দর্শনে গিয়েছিলেন মোদি-ও, জেনে নিন বাংলাদেশের যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠের অজানা মাহাত্ম্য

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : পূণ্যতীর্থ ভারত ছাড়াও আদ্যাশক্তি দেবী ভগবতী সতীর শক্তিপীঠ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ছড়িয়ে রয়েছে। তেমনই একটি শক্তিপীঠ হল যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠ যা, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান। এটি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রদ্ধেয় শক্তিপীঠগুলোর মধ্যে অন্যতম। কথিত আছে, যেখানে দেবী সতীর করকমল বা পাণিপদ্ম পতিত হয়েছে। ‘যশোরেশ্বরী’ নামের অর্থ “যশোরের দেবী”। জানা যায়, এখানে দেবীর সঙ্গে ভৈরব রূপে অবস্থান করছেন ভৈরব চণ্ড।

শক্তিপীঠ ও পুরাণ-প্রেক্ষিত

শক্তিপীঠ শব্দটি এসেছে দেবী সতীর ত্যাগ ও শিবের প্রলয় নৃত্যের পৌরাণিক কাহিনি থেকে। পুরাণ অনুযায়ী, সতী দেবী তার পিতা রাজা দক্ষের যজ্ঞে অপমানিত হয়ে আত্মাহুতি দেন। মহাদেব শোকে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলে, বিশ্ব ধ্বংসের উপক্রম হয়। তখন বিষ্ণু দেব সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন। এই দেহাংশসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন স্থানে পতিত হয় এবং ওই সব স্থান ‘শক্তিপীঠ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। মোট ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে যশোরেশ্বরী একটি, যেখানে সতীর হাতের তালু বা করকমল পতিত হয়েছিল।

তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থে উল্লেখ আছে

“যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বরী,

চণ্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।”

অর্থাৎ, যশোরে করকমল পতিত হয়েছে, দেবীর নাম যশোরেশ্বরী এবং ভৈরব হলেন চণ্ড। এখানে পুজো করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে লোকবিশ্বাস।

ইতিহাস ও স্থাপত্য

যশোরেশ্বরী মন্দির নির্মাণের নির্ভরযোগ্য সময়কাল জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, এটি প্রাচীনকালে আনারি নামের এক ব্রাহ্মণ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি মন্দিরে ১০০টি দরজা নির্মাণ করেছিলেন বলে কথিত আছে। পরবর্তীতে লক্ষ্মণ সেন এবং মহারাজা প্রতাপাদিত্য তাদের শাসনকালে মন্দিরটি সংস্কার করেন।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি একদিন জঙ্গলের ভিতর একটি আলোকরেখা একটি পাথরে পড়তে দেখেন, যার আকার ছিল হাতের তালুর মতো। এটি অলৌকিক ঘটনা মনে করে প্রতাপাদিত্য কালীর পূজা শুরু করেন এবং এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

এছাড়া ইতিহাসে আরও একটি দিক উঠে আসে—মোগল সেনাপতি মান সিংহ এই কালী মন্দির পরিদর্শনের অজুহাতে প্রতাপাদিত্যের দুর্গের নকশা জেনে নেন এবং পরে আক্রমণ করে দুর্গ দখল করেন। প্রতাপাদিত্য, তার সেনাপতি এবং পরামর্শদাতা শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বন্দি হন।

মন্দিরটির একটি নাটমন্দির ছিল, যেখান থেকে দেবীর মুখমণ্ডল দেখা যেত। ধারণা করা হয় এটি ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল, কিন্তু ১৯৭১ সালের পর তা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে এর কেবলমাত্র কিছু স্তম্ভ অবশিষ্ট আছে।

দেবীর মূর্তি ও পূজা-পদ্ধতি

মন্দিরের মূল বেদিতে প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির কেবল মুখমণ্ডলই দেখা যায়। বাকি শরীর মখমলে আবৃত থাকে। শ্রীযশোরেশ্বরীর কণ্ঠের নিচে শ্রীহস্ত বা শ্রীচরণ দর্শনসাধ্য নয়। মন্দিরে তান্ত্রিক মতে পূজা হয় এবং বিশেষত শ্যামাপূজা উপলক্ষে এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হন।

প্রতিবছর দীপান্বিতা কালীপুজোয় এখানে মহাযজ্ঞ, মানত, নানা অলংকারে দেবীর অঙ্গরাগ এবং মেলা হয় । কয়েকদিন ধরে চলা এই আয়োজনে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়, এমনকি ছাগবলি দেওয়ার রীতিও পালিত হয়।

আধুনিক সমস্যাবলী

একসময় মন্দিরটির চারপাশে সুদৃঢ় প্রাচীর, বিশাল নাটমন্দির, নওবতখানা ছিল। মন্দিরটি ছিল জমিদার বাড়ির মধ্যে অবস্থিত, এবং তৎকালীন জমিদার প্রায় ২০০ বিঘা জমি মায়ের নামে দান করেছিলেন। আজকের দিনে সেই জমি ভূমিদস্যুদের কবলে পড়েছে। প্রভাবশালীরা ভুয়া দলিল বানিয়ে মন্দিরের জমি দখল করে নিয়েছে।

মন্দিরের দেওয়াল এখন ভেঙে পড়ছে, নাটমন্দির ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শতবর্ষ প্রাচীন স্তম্ভগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষ্য বহন করে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তেমনি ভক্তদের নিরাপত্তাও প্রশ্নবিদ্ধ।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

যশোরেশ্বরী কালী মন্দির শুধু হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থল নয়, এটি বাংলাদেশ ও বৃহৎ ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শন। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটক এই মন্দির দর্শনে আসেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই পবিত্র স্থানে পূজা-অর্চনা করলে দেবী সন্তুষ্ট হন ও মনোবাসনা পূর্ণ করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, সতীর দেহের যেসব খণ্ড পতিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে পাঁচটি শক্তিপীঠ অবস্থিত। যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠ তাদের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক ভক্তসমাগম পূর্ণস্থান।

সাতসকালে নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে বাজি বিস্ফোরণ, আতঙ্কে কাঁপল গোটা এলাকা

অমরনাথ যাত্রায় দুর্ঘটনা, খাদে বাস উল্টে আহত ৩০ পুণ্যার্থী

‘সেই চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে…’, অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে কড়া বার্তা দিলীপের

অমরনাথ যাত্রার সময় বড় দুর্ঘটনা, সোনমার্গে খাদে পড়ল তীর্থযাত্রী বোঝাই বাস

গ্রামে ঢুকে একের পর এক বাড়িতে আগুন, তারপর নির্বিচারে গুলি! শিশুসহ নিহত ৩০

প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন চমক, প্রকাশ্যে এল Oppo A7 Pro Max-এর প্রথম ঝলক

শক্তিশালী নিম্নচাপের প্রভাবে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতাসহ ৮ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভয়াবহ ঘটনা, পাকিস্তানি সেনার নৃশংসতায় নিহত ৯

নিশানায় ভারত! লাদাখ-অরুণাচল সীমান্তে ১১টি ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন চিনের

জনপ্রিয় গান নিয়ে রিল বানিয়ে তারেক সরকারের রোষানলে হিন্দু শিক্ষিকা

কারুরে পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারি চাকরির নির্দেশিকা বাতিল মাদ্রাজ হাইকোর্টের

ঢাকার সাভারে চলন্ত বাসেই মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেফতার চালক-সহ তিন

কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতলেন ভারোত্তোলক জ্ঞানেশ্বরী যাদব

প্রতিবেশীর বাড়িতে খাওয়ার অপরাধে পাষণ্ড মায়ের বেদম মারে মৃত্যু মেয়ের