জেনে নিন সপ্ত মাতৃকার অন্যতম ইন্দ্র পত্নী ঐন্দ্রীর অজানা কাহিনি

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ভারতীয় পুরাণে সপ্ত মাতৃকার মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেবী ইন্দ্রাণী (संस्कृत: इन्द्राणी), যিনি শচী নামেও পরিচিত। তিনি হিন্দু ধর্মের প্রাচীন দেবীমণ্ডলীর একজন উল্লেখযোগ্য সদস্য। 07তাঁর নাম ‘ইন্দ্রাণী’ এসেছে ‘ইন্দ্র’-এর স্ত্রী বোঝাতে; আর ‘শচী’ শব্দের অর্থ বক্তৃতা, বাকপটুতা বা একান্ত সৌন্দর্য, যা তাঁর গৌরবান্বিত রূপ ও মনোহর স্বভাবকে প্রকাশ করে।

ব্যুৎপত্তি ও নামসমূহ

ইন্দ্রাণী নামে দেবীকে সাধারণত ইন্দ্রের স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ঠিক যেমন অন্যান্য প্রাচীন দেবীর নামও তাঁদের স্বামীর নাম থেকেই উদ্ভূত। তবে এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়—ইন্দ্র স্বয়ং ‘শচীপতি’, ‘শচীবত’, বা ‘শচীর ইন্দ্র’ নামে পরিচিত। এ থেকে বোঝা যায়, শচী কেবল ইন্দ্রের সহধর্মিণীই নন, বরং তাঁর এক বিশিষ্ট সত্তা।

জানা যায়, দেবী শচী পৌলমী বা পুলোমজা নামেও পরিচিত, যা তাঁর অসুর পিতার নাম পুলোমার উল্লেখ করে। আরও কিছু জনপ্রিয় উপাধি হলো—ঐন্দ্রী (ইন্দ্রের স্ত্রী), মহেন্দ্রাণী (মহেন্দ্রের স্ত্রী), দেবরানি (দেবরাজের স্ত্রী), এবং চারুধারা (সুন্দরী রমণী)।

বৈদিক ও ব্রাহ্মণ সাহিত্যে ইন্দ্রাণী

পৌরাণিক গ্রন্থ মতে, দেবী ইন্দ্রাণীর উল্লেখ সর্বপ্রথম পাওয়া যায় ঋগ্বেদে। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে রচিত এই গ্রন্থে ইন্দ্রাণীকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঋগ্বেদের ১০.৬৮ এবং ১০.১৫৯ সূক্তে তাঁর সৌন্দর্য, ঈর্ষা ও গর্বের উল্লেখ আছে। একটি সূক্তে বলা হয়েছে, ইন্দ্রাণী এতটাই সৌভাগ্যবতী যে তাঁর স্বামী ইন্দ্র বার্ধক্যে উপনীত হন না, মৃত্যুর বশেও পড়েন না।

তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ও শতপথ ব্রাহ্মণে তাঁকে ইন্দ্রের প্রিয়তমা এবং নির্বাচিতা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ অনুযায়ী, দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর সৌন্দর্য ও কামনাময় আচরণের জন্যই শচীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন। এ থেকেই বোঝা যায়, ইন্দ্রাণী নিছক পরিজন নন, তিনি নিজেই একটি সৌন্দর্য ও শক্তির প্রতিমূর্তি।

ঋগ্বেদের একটি স্তোত্রে তাঁকে ইন্দ্রের বৃষকাপি নামক বনমানুষ পোষা নিয়ে বিরক্ত হতে দেখা যায়। এই দ্বন্দ্বমান রস, ইন্দ্রাণীর মানবিক আবেগপ্রবণ দিককে তুলে ধরে এবং দেবদম্পতির সম্পর্ককে বাস্তব ও স্পর্শযোগ্য করে তোলে।

পৌরাণিক কাহিনি ও দেবতাসমূহে ভূমিকা

পুরাণসমূহে, বিশেষত মহাভারত ও রামায়ণ-এ শচী বা ইন্দ্রাণীর প্রসঙ্গ আরও বিস্তৃত হয়েছে। মহাভারতে আছে, ইন্দ্র অজ্ঞাতবাসে থাকা অবস্থায় রাজা নহুষ ইন্দ্রাণীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেয়। ইন্দ্রাণী, দেবগুরু বৃহস্পতির সাহায্যে তাঁর মান রক্ষা করেন। এই কাহিনির মাধ্যমে তাঁর সতীত্ব ও কৌশলের পরিচয় মেলে।

কালিকাপুরাণে ইন্দ্রাণী অষ্টমাতৃকার অন্যতমা ‘ঐন্দ্রী’ নামে পূজিতা হন। তিনি সপ্তমাতৃকা শক্তিসমূহের মধ্যে একা ইন্দ্রীয় শক্তির প্রতীক। তাঁর বাহন গজ, তাঁর হাতে থাকে বজ্র। এই কারণে তিনি ‘গজবাহনা’, ‘বজ্রহস্তা’ নামেও পরিচিত। তাঁর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—সহস্রনয়ন বা এক হাজার চোখ, যা তাঁকে অসীম দ্রষ্টৃত্ব ও সর্বজ্ঞতার প্রতীক করে তোলে।

পূজা ও উপাসনা

ইন্দ্রাণীকে সাধারণত স্বতন্ত্র দেবী হিসেবে পূজা করা হয় না। তিনি অধিকাংশ সময় ইন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে পূজিত হন। তবে শাক্ত ধর্মের তান্ত্রিক উপাসনায়, বিশেষ করে মাতৃকা পূজায়, তিনি ‘ঐন্দ্রী’ রূপে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেন। দেবীচরিত বা তন্ত্রশাস্ত্রে তাঁর স্বরূপ তেজস্বিনী ও শৌর্যশালিনী।

অন্যান্য ধর্মীয় পাঠ ও সংস্করণ

জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মেও দেবী ইন্দ্রাণীর উল্লেখ রয়েছে। বৌদ্ধ সাহিত্যে তাঁকে দেবরাজ ইন্দ্র (শক্র/শক্রদেব) এর সঙ্গিনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্থান মূলত স্বর্গীয় সভ্যতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে। জৈন গ্রন্থে তাঁকে কখনও কখনও ঐশ্বরিক নারী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে যিনি স্বর্গীয় রাজত্বে বাস করেন।

পরিবার ও সন্তান

পুরাণ অনুসারে, ইন্দ্র ও শচীর তিন পুত্র—জয়ন্ত, ঋষভ, এবং মধুষ। তাঁদের একটি কন্যাও ছিল, যার নাম ছিল জয়ন্তী। জয়ন্তের উল্লেখ বিশেষভাবে মহাভারতে এবং রামায়ণে ইন্দ্রদূত বা দূতরূপে পাওয়া যায়।

নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, দেবী ইন্দ্রাণী একদিকে যেমন ইন্দ্রের সহধর্মিণী, তেমনি নিজেই এক স্বতন্ত্র, শক্তিসম্পন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ দেবীসত্তা। তিনি শৌর্য, সৌন্দর্য ও শক্তির রূপ। বৈদিক যুগ থেকে শাক্ত তন্ত্রধারা পর্যন্ত, দেবী ইন্দ্রাণী বারবার বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়েছেন, এবং ভারতীয় ধর্মতত্ত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।

‘গরমিল ধরা পড়লে কাউকে ছাড়া হবে না’, ঝাড়গ্রাম থেকে হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের

খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের রিপোর্ট পেশ, নজরে ১২টি সীমান্তবর্তী জেলা

ডেঙ্গু রোধে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের! বদলাচ্ছে সরকারি স্কুলের ইউনিফর্ম

‘ম্যাজিস্ট্রেটই গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন’, রাহুলের ‘জ্ঞান’ নিয়ে খোঁচা জিতেন্দ্র’র

ধন্য অধ্যবসায়! ৪১৩ দিন ধরে দণ্ডি কেটে অমরনাথে পৌঁছলেন উত্তরপ্রদেশের ভক্ত

টমেটো দিয়ে সাজিয়ে অভিনব কায়দায় কয়লা পাচার, গাড়ি উল্টোতেই পর্দাফাঁস

মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ফের রহস্যমৃত্যু খড়্গপুর IIT-তে ,উদ্ধার অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ

জিটিএ-র দায়িত্বে বিমল-রোশন! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাড়ছে জল্পনা

‘সঙ্ঘই প্রধান শত্রু,’ লোকসভায় জানালেন রাহুল গান্ধি

দুর্নীতির কাদা লেগেছিল গায়ে, মৃত্যুর দু’বছর বাদে ক্লিনচিট পেলেন মনমোহন সিংহ

ভারত-চিনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার

তারকেশ্বরের পর এবার তারাপীঠেও পুষ্পবৃষ্টি, কৌশিকী অমাবস্যায় বিশেষ পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের

জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তাণ্ডব, আইসিসির র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৩০ ধাপ লাফ বৈভবের

জয়পুরিয়া কলেজের পাশে রোহিঙ্গাদের নেশার ঠেক! আতঙ্কে এলাকাবাসী