চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সত্যিই কি দ্রৌপদী ও হিড়িম্বা পরস্পরকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: মহাভারতের মূল কাহিনির পাশাপাশি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে বেশ কিছু উপকথা ও আখ্যান পাওয়া যায়, যা চরিত্রগুলিকে আরও মানবিক, আবেগপ্রবণ ও দ্বন্দ্বময় করে তোলে। তবে, সেই সকল বর্ণনার সাথে মূল কাহিনির বিশেষ মিল পাওয়া যায়না।

মহাভারত অনুসারে, দ্রৌপদী ও হিড়িম্বা—ছিলেন ভীমের দুই পত্নী। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের মধ্যে এক অপ্রকাশিত দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল।

কাশীদাসী মহাভারতে, তাঁদের দুজনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তেমনই একটি বিতর্কিত ও কৌতূহলোদ্দীপক প্রসঙ্গ বর্তমান। এই মহাভারত অনুসারে, তাঁরা পরস্পরকেই ভয়ঙ্কর অভিশাপ দিয়েছিলেন, যার দৃষ্টান্ত বেদব্যাস রচিত মূল মহাভারতে পাওয়া যায় না।

ভীম দ্রৌপদীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনেক পূর্বেই রাক্ষসী হিড়িম্বাকে বিবাহ করেছিলেন। হিড়িম্বা ও ভীমের একমাত্র সন্তান ছিলেন মহাবীর ঘটোৎকচ। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে ভীম দ্রৌপদীকে বিবাহ করলে, সেই সম্পর্ককে হিড়িম্বা হৃদয় থেকে সহজে মেনে নিতে পারেননি—এমন ধারণাই কাশীদাসী কাহিনিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

এই কাহিনি অনুসারে জানা যায়, যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞ উপলক্ষে ইন্দ্রপ্রস্থে প্রথমবার দ্রৌপদী ও হিড়িম্বার সাক্ষাৎ ঘটে। এমন সময়ে অন্তঃপুরে হিড়িম্বা জাঁকজমকের সাথে প্রবেশ করার সময় দ্রৌপদীকে তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন—যে আচরণে সম্রাজ্ঞী দ্রৌপদী গভীরভাবে অপমানিত হন। ফলত উভয়ের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় থেকে তীব্র বাক্যবিনিময় ও ভয়ঙ্কর ঝগড়া বাঁধে। সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে দ্রৌপদী ক্রোধ বশত হিড়িম্বার পুত্র ঘটোৎকচকে কর্ণের একাঘ্নী বাণে মৃত্যুবরণের অভিশাপ দিয়েছিলেন। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় হিড়িম্বাও দ্রৌপদীকে অভিশাপ দিয়ে বসেন। তিনি দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র— তথা উপপাণ্ডবদের অকালমৃত্যুর অভিশাপ দেন। তিনি বলেন, ক্ষত্রিয়দের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু সৌভাগ্যের, কিন্তু সেই সৌভাগ্য দ্রৌপদীর সন্তানদের হবে না; তাঁরা বিনাযুদ্ধেই প্রাণ হারাবে।

পরবর্তীকালে, আরেক কাহিনিতে দেখা যায়, ঘটোৎকচ দ্রৌপদীকে যথোচিত সম্মান না করায় পাঞ্চালী তাঁকে সীমিত আয়ুর অভিশাপ দিয়েছিলেন, আর হিড়িম্বাও পাল্টা দ্রৌপদীর সন্তানদের স্বল্পায়ু হওয়ার শাপ দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে দ্রৌপদী ও হিড়িম্বার অভিশাপের ফলেই কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধে ঘটোৎকচ এবং উপপাণ্ডবদের মৃত্যু ঘটেছে—এমন ব্যাখ্যাই লোককথা ও কাশীদাসী ধারায় প্রচলিত হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ব্যাস বিরচিত মূল সংস্কৃত মহাভারতে দ্রৌপদীকে অভিশাপদাত্রী রূপে দেখানো হয়নি।

অতএব বলা যেতে পারে, দ্রৌপদী ও হিড়িম্বার পারস্পরিক অভিশাপের কাহিনী মূলত লোকশ্রুতি ও কাব্যিক পুনর্কথনের ফল—যা মহাভারতের চরিত্রগুলিকে ঘিরে মানুষের জল্পনা-কল্পনা, আবেগ ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ