এই মুহূর্তে

আপনি কি ঘনিষ্ঠ হতে ভয় পাচ্ছেন? কিভাবে বুঝবেন?

নিজস্ব প্রতিনিধি: Fear of intimacy বা ঘনিষ্ঠতার ভয়। কারুর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া মানে শারীরিক অথবা মানসিক ভাবে কাছে যাওয়া। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মূলত চার ধরনের হতে পারে।

পরিচয় মূলক বন্ধুত্ব- যার সাথে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা, ক্রিয়া-কলাপ, আগ্রহ, ইচ্ছে ইত্যাদি ভাগ করে থাকেন।

বুদ্ধিবৃত্তিক বন্ধুত্ব- যার সাথে আপনি আপনার গভীর ভাবনা ও বৌদ্ধিক আলাপ-আলোচনা করে থাকেন।

আবেগপ্রবণ বন্ধুত্ব- যার সাথে আপনি আপনার অন্তরের অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারেন এবং যার সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়।

যৌন সম্পর্ক – আপনার খুব কাছের শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মানুষটি।

ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে ভয় মানে এই চার ধরনের সম্পর্কে লিপ্ত হতে অনিচ্ছা বা পিছিয়ে আসা।

ঘনিষ্ঠতার ভয়কে আমরা অনেক সময় উদাসীনতা বলে ভুল করে থাকি। যারা ঘনিষ্ঠ হতে ভয় পান, তাদের অনেক সময় অতীতের ভাঙা সম্পর্কের ইতিহাস থাকে। তাঁরা সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা রাখতে ভয় পান। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের অতিরিক্ত রেগে যাওয়ার সমস্যা থাকে। নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে এবং রক্ষা করতে তাদের সমস্যা হয়। নিজেদের অনুভূতি আবেগ প্রকাশ করতে সমস্যা হয়।

কি কারণে ঘনিষ্ঠতা ভয় কাজ করে

১) এটা সম্ভবত একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে আপনি নিজেকে দুর্বল হতে দেন না। আপনি কারোর ওপর আস্থা রাখেন না, কারণ আপনি আঘাত পেতে চান না।

২) একটা প্রত্যাখ্যানের ভয় কাজ করে। হয়তো অতীতের ঘটনার জন্য অথবা আপনি হয়তো নিজের কাউকে প্রত্যাক্ষিত হতে দেখেছেন। প্রত্যাখ্যান হবার ভয়ে আপনি  নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে, আপনার ইচ্ছে বা চাহিদাটা প্রকাশ করেন না।

৩) অন্তরঙ্গ সম্পর্কে নিযুক্ত থাকাকালীন যদি বিচ্ছেদ হয় অথবা কারো মৃত্যু হয় তাহলে অন্যজন সম্পূর্ণ একা থেকে যাবে, এই ভয়টা ও কাজ করে। পূর্ব অভিজ্ঞতা অথবা নিজের কাছের কোনো মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে এরূপ মনে হতে পারে।

৪)অপমানের ভয়, সামাজিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ভয়, সমালোচনার ভয়, অত্যধিক সংবেদনশীলতা, নিয়ন্ত্রিত হওয়া বা সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে হারানোর ভয়, ইত্যাদি কাজ করতে পারে।

৫) ছোটবেলার শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, বাবা-মার অবহেলা, বাবা-মার মধ্যে সম্পর্কের অসাঢ়তা, ডিভোর্স, ইত্যাদি অনেক সময় কাজ করে।

কিভাবে বুঝবেন

১)প্রচন্ডভাবে স্বাধীনচেতা।স্বাধীনচেতা মনোভাব প্রয়োজনীয়। যে কোন ক্ষেত্রে নির্ভরশীল না হওয়া, নিজের প্রয়োজনটুকু নিজে মেটাতে পারা, ইত্যাদি প্রয়োজন। কিন্তু কখন অন্যের সাহায্য নেওয়ার দরকার আছে এবং প্রয়োজনে সেটা নিতে জানাও দরকার। অতিরিক্ত আত্মনির্ভরশীলতা অনেক সময় প্রত্যাখ্যানের ভয় থেকে আসে।

২) এমন কারুর সাথে সম্পর্ক তৈরী করা যিনি, আপনার পক্ষে উপযুক্ত নন, আপনি বুঝতে পারছেন। স্বাভাবিকভাবেই আপনি তার কাছে নিজেকে খুলতে পারবেন না এবং আপনার কাছে একটা কারণ থাকবে যে কেন আপনি তার কাছে পৌঁছতে পারেননি। এমন মানুষ যারা আবেগগত ভাবে অপরিণত বা সম্পর্ক রক্ষায় অক্ষম। তাদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া একটি লক্ষণ।

৩) অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে বেশ কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পরে হঠাৎ করে আপনি নিজে থেকেই সরে আসেন বা পিছিয়ে যান। অন্য মানুষটি যখন আপনার কাছে আসতে চাইছে, আপনার সাথে মনের কথা ভাগ করে নিতে যাচ্ছে, আপনি হঠাৎই তার প্রতি কিছুটা উদাসীন হয়ে থাকেন। এই দ্বৈত আচরণ দিয়ে আপনি নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন আঘাতে থেকে। হয়তো ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয় বা আঘাত পাবার ভয় থেকে, আপনি নিজেই আগে সরে যান।

৪) যখন আপনি পারফেকশনিস্ট। সেক্ষেত্রে আপনি সব সময় অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সময় নিজের পারফেকশনের দিকটাই তুলে ধরেন। যেমন, যেটা করা উচিত, যেমন হওয়া উচিত ইত্যাদি। সে ক্ষেত্রে অন্যরা আপনার সাথে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। কারণ ওনারা নিজেদের সাথে আপনাকে মেলাতে পারেন না। কারণ মেলাতে গেলে ওনাদের মনে হয় যে ওনাদের জীবনটা ভুলে ভরা। অনেকক্ষেত্রে কাছের মানুষদের কাছে নিজের ভুল ভ্রান্তি মেশানো নিজেকে তুলে ধরলে সম্পর্কটা অনেক কাছের হয়। এবং তারাও নিজেদের মনের মতন করে মিশতে পারে।

৫) সম্পর্ক জনিত চাহিদা থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য আপনি অত্যধিক কাজ  নিজেকে নিযুক্ত করছেন। নিজের ফাঁকা সময়টায় যাতে অন্য কারুর চাহিদা উপলব্ধি না হয়, তাই সব সময় অতিরিক্ত কাজের  সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখছেন।

৬) নিজের অনুভূতি আবেগ বোঝাতে বা প্রকাশ করতে অসুবিধা হচ্ছে। জানতে বা অজান্তে আপনি নিজেকে প্রকাশ করতে পারেন না বা চান না। নিজের সবটা দেখিয়ে দিলে, তার ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাবে এবং সে বেশি নিয়ন্ত্রণ করবে এই ভয় থাকতে পারে। অথবা প্রকাশ করতে অসুবিধাও থাকতে পারে।

নিজের পুরনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ঝুলি টা পরিষ্কার করুন। পুরনো অভিজ্ঞতাকে আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কে নিয়ন্ত্রন করতে দেবেন না। পরিশ্রম এবং সমর্থনের দ্বারা আপনিও এই ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। নিজের উপর আস্থা রাখুন।

লেখক : পুষ্পিতা মুখার্জি (মনোবিদ ও শিক্ষিকা) 

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

জানেন কী, ভাত গরম নয়, ঠান্ডা খাওয়া বেশি উপকারী?

এ বছর মহাশিবরাত্রি কবে এবং কখন?

এ বছর দোল পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ, কবে, কখন, জেনে নিন দিনক্ষণ ও সময়

বসন্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কোন কোন খাবার?

অতিরিক্ত ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার কারণ…..

সপ্তাহে কতবার স্ক্রাবিংয়ের প্রয়োজন?

Advertisement

এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ

দার্জিলিং

কালিম্পং

জলপাইগুড়ি

আলিপুরদুয়ার

কোচবিহার

উত্তর দিনাজপুর

দক্ষিণ দিনাজপুর

মালদা

মুর্শিদাবাদ

নদিয়া

পূর্ব বর্ধমান

বীরভূম

পশ্চিম বর্ধমান

বাঁকুড়া

পুরুলিয়া

ঝাড়গ্রাম

পশ্চিম মেদিনীপুর

হুগলি

উত্তর চব্বিশ পরগনা

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

হাওড়া

পূর্ব মেদিনীপুর