চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জেনে নিন, কী ভাবে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নর পরবর্তী জন্মে মুক্তি লাভ হয়েছিল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় পুরাণে এমন অনেক কাহিনি রয়েছে, যেগুলি মূলত মোক্ষ লাভের। তেমনই একটি প্রাচীন কাহিনি হল গজেন্দ্র মোক্ষ, যা হিন্দু পুরাণের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী গাঁথা। এই কাহিনি ভক্তি, আত্মসমর্পণ এবং ভগবানের করুণার চূড়ান্ত নিদর্শন। এই কাহিনির মূল চরিত্র গজেন্দ্র নামক এক প্রতাপশালী হাতি, যিনি ঈশ্বরের একান্ত শরণাপন্ন হয়ে মোক্ষ বা মুক্তি লাভ করেছিলেন।

ভাগবত পুরাণের অষ্টম স্কন্ধে বর্ণিত কাহিনি থেকে জানতে পারা যায়, গজেন্দ্র আগের জন্মে ছিলেন মহান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন, যিনি বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। একদিন ঋষি অগস্ত্য রাজার কাছে দেখা করতে আসেন, কিন্তু রাজা ধ্যানমগ্ন ছিলেন বলে ঋষিকে উপযুক্ত সম্মান জানিয়ে স্বাগত জানাননি। এতে অগস্ত্য ক্রুদ্ধ হয়ে রাজাকে অভিশাপ দেন যে, তিনি পরবর্তী জন্মে হাতি রূপে জন্মাবেন এবং অহংকারের কারণে যে শিক্ষা পেতে হয়, তা শিখবেন। সেই অভিশাপেই ইন্দ্রদ্যুম্ন পরবর্তী জন্মে গজেন্দ্র নামে হাতি হয়ে জন্মগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে, কুমিরও তার পূর্বজন্মে হুহু নামে এক গন্ধর্ব রাজা ছিলেন। একবার তিনি ঋষি দেবলের সঙ্গে নদীতে স্নান করছিলেন। মজার ছলে হুহু ঋষির পা ধরে টান দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঋষি দেবল তাঁকে কুমির হওয়ার অভিশাপ দেন, কিন্তু সঙ্গে আশ্বাসও দেন যে, একদিন ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং তাঁকে এই অভিশাপমুক্ত করবেন।

কিংবদন্তি অনুসারে, একদিন গজেন্দ্র তার হাতির দল নিয়ে একটি হ্রদে জলপান করতে গিয়ে কুমিরের হাতে আক্রান্ত হন। কুমির গজেন্দ্রর পা কামড়ে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গজেন্দ্র তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও নিজেকে মুক্ত করতে পারেননি। দিনের পর দিন চলে যায়, গজেন্দ্র শারীরিকভাবে ক্লান্ত ও অসহায় হয়ে পড়েন। তখন তাঁর মধ্যে জন্মায় ঈশ্বরের প্রতি একান্ত ভক্তি ও আত্মসমর্পণের অনুভূতি। তিনি মন থেকে শ্রীবিষ্ণুর কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন, “হে পরমেশ্বর, আমায় রক্ষা করুন!” এই প্রার্থনাই হলো গজেন্দ্র স্তূতি, যা ভগবান বিষ্ণুর প্রশংসায় রচিত এবং পরবর্তীতে বিষ্ণু সহস্রনামের প্রথম স্তোত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

গজেন্দ্রর এই আকুল আর্তি শুনে শ্রীবিষ্ণু বৈকুণ্ঠ থেকে গরুড়ের পিঠে চড়ে অবিলম্বে সেখানে উপস্থিত হন। তিনি তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে কুমিরের মাথা ছেদ করেন, কুমিরের পূর্বজন্মের অভিশাপের অবসান করেন এবং গজেন্দ্রকে কুমিরের খপ্পর থেকে মুক্ত করেন। এরপর গজেন্দ্রকেও আর্শীবাদ দিয়ে জন্মমৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি দেন এবং তাঁকে মোক্ষ দান করেন।

গজেন্দ্র মোক্ষ কাহিনির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। গজেন্দ্র হলেন মানুষের প্রতীক, যিনি জীবনে নানা পাপ, দুঃখ ও বন্ধনে জড়িয়ে পড়েন। কুমির প্রতীক পাপ ও মায়ার, যা আমাদের সর্বদা নিচে টেনে নিয়ে যায়। হ্রদের কাদা বা ঘোলা জল হল সংসার বা মায়াজাল, যেখানে মানুষ ফেঁসে থাকে। গজেন্দ্রর মতোই মানুষ তখনই মুক্তি পেতে পারে, যখন সে আত্মসমর্পণ করে ঈশ্বরের শরণ নেয়। গজেন্দ্রর প্রার্থনা আমাদের শেখায়, নিঃস্বার্থ ভক্তি ও পরম আত্মসমর্পণেই ঈশ্বরকে পাওয়া যায়।

এই কিংবদন্তি বৈষ্ণবধর্মের এক অপরিহার্য অংশ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরমেশ্বর তাঁর ভক্তের কষ্ট কখনও সহ্য করেন না। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি স্বয়ং অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে রক্ষা করেন এবং পাপের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। তাই গজেন্দ্র মোক্ষ কেবল একটি পৌরাণিক গল্প নয়, বরং এটি আমাদের জীবনের গভীর সত্যকে প্রতিফলিত করে—শুধুমাত্র ঈশ্বরের করুণাই পারে জীবনের বন্ধন কাটিয়ে চিরশান্তি ও মুক্তি দিতে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ