চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ব্যর্থ ৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার, নবান্ন অভিযানে ডিউটিতে গিয়ে ইটের আঘাতে দৃষ্টি হারালেন সার্জেন্ট

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই চিরদিনের জন্য বাঁ চোখের দৃষ্টি হারালেন(Lost Left Eye Sight) কলকাতা পুলিশের(Kolkata Police) ট্রাফিক সার্জেন্ট(Traffic Sargent) দেবাশিষ চক্রবর্তী(Debasish Chakrabarty)। মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযানের(Nabanna Abhiyan) সময় মিছিল থেকে উড়ে আসা একটি ইটের আঘাতে তাঁর বাঁ চোখ রক্তাক্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও জখম চোখে ঠিকঠাক দেখতে পারছিলেন না দেবাশিসবাবু। তারপর তাঁকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে রাতেই ৪ ঘণ্টার অপারেশন হয় চোখে। জানা গিয়েছে, আধলা ইটের টুকরোর আঘাতে দেবাশিষবাবুর চোখের মণি ফেটে গিয়েছে। আর তাই সেই চোখে তিনি আর কোনওদিন দেখতে পাবেন না। চিরতরে চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেললেন ছাত্র সমাজের ডাকা নবান্ন অভিযানে ডিউটিতে গিয়ে ইটের আঘাতে আহত পড়েন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট দেবাশিষ চক্রবর্তী।     

আরও পড়ুন, অভিষেকের পোস্টে ১১ কোটি মানুষের সমর্থন, ভাবাচ্ছে বিজেপিকে

গতকালের নবান্ন অভিযানে শুধু সার্জেন্ট দেবাশিষবাবুরই নয়, আরও অনেক পুলিশকর্মী আহত হন। গঙ্গার এপার-ওপার, দুপাড়েই আক্রান্ত হয় পুলিশ। হাওড়া ময়দানে পুলিশকে তাড়া আন্দোলনকারীদের। পুলিশকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। ওদিকে অভিযানের শুরুর দিকেই সাঁতরাগাছিতে পুলিসশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইঁটে মাথা ফাটে একজন RAF কর্মীর। হাওড়ায় আক্রান্ত হন ২ জন। কলকাতায় বাবুঘাটে নিরস্ত্র ট্রাফিক পুলিশের ওপরও আক্রমণ করেন আন্দোলনকারীরা। রীতিমতো লাঠি হাতে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাফিক পুলিশের পিছনে। তারপর ওই ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে লাঠি ছুঁড়ে মারতেও দেখা যায়। বাবুঘাটে ৩ জায়গায় ৩ জন পুলিশ আক্রান্ত বলে খবর। ওদিকে শিয়ালদাতেও আহত হন ১জন পুলিশকর্মী। তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে বলে খবর। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সামনেও একজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে আহত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা ভর্তি রয়েছেন বলে খবর। গতকাল কলকাতার হেস্টিংস মোড়ে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট দেবাশিস চক্রবর্তী। ভিড়ের মধ্যে থেকে ছুটে আসা ইট লাগে তাঁর বাঁদিকের চোখে।  

আরও পড়ুন, ট্রেন থামাতে লাইনে সাংসদ-বিধায়কেরা, তবুও জনতার চাপে ব্যর্থ বনধ

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৪ অগাস্ট ‘রাত দখলের রাত’ নামের কর্মসূচীতেও বাগুইহাটিতে ইটের আঘাতে আহত হন কর্তব্যরত মহিলা কনস্টেবল শম্পা প্রামাণিক। চোখে এবং মুখে আঘাত পান তিনি। তাঁরও একটি চোখের দৃষ্টি চলে গিয়েছে চিরতরে। সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল দেবাশিষবাবুরও। সব থেকে বড় কথা জায়গায় জায়গায় পুলিশ আক্রান্ত হলেও কোথাও পুলিশ কিন্তু পাল্টা প্রতি আক্রমণের পথে যায়নি। পুলিশ যে গতকাল যথেষ্ট সংযমের পথে হেঁটেছে সেটা গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও স্বীকার করেছেন। তাঁর হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘ওদের লক্ষ্য ছিল একটা বডি! সেটা এ দিন হলো না। পুলিশ ওদের প্ররোচনায় পা দেয়নি। তাই অরাজকতার ছক কষতে বিজেপির পক্ষ থেকে ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকা হয়েছে।’ কার্যত কাল পুলিশ অনেক সংযত ছিল বলেই কোনও বিজেপি সমর্থক সেভাবে আহত হননি নবান্ন অভিযানে গিয়ে। কিন্তু তাঁদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে চিরকালের মতো দৃষ্টিশক্তি হারালেন দেবাশিষ চক্রবর্তী।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য গ্রেফতারের তালিকায় কারা?‌ আদালতকে জানাল তৃণমূল

ভোট চাইতে শেক্সপিয়র সরণির বহুতলের বাসিন্দাদের দুয়ারে হাজির মমতা

‘ডাল মে কুছ কালা..’, কলকাতায় গোপন বৈঠক আধা সেনার শীর্ষ কর্তাদের

বুলডোজার নীতিতে বিশ্বাসী নই, যোগী আদিত্যনাথের উল্টো সুর শমীকের গলায়

‘বাঙালি’ ওসিদে’র চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি ‘অবাঙালি’ মনোজ আগরওয়ালের

সিভিক ভলান্টিয়ার–ভিলেজ পুলিশ–গ্রিন পুলিশদের নিয়ে নয়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ