চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

নিস্তব্ধ নৈনিতাল: ভিড়হীন শহরে ফিরে পাওয়া প্রকৃতির নিঃশ্বাস

নৈনিতাল
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ের কোলে জেগে থাকা ছোট্ট শহর নৈনিতাল এই সময়ে যেন নতুন রূপে সেজে উঠেছে।সাধারণত যে শহরটা ভিড়ের শব্দে, গাড়ির হর্নে আর পর্যটকদের কোলাহলে ভরে থাকে, সে-ই শহর এখন ধীরে ধীরে নিঃশব্দে গতিয়মান,যেন দীর্ঘদিনের ক্লান্তি শেষে শহরটি বসেছে নিজের সঙ্গে একান্ত সময়যাপনে।লেক-এর ধারে দাঁড়ালে এখন জল যেন আরও স্থির, আরও শান্ত। চারপাশের পাহাড়গুলোও যেন একটু কাছে চলে এসেছে, যেন তারা আর দূরের দর্শনীয় স্থান নয়, বরং নীরব কাছের সঙ্গী।মল রোডের পথ ধরে হাঁটলে এখন কলাহলের বদলে শোনা যায় পায়ের আওয়াজ। দোকানগুলো খোলা, কিন্তু তাড়া নেই; কোলাহল নেই, শুধু একধরনের ধীর ছন্দ। যেন শহরটা বলছে—এবার একটু ধীরে চলো, তাড়াহুড়ো নয়।”এই ধীরতাই হয়তো এই সময়ের সবচেয়ে বড় বিলাসিতা। হোটেলগুলোর দরজা খোলা, দামের বোঝা হালকা। যেসব ঘর থেকে লেক দেখা যায়, যেগুলো সারাবছর নাগালের বাইরে ছিল, সেগুলো এখন সহজলভ্য। কিন্তু সত্যিকারের প্রাপ্তি এই ছাড়ে নয়—এই প্রাপ্তি সময়ে। 

প্রকৃতির বার্তা এখন স্পষ্ট ।গাছের পাতার নড়াচড়া, দূরের পাখির ডাক, পাহাড়ি হাওয়ার ছোঁয়া—সবকিছু যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শহরের ব্যস্ততায় যেসব ছোট ছোট সুর হারিয়ে যায়, সেগুলো আবার ফিরে আসে। মনে হয়, নৈনিতাল আসলে কখনও বদলায়নি—আমরাই তাকে শোনার সময় পাইনি।তবু এই শান্তির মধ্যে একটুখানি অনিশ্চয়তাও আছে। কারণ এই নিস্তব্ধতা চিরকাল থাকে না। আবার একদিন ভিড় আসবে, রাস্তাগুলো ভরে উঠবে, লেকের ধারে আবার শব্দ জমবে। এই, শান্ত নৈনিতাল তখন একটু আড়ালে সরে যাবে।তাই এই সময়টা যেন এক ক্ষণস্থায়ী উপহার। যারা এই সময়ে আসে, তারা শুধু একটি জায়গা দেখে না—তারা একটি মুহূর্তকে ছুঁয়ে ফেলে। এই সময়ে নৈনিতালের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আসলে অর্থের সাশ্রয় নয়, বরং জায়গার প্রাচুর্য। যে শহরটিকে আমরা সবসময় মানুষের ভিড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখি, সেই শহরটাই এখন নিজের প্রকৃত রূপে ধরা দিচ্ছে। রাস্তার ধারে বসে থাকলে দূরের পাহাড়ের শব্দ শোনা যায়, হালকা বাতাসে দুলতে থাকা গাছের পাতার মর্মর ধ্বনি কানে আসে। সকালগুলো আরও দীর্ঘ মনে হয়, আর সন্ধ্যাগুলো যেন একটু বেশি গভীর হয়ে নামে।

ভ্রমন মানেই অনেকের কাছে পরিকল্পনা, খরচের হিসেব, আর ভিড়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। কিন্তু এখন নৈনিতাল সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে দিচ্ছে। ভ্রমণ যেন হঠাৎ করেই সহজ হয়ে উঠেছে—না আছে তাড়াহুড়ো, না আছে বুকিংয়ের উদ্বেগ। বরং আছে সময়, আর আছে নিজের মতো করে শহরটাকে অনুভব করার পাহাড়ের সবুজ আরও গাঢ়, আকাশ আরও স্বচ্ছ, আর বাতাসে সতেজতা। এই সময়ে নৈনিতাল শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এক অনুভূতির জায়গা হয়ে ওঠে—যেখানে আপনি শুধু দেখেন না, অনুভব করেন।তবে এই সৌন্দর্যের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম বিদ্রূপও লুকিয়ে আছে। কারণ এই ‘সেরা সময়’ আসলে তৈরি হয়েছে ভিড়ের অভাবে। আর একবার যদি এই খবর ছড়িয়ে পড়ে, যদি আবার পর্যটকের ঢল নামে, তাহলে এই শান্ত নৈনিতাল আবার হারিয়ে যাবে তার চেনা কোলাহলের মধ্যে। নৈনিতাল বরাবরই এই দুই মেরুর মধ্যে দোল খায়—একদিকে তার নির্মল সৌন্দর্য, অন্যদিকে তার অতিরিক্ত জনপ্রিয়তা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

কোকাকোলার আগেই ভারতের কোল্ড ড্রিঙ্ক, ইতিহাসের সাক্ষী ‘আর্ডিস’

র‍্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্র! ‘মিস ইন্ডিয়া’ কাশিশ এখন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ভারত-সহ বিশ্বের ৫০ কোটি শিশুর ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা

রহস্যময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ৫গোপন তথ্য, জানলে অবাক হবেন

‘উনি কি গায়িকা ছিলেন?’ হাসতে হাসতে আশা ভোঁসলেকে শেষ শ্রদ্ধা, বিপাকে বিজেপির মেয়র

বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে ৩৭ লাখের গাড়িকেই দোকান বানালেন জার্মানি ফেরত বিজ্ঞানী

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ