দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

কুম্ভকর্ণ সুত ভীমাকে বধ করতেই এই মহাদেবের আবির্ভাব… জেনে নিন অজানা কাহিনী

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ভক্তের ভগবান দেবাদিদেব মহাদেব বিভিন্ন সময়ে তাঁর ভক্তদের উদ্ধার করে এসেছেন।  এমনকি তিনি বিভিন্ন সময়ে আবির্ভূত  হয়েছেন বিভিন্ন জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে। সারা ভারত জুড়ে মূলত মহাদেবের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেগুলিকে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ বলা হয়ে থাকে। জানা যায়, এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম হল ভীমশঙ্কর বা ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ। মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে সহাদ্রি নামে একটি পর্বতে এই মন্দির  অবস্থিত। মহাদেবের এই জ্যোতির্লিঙ্গ মোটা প্রকৃতির বলে এই মহাদেবকে ‘মোটেশ্বর মহাদেব’ও বলা হয়ে থাকে।

পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, একবার লঙ্কাপতি রাবণের ভাই কুম্ভকর্ণ পর্বতে গিয়ে কর্কটী নামক এক মহিলার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে পড়েন। কর্কটীকে বিবাহ করার পর কুম্ভকর্ণ লঙ্কা ফিরে এলেও কর্কটী সেই পর্বতেই বাসবাস করতে থাকেন । পরবর্তী কালে কর্কটীর ভীমা নামে এক অত্যধিক বলশালী রাক্ষস সন্তানের জন্ম হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ভীমা তাঁর পিতা কুম্ভকর্ণের মৃত্যুর কারণ জানতে পারেন ও শ্রী রাম বিষ্ণুর  অবতার ছিলেন বলে শ্রীবিষ্ণু সহ সমগ্র দেবকুলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে যান। দেবতাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে ও নারায়ণের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হতে ভীমা ব্রহ্মার তপস্যা শুরু করেন। বহু বছরের কঠোর তপস্যায় ব্রহ্মা প্রসন্ন হলে ব্রহ্মার বরে ভীমা প্রবল শক্তিশালী হয়ে দেবলোকে তাঁর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

অত্যন্ত শক্তিধর ভীমার হাত থেকে জগৎ সংসারকে বাঁচাতে শৈব রাজা কামরূপ দেবাদিদেবের পুজো শুরু করেন। ভীমা এ কথা জানতে পেরে রাজাকে কারাগারে বন্দি করেন। রাজা কামরূপ সেখানেও একটি শিবলিঙ্গ তৈরি করে পূজার্চনা শুরু করেন। ক্রোধে ভীমা তাঁর তলোয়ার দিয়ে শিবলিঙ্গ ভাঙার চেষ্টা করতেই স্বয়ং দেবাদিদেব সেখানে আবির্ভূত হন। তখন ভীমা ও মহাদেবের মধ্যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মহাদেবের প্রবল গর্জনে বিনাশ হয়ে যান ভীমা। কথিত আছে , সেই যুদ্ধের সময় মহাদেবের শরীর থেকে নির্গত ঘামের ফোঁটা থেকে তৈরি হয়েছিল ভীমারথী নদী। এই নদী ভীমশঙ্কর মন্দিরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অদূরে কৃষ্ণা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ভীমা বধের পর সমস্ত দেব-দেবীরা   মহেশ্বরকে সেই স্থানেই শিবলিঙ্গ রূপে অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রার্থনা করলে দেবাদিদেব সেখানেই ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভুত হন। সেই  থেকেই এই স্থানে ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ নামে পূজিত হন মহেশ্বর।

শিবপুরাণে কথিত আছে যে, সূর্যোদয়ের ঠিক পর ভীমশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গে যে ভক্ত ভক্তি ভরে ভগবান শিবের পুজো করেন, তাঁর সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। মহাশিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে মহাদেবের এই জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনে জন্য অগণিত ভক্ত সমাগম হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শিবরাত্রির আগে অসম সরকারের দেওয়া একটি বিজ্ঞাপনে অসমে অবস্থিত ভীমশঙ্কর মন্দিরকে জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপন ঘিরে  অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিলো।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত?

মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ধরলেন না আপ ছেড়ে বিজেপিমুখী হরভজন সিংহ

লখনউয়ের গুরুকুলে ১১ বছরের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার অধ্যক্ষ ও তাঁর প্রেমিকা

হানা দিয়েছিল ইডি, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে সামিল হলেন অশোক মিত্তালও

শেয়ার বাজারে অব্যাহত রক্তক্ষরণ, ১০০০ সূচক কমল সেনসেক্স

জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রহরী খুন! উধাও দানবাক্সের টাকা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ