দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Rameshwaram Temple: ভগবান রামের স্থাপিত রামেশ্বরমের অজানা কাহিনী জেনে নিন…

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: দেবকুল হোক বা অসুরকুল,  আর্য কিংবা অনার্য, উচ্চ বা নিচ হোক-সকলের দেবতা দেবাদিদেব মহেশ্বর। তিনি আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই সর্বেশ্বর, তিনি অতীত আবার তিনিই ভবিষ্যৎ। পাশাপাশি শ্রী হরি হলেন জগৎ পালক। বলা ভাল যে, মহেশ্বর ও বিষ্ণু একই আত্মা, তাঁরা আসলে একে অপরের পরিপূরক। সমগ্র ভারতে পুণ্য তীর্থস্থান হিসেবে চার ধামকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেগুলি যথাক্রমে, জগন্নাথ ধাম, রামেশ্বরম, দ্বারকা ও বদ্রিনাথ। এই চারধামের মধ্যে রামেশ্বরম ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম একটি জ্যোতির্লিঙ্গও বটে, যা তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলায় অবস্থিত।

কথিত আছে শ্রী রামচন্দ্র স্বয়ং এই শিবলিঙ্গ স্থাপন করেন। রাম এই জ্যোতির্লিঙ্গ স্থাপন করেন বলেই এর নাম হয় রামেশ্বরম। এখানে মহাদেবের পুজো করেই রাবণ বধের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র বানর সেনা নিয়ে লঙ্কায় পাড়ি দেন বলে বিশ্বাস। জানা যায়, এই মন্দিরের এলাকাটি শঙ্খাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ব কারুকার্য করা। মন্দিরের নাটমন্দিরে আছে সোনার তালগাছ। গর্ভগৃহে সোনার বেদীতে উপবিষ্ট স্বয়ং দেবাদিদেবের এই  রামেশ্বরম জ্যোতির্লিঙ্গ। রামেশ্বরম জ্যোতির্লিঙ্গকে আবার রামানাথস্বামীও বলা হয়। তাঁর মাথার উপর আবার ফনা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে পঞ্চমুখী কালনাগ। বিশেষজ্ঞদের একাংশর মনে করেন যে,  কোনও এক কালে রামেশ্বরম মন্দিরের দেখভাল করতেন চোল রাজারা। খ্রীষ্টীয় সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে এই দেবালয় নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, আনুমানিক ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রামেশ্বরম মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিজয়নগর রাজবংশের হাতে। পরবর্তীতে রামেশ্বরম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির হস্তগত হয়ে যায় ।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, রামচন্দ্র লঙ্কা আক্রমণের আগে এই স্থানে সমুদ্রের বালি দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করে মহাদেবের পুজো করেন। মতান্তরে, এই সমুদ্রের তীরে রাম জল পান করছিলেন, তখনই আকাশবাণী হয় যে ‘আমার পুজো না-করেই জল পান করছ?’ এই বাণী শোনার পরই রাম বালি দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করেন। রাম পুজো করার পর মহাদেবের কাছ থেকে রাবণকে পরাজিত করার আশীর্বাদ পান। এরপর ভক্তদের কল্যাণের উদ্দেশে মহাদেব সেখানেই অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রার্থনা স্বীকার করে নেন। তাই রামচন্দ্র এই শিবলিঙ্গ স্থাপন করেছিলেন।

এই মন্দিরে মোট ২২টি কুয়ো বা কুণ্ড আছে। জানা যায় যে, প্রতিটি কুয়োর জলের নাকি তাপমাত্রা আলাদা আলাদা। এই কুণ্ডগুলোর মধ্যে বিশেষত একটি কুণ্ড হল রুদ্র কুণ্ড।  কথিত আছে, কংসকে বধের পর এই কুয়োর জলে স্নান করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এভাবেই পাপ থেকে মুক্তি পান তিনি। তাই ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই কুয়োগুলির জলে স্নান করলে রোগ-ব্যধি ও পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রামেশ্বরম মন্দিরটি লম্বায় ৮৬৫ ফুট  এবং চওড়ায় ৬৫৭ ফুট । এখানকার মন্দিরের চত্বরে আরও কয়েকটি ছোট ছোট মন্দির রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ দিকে রয়েছে দেবী পার্বতী তথা রামেশ্বরীর মন্দির। প্রতি শুক্রবার এই পার্বতী মন্দিরের মাতৃ মূর্তিকে নবরত্নে সাজিয়ে সোনার পালঙ্কে বসিয়ে মন্দিরের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এর পাশাপাশি চলে বেদপাঠ। মন্দির চত্বরেই রয়েছে  চুন-বালি নির্মিত ১২ ফুট লম্বা একটি সুবিশাল নন্দীমূর্তি । সেই নন্দীমূর্তির পাশ দিয়ে গিয়েই গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে হয়। এই মন্দির চত্বরেই রয়েছে বিষ্ণুমন্দিরও। সেখানে রয়েছে শ্বেতপাথরের বিষ্ণু মূর্তি।  এছাড়াও, রামেশ্বরের দক্ষিণ দিকে রয়েছে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র, সীতা দেবীর মূর্তি। হিন্দুদের বিশ্বাস, রামেশ্বরমে নিয়ম মেনে গঙ্গাজল দিয়ে জ্যোতির্লিঙ্গের জলাভিষেক করলে ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতিবছর মহাশিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে অগণিত ভক্তের ভিড় হয়।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত?

মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ধরলেন না আপ ছেড়ে বিজেপিমুখী হরভজন সিংহ

লখনউয়ের গুরুকুলে ১১ বছরের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার অধ্যক্ষ ও তাঁর প্রেমিকা

হানা দিয়েছিল ইডি, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে সামিল হলেন অশোক মিত্তালও

শেয়ার বাজারে অব্যাহত রক্তক্ষরণ, ১০০০ সূচক কমল সেনসেক্স

জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রহরী খুন! উধাও দানবাক্সের টাকা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ