দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

Kedarnath Temple: প্রাচীন দেবভূমির রক্ষাকর্তা স্বয়ং দেবাদিদেব…জেনে নিন কেদারনাথের অজানা ইতিহাস

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের মধ্যে মহেশ্বরই হলেন আদি, অনন্ত। তিনিই সকল দেবতার দেবতা। তিনিই  দেবাদিদেব। প্রাচীন বিশ্বাস অনুসারে উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতে অবস্থিত চোরাবাড়ি হিমবাহের কাছে মন্দাকিনী নদীর তীরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৫৮৩ মিটার উপরে তাঁর অন্যতম প্রাচীন মন্দির কেদারনাথ। এই মন্দির ভারতের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম। জনশ্রুতি, এই মন্দিরের রক্ষাকর্তা স্বয়ং মহাদেব। মহাভারতেও এই মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে।

কেদারনাথ মন্দির এমন এক জায়গায় অবস্থিত, যেখানে প্রবল ঠান্ডার কারণে বছরে ৬ মাস মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় আর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দ্বার। কেদারনাথ মন্দিরে যাওয়ার জন্য কোনও সড়কপথ নেই। ২০১৩ সালের ১৬ এবং ১৭ই জুন কেদারনাথে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে গৌরীকুণ্ড থেকে ১৪ কিলোমিটার পথ পাহাড়ি চড়াই পথে ট্রেকিং করে পুণ্যার্থীদের মন্দিরে যেতে হত। তবে বর্তমানে শোনপ্রয়াগ থেকে হাঁটতে হয়। জেনে রাখা ভাল যে, শোনপ্রয়াগ থেকে গৌরীকুণ্ড চার কিমি, আবার গৌরীকুণ্ড থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে ভীমবলি, সেখান থেকে আট কিমি দূরে লিঞ্চোলি। আর লিঞ্চোলি থেকে আরও পাঁচ কিলোমিটার গেলে কেদারনাথ। অর্থাৎ এখন মোট সাড়ে তেইশ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়।

কথিত আছে, পঞ্চপাণ্ডব এখানে তপস্যা করে দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করেছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষে জ্ঞাতি হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে পঞ্চ পাণ্ডব তীর্থ দর্শন করতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় তাঁরা কাশীতে এসে জানতে পারেন যে, ভগবান শিব তাঁদের দর্শন না দেওয়ার জন্য পাহাড়ের কোলে আত্মগোপন করেছেন। সেখানে তিনি এক মহিষের ছদ্মবেশে লুকিয়ে রয়েছেন। খুঁজতে খুঁজতে দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীম গৌরিকুণ্ডের কাছে সেই ছদ্মবেশী মহিষকে মাটিতে মিশে যেতে দেখে সেই মহিষের কুঁজ জাপটে ধরেন। এইভাবে দীর্ঘক্ষণ সময় পেরিয়ে মাটি ভেদ করে আবির্ভূত হয়েছিলেন মহিষরূপী মহাদেব। তিনিই হলেন কেদারনাথ। তাই কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ দেখতে মহিষের পিঠের কুঁজের মতো।

মতান্তরে, মহিষ বেশধারী মহাদেব ভীমের গদার আঘাতে মোট পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত হয়েছিলেন । কেদারনাথ ছাড়াও বাকী শিবলিঙ্গ গুলি হল – তুঙ্গনাথ, রুন্দ্রনাথ, মদমহেশ্বর, কল্পেশ্বর – যা “পঞ্চকেদার” নামেও পরিচিত। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড; তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ অর্থাৎ, কেদারখণ্ডের অধিপতি রূপে পূজা করা হয়।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় একটি অতিকায় পাথর খন্ড এসে মূল মন্দিররে পেছনে এসে থমকে যায়। যা পাহাড় থেকে আসা নুড়ি পাথর যুক্ত জলকে মন্দিরের কোন ক্ষতি করতে দেয়নি। সেই পাথরকে এখন মহেশ্বর শিবেরই অংশ রূপেই পূজা করা হয়। এই প্রাচীন মন্দির দর্শনের জন্য় দেশ-বিদেশ থেকে অগণিত তীর্থযাত্রী ও পর্যটক ভিড় করেন।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, গ্রাহকদের টাকা সুরক্ষিত?

মুখ্যমন্ত্রীর ফোন ধরলেন না আপ ছেড়ে বিজেপিমুখী হরভজন সিংহ

লখনউয়ের গুরুকুলে ১১ বছরের ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার অধ্যক্ষ ও তাঁর প্রেমিকা

হানা দিয়েছিল ইডি, রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিজেপিতে সামিল হলেন অশোক মিত্তালও

শেয়ার বাজারে অব্যাহত রক্তক্ষরণ, ১০০০ সূচক কমল সেনসেক্স

জগন্নাথ দেবের মন্দিরের প্রহরী খুন! উধাও দানবাক্সের টাকা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ