আত্মসম্মান রক্ষার্থে রুদ্ররূপ নিয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের অর্ধাঙ্গিনী

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়:  লক্ষ্মী, সরস্বতী, দুর্গা, কালী সকলেই আদ্যাশক্তি মহামায়ার রূপ। তিনি কখনও যেমন শান্ত, ধীর- স্থির, কখনও বা তিনি ক্রোধোন্মত্ত ভয়ঙ্করী রণচণ্ডী। ভারতীয় আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম মাতৃমূর্তি যুগপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সহধর্মিনী মা সারদাও পরমাপ্রকৃতি মাতৃকার এমন ভিন্ন রূপের ব্যতিক্রমী ছিলেন না। যেখানে তাঁর নাম উচ্চারণ করলেই মনে এক শান্ত, সহনশীলা ও দয়াময়ী মাতৃমূর্তি ভেসে ওঠে, সেখানে তিনি একবার আত্মরক্ষার প্রয়োজনে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন-যা’র প্রামাণ্য তথ্য ‘শ্রী শ্রী মায়ের কথা’ (The Gospel of the Holy Mother)-র মত রামকৃষ্ণ মিশনের প্রামাণ্য বইতে পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত নানা তথ্যানুসারে, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের মহাপ্রয়াণের পর মা সারদা কামারপুকুরে অত্যন্ত কষ্ট ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। সেই সময় ঠাকুরের এক ভক্ত হরিশ কুণ্ডু, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিকারগ্রস্ত অবস্থায় গ্রামে অবস্থান করছিল। একদিন সুযোগ বুঝে সে মা সারদার উপর কুনজর দেয় এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর দিকে ধেয়ে আসে। প্রথমে ভীত হয়ে মা সারদা আত্মরক্ষার জন্য উঠোনে ধানের মরাইয়ের চারপাশে দৌড়াতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি উপলব্ধি করেন যে পালিয়ে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। তখনই ঘটে তাঁর অভাবনীয় রূপান্তর। তিনি হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রবল সাহস ও শক্তি নিয়ে হরিশকে প্রতিরোধ করেন। প্রচণ্ড শক্তিতে উন্মাদ হরিশকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার বুকের ওপর হাঁটু দিয়ে চেপে বসে, সপাটে চড় মারেন ও তার জিভ টেনে ধরেন! তাঁর ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি দেখে হরিশের সম্বিত ফিরে এলে সে ভয় পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীকালে এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জগজ্জননী মা সারদা নিজেই বলেছিলেন, ‘সেদিন আমার হাতের আঙুলগুলো লোহার সাঁড়াশির মতো হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল জিভটা টেনেই ছিঁড়ে ফেলি। ওকে এমন চড় মেরেছিলাম যে ও গ্যাঁক গ্যাঁক করে হাঁপাতে লাগল।’ এই ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার দৃষ্টান্ত নয়, বরং নারীশক্তির এক গভীর প্রতীক। সাধারণত মা সারদাকে আমরা ক্ষমা, সহনশীলতা ও মমতার প্রতিমূর্তি হিসেবে জানি; কিন্তু প্রয়োজনে তিনি যে চণ্ডী বা রক্ষাকালীর ন্যায় প্রতিবাদী রূপ ধারণ করতে পারেন, এই ঘটনাই তারই মূর্ত  প্রমাণ।

এই শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নারীর কোমলতা ও সহানুভূতি যেমন তার শক্তি, তেমনি আত্মসম্মান রক্ষার জন্য প্রয়োজনে দৃঢ় ও প্রতিবাদী হওয়াও একান্ত অপরিহার্য। অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা নয়, বরং সঠিক সময়ে রুখে দাঁড়ানোই প্রকৃত সাহসিকতার পরিচয়। সার্বিকভাবে, মা সারদা দেবীর এই ঘটনা আমাদের শেখায়—মানবিকতা ও দয়ার পাশাপাশি আত্মরক্ষার শক্তিও জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। তাঁর জীবন তাই শুধু ভক্তির নয়, আত্মমর্যাদা ও সাহসেরও এক উজ্জ্বল আদর্শ।

চিকেন-মাটন ছাড়া রকমারি সব্জি দিয়ে বানান সুস্বাদু লাহোরি কিমা

রানওয়েতে নামতেই বিস্ফোরণ, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২ পাইলটের

কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা অরূপ বিশ্বাসের, গ্রেফতারি সময়ের অপেক্ষা

সোনা পাপ্পুর মামলায় ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন শ্রেয়া পাণ্ডে

বাংলাদেশকে জোর ধাক্কা দিল শ্রীলঙ্কা সরকার, কী সিদ্ধান্ত নিল?

৩৮-এই সব শেষ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হরিয়ানভি গায়ক পেপসি শর্মা

বিতর্ক নিয়েই বক্সঅফিসে সুনামি! মুক্তির ৪ দিনে বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি আয় ‘পেড্ডি’র

নেপাল সীমান্ত থেকে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করল এসটিএফ

দুর্দিনে মমতার পাশে নেই, রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিচ্ছেন কোয়েল

ফিফা বিশ্বকাপের আগে আতঙ্ক! ইংল্যান্ডের প্রশিক্ষণ শিবিরের কাছে চলল গুলি, আহত ৯

চুক্তি শেষ, মেট্রোপলিটনের ‘তৃণমূল ভবন’ খালি না হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ বাড়ির মালিক

মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নে বেজায় চটলেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকারের মাঝপথে যা করলেন…

হাড়োয়ায় গরু পাচার রুখলেন বিজেপি নেতা, গ্রেফতার ১

আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে মউ সাক্ষর করতে দিল্লিতে শুভেন্দু, কত পরিবার পাবে সুবিধা?