চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ব্রহ্মহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করার অভিপ্রায়ে কৃষ্ণ সৃষ্টি করেছিলেন এই কুণ্ড

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ব্রজধামের লীলাভূমিতে শ্যামকুণ্ডের সৃষ্টি আজও বিস্ময়ের বিস্ময়। যা এক গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই শ্যামকুণ্ড ভক্তি, প্রেম ও ঈশ্বরীয় লীলার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যে বিশেষভাবে পূজিত। তবে কী ভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এই কুণ্ড? পৌরাণিক কাহিনি মতে, একদা মথুরার অত্যাচারী রাজা কংস দেবকী পুত্র কৃষ্ণকে বিনাশের উদ্দেশ্যে অরিষ্টাসুর নামক এক ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অসুরকে প্রেরণ করেছিলেন। অরিষ্টাসুর তখন এক অতি ভয়ঙ্কর ষাঁড়ের রূপ ধারণ করে ব্রজে প্রবেশ করে এবং তার তাণ্ডবে সমগ্র ব্রজবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ অনায়াসে সেই ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করে ব্রজবাসীদের রক্ষা করেন।

তবে অরিষ্টাসুর নিধনের পর শুরু হয় আসল ঘটনা।  রাত্রিকালে বালক শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মোহন বংশীধ্বনি বাজিয়ে গোপীগণকে রাসলীলায় আহ্বান করেন। বংশীর সুরে আকৃষ্ট হয়ে শ্রীমতী রাধারাণী, ললিতা ও অন্যান্য সখীগণ কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে থাকেন। কিন্তু পথিমধ্যে তাঁরা এক গুরুগম্ভীর আলোচনায় লিপ্ত হন। তাঁরা বলেন, কৃষ্ণ আজ ষাঁড়রূপী যে অসুরকে বধ করেছেন, আর শাস্ত্রানুসারে গোহত্যা, যা এক গুরুতর পাপ। রাজার পাপে প্রজাগণও যেমন অংশীদার হন—তেমনই ব্রজের অধিবাসীরাও কৃষ্ণের সেই পাপের স্পর্শে দূষিত হতে পারেন। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে এই বিষয়ে কোনও প্রায়শ্চিত্ত প্রয়োজন।

রাধারাণী তখন কৃষ্ণের নিকটে এসে মৃদু কৌতুকে বলেন, “হে ষাঁড় নিধনকারী! আজ তুমি আমাদের স্পর্শ করো না।” কৃষ্ণ তখন ব্যাখ্যা করেন যে, অরিষ্টাসুর প্রকৃতপক্ষে কোনও সাধারণ ষাঁড় ছিল না। বরং এক ভয়ানক অসুর, যে ষাঁড়ের রূপ ধারণ করে ব্রজবাসীদের ক্ষতি করতে এসেছিল। কিন্তু রাধারাণী যুক্তি দিয়ে বলেন, বৃত্রাসুরও অসুর হয়েও ইন্দ্রের হাতে নিহত হয়ে ব্রহ্মহত্যার পাপের কারণ হয়েছিলেন; সুতরাং ষাঁড়রূপে বধ হওয়ায় কৃষ্ণেরও  ব্রহ্মহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করা উচিত।

এই প্রেমময় বাক্যবিনিময়ে কৃষ্ণ লীলাবিনম্র হয়ে রাধারাণীর কাছে সমাধান জানতে চান। তখন রাধা ও সখীগণ বলেন, শাস্ত্রমতে এই পাপ থেকে মুক্তির জন্য সমস্ত পবিত্র তীর্থে স্নান করতে হয়। কৃষ্ণ তখন দিব্য হাস্যে ঘোষণা করেন যে, তাঁকে ত্রিভুবনের সকল তীর্থে গমন করতে হবে না। বরং তিনি এখানেই সকল তীর্থকে আহ্বান করবেন। এই বলে তিনি তাঁর বামপদের গোড়ালি দ্বারা ভূমিতে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে এক গভীর কুণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং পাতাললোক হতে দেবী গঙ্গা সহ অসংখ্য পবিত্র তীর্থ সেই কুণ্ডে আবির্ভূত হন। কৃষ্ণ তাঁদের আহ্বান করলে যমুনা, সরস্বতী, সিন্ধু, কাবেরী, পুষ্কর এবং তীর্থরাজ প্রয়াগসহ সকল তীর্থ ঐ কুণ্ডে প্রবেশ করে তাকে সর্বতীর্থময় পবিত্র জলে পরিপূর্ণ করে তোলে। এই কুণ্ডই পরবর্তীকালে “শ্যামকুণ্ড” নামে প্রসিদ্ধ হয়।

কৃষ্ণ সেই কুণ্ডে স্নান করে ঘোষণা করেন যে, তিনি সর্বতীর্থজলে অবগাহন করে পাপমুক্ত হয়েছেন। কিন্তু গোপীগণ তাঁর কথায় সহজে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের মতে, কৃষ্ণের পদাঘাতে সৃষ্ট কুণ্ড শুভ সূচনার প্রতীক নয় এবং কৃষ্ণের স্নানে জল দূষিতও হতে পারে। তখন কৃষ্ণের আহ্বানে মূর্তিমান তীর্থগণ স্বরূপে আবির্ভূত হয়ে নিজেদের পরিচয় প্রদান করেন এবং বৃন্দাবনবিলাসিনী রাধারাণীর সম্মুখে প্রণতি নিবেদন করেন। এতে প্রমাণিত হয় যে কুণ্ডটি সত্যিই সর্বতীর্থসমন্বিত পবিত্র তীর্থ।

এই দেখে তখন রাধারাণী নিজস্ব কুণ্ড সৃষ্টির সংকল্প গ্রহণ করেন। অরিষ্টাসুরের খুরচিহ্নযুক্ত এক স্থানে তিনি তাঁর হাতের কঙ্কন খুলে ভূমি খনন করতে শুরু করেন এবং সখীগণও তাঁকে সহায়তা করেন। অল্প সময়েই একটি মনোরম কুণ্ড সৃষ্টি হয়, যা “কঙ্কন কুণ্ড” নামে পরিচিতি পায় এবং  পরবর্তীকালে সেই কুণ্ডটিই রাধাকুণ্ড নামে খ্যাত হয়। অতঃপর শ্রীরাধা কুণ্ড ভরাট করার জন্য জলের চিন্তা করলে কৃষ্ণ তীর্থসমূহকে রাধাকুণ্ডে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন এবং তিনি নিজেই তাঁর বাঁশির দ্বারা দুই কুণ্ডের মধ্যবর্তী বাঁধ ভেঙে শ্যামকুণ্ডের পবিত্র জল রাধাকুণ্ডে প্রবাহিত করেন।

কার্তিক মাসের বহুলাষ্টমী তিথিতে শ্রীমতী রাধারাণীর কুণ্ডে প্রবেশ ও কৃষ্ণের সেখানে স্নান এই লীলাকে চিরস্মরণীয় করে তোলে। শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে জানান যে, এরপর থেকে তিনি রোজই রাধাকুণ্ডেই স্নান করবেন। সেই থেকে শ্যামকুণ্ড পাপমোচন ও সর্বতীর্থমহিমার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে এবং রাধাকুণ্ড কৃষ্ণপ্রেম ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে  ভক্তসমাজে সর্বাধিক পবিত্র তীর্থগুলির অন্যতম হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

ডেটিং অ্যাপে সঙ্গী নয়, চাকরি খুঁজছেন অনেকেই! ভাইরাল নতুন ট্রেন্ড

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ