেড়েছিল।” চেন যখন ঝৌশানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন হাসপাতাল থেকে তার কাছে একটি ফোন আসে এবং তাকে জানানো হয় যে তার স্ত্রীর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খবর পেয়েই তিনি ও তাঁর ছেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে যান, কিন্তু তাঁকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও ৭৬ বছরে শু শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। স্ত্রীকে বিদায় দেওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে চেন তাঁর হাত শক্ত করে ধরে বলেছিলেন, “এই জীবনে আমাদের বন্ধন ছিন্ন হলো।” তাঁর এই কথা সেখানে উপস্থিত সকলের চোখে জল এনে দেয়। 

আজ ধনতেরাসের সন্ধ্যায় এই ৫ জায়গায় জ্বালান প্রদীপ, মা লক্ষ্মীর কৃপায় আসবে সুখ-সমৃদ্ধি!

‘মা-বোনেদের দিকে আঙুল তুললে ভেঙে দেবে সরকার,’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও সপ্তম পে কমিশনের আওতায়, ঘোষণা নবান্নের

‘Maatrubhumi’ নিয়ে কেন্দ্র চাপ দিয়েছিল? সত্যিটা জানালেন সলমন

দীপাবলির আগে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ সূর্যকুমারের পরিবারের, খুদের ভজন শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

সন্দেশখালিতে ছেলের সামনেই মায়ের শ্লীলতাহানি, পুলিশের জালে শাহজাহানের শাগরেদ

রিলস স্ক্রল করা বন্ধ করতে পারছেন না? জেনে নিন এই সহজ কৌশল

আঘাতের পর ফের ওয়ার্কআউট! জানুন হাঁটু সুরক্ষিত রাখার সহজ উপায়

অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি কর্মভূমি এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড, দাউদাউ করে জ্বলছে চারটি কামরা

লুঙ্গি ও বারমুডা পরে তারাপীঠ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নির্দেশ কমিটির

দীপাবলির আগে অমিতাভের ‘জলসা’য় বোমা হামলার হুমকি!

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলায় এবারও অনলাইনে স্টল বুকিং, থাকছে বিশেষ শর্ত

সর্ষে অতীত, এবার ভাত পাতে রাখুন পোস্ত পাবদা, রইল রেসিপি

অল্প তেলেই বানিয়ে ফেলুন ফুলকপি পাতুরি, ভাত বা পরোটার সঙ্গে জমে যাবে