চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন করলেন আসীম মুনির, তারপর যা হল…

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সামরিক আধিকারিক এবং নেতাদের মনে হয় নিজের দেশের থেকে বিদেশের প্রতি বেশি আকর্ষণ রয়েছে। অবসর গ্রহণের পর তাঁরা প্রায়ই অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কথা চিন্তা করেন। এইসব সামরিক আধিকারিকদের সন্তানরাও বেশিরভাগ সময় বিদেশে পড়াশোনা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি দাবি সামনে এসেছে যা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে।

গুঞ্জন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসীম মুনিরের স্ত্রী সাঈদা ইরাম জুনের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২২ অগস্ট সাঈদা ইরাম এবং তাঁর তিন সন্তান মার্কিন পাসপোর্ট পেয়েছেন। মেজর জেনারেল রাজু চৌহানের X অ্যাকাউন্টে এই দাবি করা হয়েছিল। তিনি অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন- ‘আমি অনেক দিন ধরেই বলে আসছি যে আসীম মুনির তাঁর পূর্বসূরীদের মতো পাকিস্তানের সবকিছু বিক্রি করে পালিয়ে যাবেন।” এই মুহূর্তে যদিও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেনি।

অপারেশন সিঁদুরের সময় মুনির তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। যাইহোক, পাকিস্তানে রাজনীতিবিদ, আধিকারিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের দ্বারা পশ্চিমা দেশগুলির নাগরিকত্ব নেওয়া কোনও নতুন বিষয় নয়। পাকিস্তানে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ, কিন্তু এটি মাত্র ২২টি দেশে অনুমোদিত। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন সহ ১৪টি ইউরোপীয় দেশ। মূল সংবিধানে এটি অনুমোদিত ছিল না, কিন্তু ১৯৭২ সালে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে এই পথ খুলে দেওয়া হয়েছিল। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকার অনুমতি নেই।

২০২১ সালে ফাঁস হওয়া প্যান্ডোরা পেপার্স থেকে জানা যায় যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইমরান খান সরকারের মন্ত্রীদের বিদেশে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২২ হাজারেরও  বেশি পাকিস্তানি আমলা দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। আইন অনুসারে, সেনা কর্মকর্তারা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে পারেন না এবং চাকরিতে থাকাকালীন কোনও বিদেশী নাগরিককে বিয়েও করতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই কারণেই ২০১৮ সালে পাক সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনা জেনারেল রাহিল শরীফ অবসর গ্রহণের পরপরই সৌদি আরবে চলে যান। প্রাক্তন আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজা পাশা অবসর গ্রহণের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে যোগদান করেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট উভয় মামলায় সরকারের কাছ থেকে জবাব চেয়েছিল। অনেক নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাও বিদেশে গিয়ে স্থায়ী হন।

রাজনীতির কথা বলতে গেলে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ছেলে হাসান এবং হুসেন ব্রিটিশ নাগরিক। নওয়াজ নিজে এবং তাঁর মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের ব্রিটেনের আইএলআর (অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি) রয়েছে, যা স্থায়ী বসবাসের মতো। ভুট্টো পরিবারের কথা বলতে গেলে, বিলাওয়াল ভুট্টোর দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই। তবে তাঁর মা বেনজির ভুট্টো এবং বাবা আসিফ আলি জারদারি বিদেশে পড়াশোনা করেছেন।

পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ২০২৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুবাইতেই ছিলেন। ইমরান খানের মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং কানাডার নাগরিকত্ব ধারণ করেছিলেন। এমনকি বিদেশী পাসপোর্টের কারণে সংসদ সদস্য হারুন আখতার এবং সাদিয়া আব্বাসিকে তাঁদের সদস্যপদ হারাতে হয়েছিল।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

আমেরিকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব, হত আট শিশু

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

‘আর ভদ্রতা নয়’, মার্কিন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

চিনের হাফ ম্যারাথনে ইতিহাস গড়ল রোবট, মানুষকেও হারাল এআই প্রযুক্তি

আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুলির ঘটনায় ছড়িয়ে পড়ল ভয়াবহ আতঙ্ক

হরমুজ প্রণালি পেরনোর চেষ্টা করলেই হামলা! কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ