চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘ভারতকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে’, হুঙ্কার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের

নিজস্ব প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ: পহেলগাঁও হামলার বলা নিতে মঙ্গলবার (৬ মে) গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। ওই হামলায় কমপক্ষে ৮ পাকিস্তানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন। ভারতীয় সেনার হামলার পরেই যোগ্য জবাব দেওয়ার হুঙ্কার ছেড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রাতেই এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ভারত পাকিস্তানি ভূখণ্ডের পাঁচটি স্থানে ‘কাপুরুষোচিত’ আক্রমণ চালিয়েছে। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ভারতের এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে  যোগ্য জবাব দেওয়ার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে এবং যথাযোগ্য জবাব দেওয়া হচ্ছে। শত্রুদের মোকাবিলায় পুরো জাতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পাশে।’ কীভাবে ভারতীয় সেনার হামলার জবাব দেওয়া হব, তা ঠিক করতে আজ বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে এক রিসর্টে অতর্কিতে হানা দিয়ে ২৬ নিরীহ পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করে পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছিল গোটা দেশবাসী। পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার দাবি উঠেছিল। ওই দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দেন, ‘পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’

২৬ নিরীহ পর্যটকের হত্যালীলার পরেই জঙ্গিদের ইন্ধনদাতা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মোদি সরকার। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানি পণ্য আমদানি-রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আটারি সীমান্ত। ভারতীয়  বন্দরে  পাকিস্তানি জাহাজের প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চিঠি লেন-দেনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।  যদিও পহেলগাঁও কাণ্ডের ১৫ দিন কেটে যাওয়া সত্বেও ভারতীয় সেনা প্রত্যাঘাতের পথে না হাঁটায় সাধারণ মানুষের মনে খানিকটা অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল।

ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোটলি, বাহাওয়ালপুর এবং মুজফফরাবাদ সহ একাধিক জায়গায় ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বাহাওয়ালপুরের ঘাঁটিতে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সইদ উপস্থিত ছিলেন।  ভারতীয় সেনার তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে যেসব জায়গা থেকে জঙ্গি হামলার চক্রান্ত চলছিল, সেই ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও পাকিস্তানি সেনা কাঠামোকে নিশানা বানানো হয়নি। পাকিস্তানের পাল্টা হামলা প্রত্যাহত করতে ইতিমধ্যেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম চালু করে দিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হানার পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেশ কয়েক জায়গায় পাক সেনা গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে পাকিস্তান সরকার। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বা পিআইবি’র তরফে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘খুব নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করেই সন্ত্রাসবাদীদের ডেরায় হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের কোনও জনবসতিতে কিংবা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়নি এবং ক্ষতিও করা হয়নি। লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যথেষ্টই সংযমের পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’

ভারতের সেনার তরফে যেমন ৯ জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, তেমনই পাকিস্তান সেনার তরফেও পাল্টা ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান রাফাল ভূপতিত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী দাবি করছেন, ‘বার্নালা সেক্টরে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একটি ভারতীয় ড্রোন পাকিস্তান সেনাবাহিনী গুলি করে ভূপতিত করেছে। পরে তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) দুদনিয়াল সেক্টরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভারতীয় সেনাদের একটি চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে। বাহাওয়ালপুরের আহমেদপুর পূর্বের কাছে ভারতীয় বায়ু সেনার  একটি রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে।’

ভারতের প্রত্যাঘাতের পরেই পুঞ্চ-রাজৌরি-দুনদিয়াল সহ বিভিন্ন সেক্টরে পাক ও ভারতীয় সেনার মধ্যে শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার লড়াই। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালায় পাক সেনা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নীলাম উপত্যকার বাসিন্দা জাওয়াদ আহমেদ পারস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’কে জানিয়েছেন, ‘রাত থেকেই সীমান্ত গুলি বিনিময় চলছে। উভয় দিক থেকে চেকপয়েন্টে মর্টার শেল ছোড়া হচ্ছে। ভারতীয় বিমান হামলার পর থেকে উপত্যকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সবাই জেগে আছে। কেউ সারা রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেনি। আগামিকাল কী হবে কেউ জান না। দুই দশক ধরে কেউ এত ভয়াবহ গোলাবর্ষণ দেখেনি।’

 

Published by:

Share Link:

More Releted News:

হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় বিধিনিষেধ আরোপ ইরানের, ফের শুরু হবে যুদ্ধ?

ট্রাম্পের নতুন হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে জলসীমায় ফিরল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি

আমেরিকার একের পর এক পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ, পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র?

ডেটিং অ্যাপে সঙ্গী নয়, চাকরি খুঁজছেন অনেকেই! ভাইরাল নতুন ট্রেন্ড

দাঁত দিয়ে ৭২০ টনের জাহাজ টেনে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন মিশরের এক ব্যক্তি

৫ বছরের ছোট অভিনেতাকে বিয়ে করার জন্যই অভিনয় ছাড়ছেন অভিনেত্রী রামশা খান? জল্পনা তুঙ্গে

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ