চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

সোনার ফসলে সেজে উঠছেন মা, রাধাগোবিন্দ ধামে উমা এবার শস্যশ্যামলা বসুন্ধরার প্রতীক

নিজস্ব প্রতিনিধি:  বাংলাদেশ বাঙালির দেশ। এদেশে যত সংখ্যক জনসংখ্যা রয়েছে তার বেশ খানিকটা অংশ বাঙালি হিন্দু। আর হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো, তাই বাংলাদেশেও দুর্গাপুজো পালিত হয় মহাসমারোহে। চলতি বছর নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষপাড়ার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গা মন্দিরের প্রতিমায় আসছে নতুনত্ব। চিরাচরিত রঙয়ের কাজ বাদ দিয়ে তাঁরা বেছে নিয়েছে ধান্য দুর্গাকে। এবার তাদের দেবী দুর্গা তৈরি হচ্ছে ধান দিয়ে। পুজো আসতে বাকি আর মাত্র ন’দিন, তাই চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। দিন রাত এক করে নাওয়া খাওয়া ভুলে শিল্পীরা তৈরি করে চলেছেন প্রতিমা। ধান দিয়ে তৈরি ধান্য দুর্গা, ফলে এই কাজ অত্যন্ত সুক্ষ্ম। প্রতিমার গায়ে প্রতিটি ধাপে ধাপে একটি একটি করে বসানো হচ্ছে সোনালী রঙের ধান। তার মধ্যে যখন রোদের ছটা পড়ছে মনে হচ্ছে ধানের সোনার ফসল নাম একেবারে সার্থক। ধানের তৈরি প্রতিমা এর আগে এই অঞ্চলে কখনও হয়নি। স্বভাবতই এবার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ধাম দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা নিয়ে আলোচনা চলছে সকলের মধ্যে।।

প্রতিমা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আসা রাজীব সর্দার। তিনি এবং তাঁর নেতৃত্বে পাঁচজন প্রতিমা শিল্পী মিলে এই কাজ করছেন। গত চার বছর ধরে এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে আসছেন রাজীব। তবে এই প্রথম ধান দিয়ে দুর্গা প্রতিমা গড়ার কাজ করলেন তিনি। বাংলাদেশের যে কয়েকটি জেলায় মহাসমারোহে দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো শরীয়তপুর। এখানে শারদ উৎসব উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী এবং অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি হয়। পাশাপাশি এইখানের মণ্ডপগুলি সাজানো হয় বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা দিয়ে। এবার তাতেই যেন উপরি পাওনা হিসেবে যোগ হয়ে ধান্য প্রতিমার।

মন্দির কমিটি বলছে প্রতিমার উচ্চতা হবে ৮ ফুট। তার জন্য ধান লাগছে ১ মন ধান। প্রতিমার মূল কাজ শুরু হয়েছে আড়াই মাস আগে, এখন শুধুমাত্র মূর্তির গায়ে ধান বসানোর কাজ চলছে। ২৫ বছর ধরে দুর্গা প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন রাজীব সর্দার। তাই তাঁর মতো ও অভিজ্ঞ মানুষের ওপর সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে মন্দির কমিটি নিশ্চিন্ত। গত চার বছর ধরে শরীয়তপুরের ঘোষপাড়া মন্দিরে প্রতিমা বানাচ্ছেন তিনি। তিনি তো বটেই, তাঁর সহকারীরাও সকলে জানেন ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। একতা একটা করে ধান নিয়ে প্রতিমার গায়ে বসাতে হয়। অসম্ভব ধৈর্য না থাকলেই কাজ করা কখনোই সম্ভব নয়। কখনও কখনও একটি ধান বসাতে গিয়ে সামান্য নড়ে যায়। ফলে সেটিকে আবার তুলে নতুন করে বসাতে হয়। সমস্ত কষ্ট ভুলে এখন দিনরাত এক করে ধান্য উমা নির্মাণে মনোনিবেশ করেছেন শিল্পীরা

রাধা গোবিন্দ ধাম দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি গোপাল ঘোষ বলেছেন তারা সবসময়ই কিছু ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করেন। এই বছর সেই ব্যতিক্রম হিসেবেই নির্মাণ করা হচ্ছে ধানের প্রতিমা। ফরিদপুর অঞ্চলে এমন প্রতিমা এর আগে কখনও হয়নি। তারা আশা করছেন ধান্য প্রতিমা দেখতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

কোকাকোলার আগেই ভারতের কোল্ড ড্রিঙ্ক, ইতিহাসের সাক্ষী ‘আর্ডিস’

র‍্যাম্প থেকে যুদ্ধক্ষেত্র! ‘মিস ইন্ডিয়া’ কাশিশ এখন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট

তেলের ভান্ডার শূন্যের পথে, জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশে স্থগিত নির্বাচন

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ভারত-সহ বিশ্বের ৫০ কোটি শিশুর ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা

মৌলবাদীদের ফতোয়া উপেক্ষা করে ঢাকায় পয়লা বৈশাখে বের হল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

রহস্যময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ৫গোপন তথ্য, জানলে অবাক হবেন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ