চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

জানেন কী, শিবের শাপে কলিতে জন্ম হয়েছিল পঞ্চপাণ্ডবের ?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: মহাভারতের মুখ্য চরিত্র পঞ্চ পাণ্ডবের এমন অসংখ্য কাহিনি আছে, যা আজও বহু মানুষের জানার নাগালের বাইরে। ভবিষ্য পুরাণে বর্ণিত কাহিনি থেকে জানা যায়, মহাভারত-এর কুরুক্ষেত্রের ১৮ দিনের মহা সমর যখন প্রায় সমাপ্তির পথে, তখন কৌরববংশ প্রায় নিশ্চিহ্ন বললেই চলে। এই সংকটময় সময়ে দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামা দুর্যোধনকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি রাত্রিবেলায় একাই পঞ্চপাণ্ডবকে বধ করবেন। যদিও তখন রাত্রিকালীন যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল, তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনুমতি দেওয়া হয় অশ্বত্থামাকে। এমন সময় পাণ্ডবদের বিপদের আশঙ্কায় শ্রীকৃষ্ণ মহাদেবের শরণাপন্ন হন। তাঁর প্রার্থনায় শিব পাণ্ডব শিবির রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিশ্চিন্ত হয়ে কৃষ্ণ অন্যত্র গমন করেন এবং পাণ্ডবগণ সরস্বতী নদীর তীরে রাত্রিযাপন করতে যান।

এরপর গভীর রাতে অশ্বত্থামা পাণ্ডব শিবিরে প্রবেশ করতে এলে দেখেন, ত্রিশূলধারী স্বয়ং মহাদেব দ্বারে প্রহরায় রত। তিনি শিবস্তব আরম্ভ করলে সহজ প্রসন্ন মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে শিবিরে প্রবেশের অনুমতি দেন এবং একখানি তলোয়ার প্রদান করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি তখন তিনি অনুধাবন করেননি। শিবিরে প্রবেশ করে অশ্বত্থামা দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রকে পঞ্চপাণ্ডব ভেবে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

পরদিন সকালে এই করুণ সংবাদ পেয়ে পাণ্ডবগণ শোকে ও ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে দেবাদিদেবকে আক্রমণ করেন। তাঁরা যত অস্ত্র নিক্ষেপ করেন, শিব তা গ্রহণ করেন। ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব ক্রুদ্ধ হয়ে শারীরিক আঘাত করলেও জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির একমাত্র সংযম রক্ষা করেন। এই অবমাননায় শিব ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁদের অভিশাপ দেন—কলিযুগে তাঁদের এই অপরাধের ফল ভোগ করতে হবে। পরে কৃষ্ণের অনুরোধে শিব অস্ত্র ফিরিয়ে দিলেও উচ্চারিত শাপ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করেননি।

শিব ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে কলিযুগে পাণ্ডবদের বিভিন্ন রূপে পুনর্জন্ম হবে । যুধিষ্ঠির বৎসরাজের পুত্র বলখানি হয়ে জন্ম নেবেন এবং শিরীষপুরের রাজা হবেন। দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীম ম্লেচ্ছকুলে বীরণ নামে জন্মাবেন। অর্জুন পরিমলের পুত্র ব্রহ্মানন্দ রূপে খ্যাত হবেন। নকুল কান্যকুব্জের রাজা রত্নভানুর পুত্র লক্ষ্মণ নামে জন্ম নেবেন এবং সহদেব রাজা ভীমসিংহের পুত্র দেবসিংহ নামে পরিচিত হবেন। এমনকি ধৃতরাষ্ট্রও আজমীরে পৃথ্বীরাজ নামে জন্মগ্রহণ করবেন এবং দ্রৌপদী তাঁর কন্যারূপে আবির্ভূত হবেন। কৃষ্ণও ঘোষণা করেন যে, কলিতে তিনি উদয়সিংহ রূপে অবতীর্ণ হবেন এবং মায়াবতী নামে এক রমণীয় পুরী প্রতিষ্ঠা করবেন।

আসলে এই সকল পূর্বনির্ধারিত কাহিনি প্রতীকধর্মী ও পুরাণোত্তর ঐতিহ্যের অন্তর্গত। এখানে অভিশাপ, পুনর্জন্ম ও কর্মফলের ধারণা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। দেবতা ও মানবের সম্পর্ক, ভক্তি ও অবমাননার ফল, এবং ধর্মনীতির সূক্ষ্ম তাৎপর্য এই উপাখ্যানে সুস্পষ্ট। কলিকালে পাণ্ডবদের পুনর্জন্মের আখ্যান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ধর্মচ্যুতি বা অবিবেচনাপ্রসূত আচরণের ফল অবশ্যম্ভাবী; কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় সেই ফলও ন্যায়, নীতি ও বিশ্বস্ততার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হয়ে ওঠে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

সার্কাস প্রদর্শনী থেকে লাফ দিয়ে দর্শকদের কাছে ছুটে গেল বাঘ, তারপর….

ইসরো-র ‘যুবিকা’ কর্মসূচিতে সুযোগ পেল বালুরঘাটের অভ্র, দেশে র‍্যাঙ্ক ১৭৬

উপেক্ষার বদলা! প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’,অনাহারে দিন কাটছে ৯৪ বছরের বাউল শিল্পীর

অক্ষয় তৃতীয়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার শুভ লগ্ন কখন শুরু?জানুন সময়সূচি

৯ কোটি টাকায় নিলাম টাইটানিকের ‘বেঁচে যাওয়া’ এক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ