কেন জগন্নাথ মূর্তি শুধু নিমকাঠেই গড়া হয়? জেনে নিন অজানা কারণ

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সেই প্রাচীন কাল থেকে মহাপ্রভু শ্রী শ্রী জগন্নাথের মূর্তি নিমকাঠ দিয়ে গড়া হয়। তাই মহাপ্রভুর শ্রী মূর্তিকে বলা হয় দারুব্রহ্ম। মহাপ্রভুর নিম কাঠের মূর্তি নিয়ে একটি শ্লোকে বলা হয়ে থাকে: “শুক্ল শুভ্র নিম কাঠ করি, জগন্নাথ মূর্তির করি।” অর্থাৎ, নিম কাঠের দ্বারাই জগন্নাথ তৈরী হন, এই রূপেই দেবতাকে ভক্তি করি।” তবে কেন তাঁর মূর্তি তৈরী করতে শুধু মাত্র নিমকাঠই লাগে ? এর নেপথ্যে কী এমন কারণ রয়েছে ?

হিন্দু ধর্মে জগন্নাথদেব এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দেবতা, যিনি জগৎপালক শ্রী বিষ্ণু বা তাঁর অবতার শ্রীকৃষ্ণের এক বিশেষ রূপ হিসেবে পূজিত হন।তা ছাড়া শৈবদের কাছে তিনিই মহাকাল আবার শাক্তদের কাছে তিনিই দক্ষিণাকালী। তাঁর নামের মধ্যেই রয়েছে গভীর দার্শনিক তাৎপর্য — “জগৎ” অর্থাৎ চলমান জগৎ এবং “নাথ” অর্থাৎ প্রভু। অর্থাৎ, জগন্নাথ হলেন “চলমান জগতের প্রভু”। ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে “জগন্নাথ” শব্দটি হল সংস্কৃত তৎপুরুষ সমাস। ‘জগৎ’ শব্দের মূল ধাতু “গম্” অর্থাৎ যা চলে, এবং ‘নাথ’ শব্দের অর্থ আশ্রয় বা প্রভু। এই দুই শব্দ মিলিয়েই  “জগন্নাথ” মানে, চলমান জগতের আশ্রয়দাতা বা প্রভু। ওড়িয়া ভাষায় “জগন্নাথ” থেকে উদ্ভূত “জগা” বা “জগবন্ধু” নাম দুটিও যথেষ্ট জনপ্রিয়। এছাড়া জগন্নাথের মূর্তির গড়ন অনুসারে তার “কাল্য” (অর্থাৎ, “কালো দেবতা” বা “কালের দেবতা”), “দারুব্রহ্ম” (অর্থাৎ, কাষ্ঠরূপী ব্রহ্ম), “দারুদেবতা” (অর্থাৎ, কাঠের দেবতা), “চকাআঁখি”, “চকাডোলা বা “চকানয়ন” (অর্থাৎ, যে দেবতার চোখ গোলাকার) নামও প্রচলিত।

অনেক গবেষক মনে করেন, “জগন্নাথ” শব্দটি আদিতে কোনও আদিবাসী শব্দ থেকে রূপান্তরিত। ওড়িশার শবর উপজাতিরা, যাঁরা বৃক্ষ পূজক, তাঁদের ‘জগনাত’ নামের এক আরাধ্য দেবতা ছিলেন। সেই জগনাত থেকেই “জগন্নাথ” নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকের মত। যদিও এটি সর্বজনগ্রাহ্য নয়, তথাপি “নীলাদ্রি মহোদয়” গ্রন্থে এবং বিশ্বাবসু-বিদ্যাপতি সংক্রান্ত উপাখ্যানে এই ধারণার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

জানা যায়, মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও মাতা সুভদ্রার দারুমূর্তি উড়িষ্যার রাজা ১ম নরসিংহদেবের (১২৩৮-১২৬৪ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালেই প্রথম পূজিত হন। এই তিন বিগ্রহের দারুমূর্তিরূপ উড়িষ্যার গোঁড়া ব্রাহ্মণরাও মেনে নিয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা বিশ্বাস করতেন জগন্নাথদেবের আত্মা বা ব্রহ্মবস্তু একটি অমূল্য শালগ্রাম শিলারূপে তাঁর দারুনির্মিত মূর্তির মধ্যেই লুকানো রয়েছে। আর এই মূর্তির অসম্পূর্ন বহিরঙ্গ উড়িষ্যার শবর উপজাতি পূজিত দারুমূর্তির কথা মনে করিয়ে দেয়।

তাছাড়া, হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত দেব-দেবীর বিগ্রহ নির্মাণতত্ত্ব অনুযায়ী দেবতার দারুমূর্তিরূপ পুজো-অর্চনার যোগ্য। অগ্নিপুরাণ, মৎস্যপুরাণ ও ভাগবতপুরাণের মত প্রাচীন পৌরাণিক গ্রন্থগুলিতে মূর্তি নির্মাণের জন্য সাত ধরনের পদার্থ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে — যার মধ্যে অন্যতম হল “দারু” বা কাঠ। এই জন্যই দারু নির্মিত মূর্তিকে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। তবে, জগন্নাথদেবের দারুমূর্তি কাঠের হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই প্রতি ১২-১৯ বছর অন্তর পালিত হয় “নবকলেবর” উৎসব, যেখানে কমপক্ষে ২৫ বছর বয়সপ্রাপ্ত নিমগাছ থেকে বিগ্রহ তৈরি হয় এবং পুরনো বিগ্রহসমূহ ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতি অনুসারে, নবকলেবরের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে বেছে নেওয়া হয় “দারুব্রহ্ম”, অর্থাৎ যে গাছ থেকে মূর্তি নির্মাণ হবে। সেই গাছকে বিভিন্ন লক্ষণ দেখে শনাক্ত করা হয় এবং তার সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলে গোপনে ও পূর্ণ আচার-বিধি অনুসারে।

লোকশ্রুতি অনুসারে, সোমবংশীয় রাজা যযাতিকেশরী-র চিন্তাধারা থেকেই নিমকাঠ দিয়ে মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের দারুমূর্তি নির্মাণ কাজ শুরু হয় বলে জানা যায়,  কারণ নিম্বদারুতে ঘুণ ধরার কোনো রকম সম্ভাবনা থাকেনা। কিন্তু অন্যান্য কাঠে যে কোনও সময়ে ঘুণ ধরতে পারে।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, জগন্নাথদেব শুধুমাত্র ওড়িশার এক আঞ্চলিক দেবতা নন, বরং তিনি ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক। তাঁর নাম, রূপ, পূজা-পদ্ধতি ও ইতিহাস একত্রিত করে ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদকে। তাঁর কাঠের বিগ্রহ যেমন পুরাতন বিশ্বাসকে ধরে রাখে, তেমনি শবর উপজাতি থেকে শুরু করে ব্রাহ্মণ সমাজ পর্যন্ত সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে একসূত্রে বাঁধে। জগন্নাথ তাই শুধুই দেবতা নন, তিনি হলেন উচ্চ নিচ নির্বিশেষে সকল জাতির সমন্বয়ের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি।

 

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে মর্মান্তিক পরিণতি, ট্রলারের কেবিনে রহস্যজনক মৃত্যু মৎস্যজীবীর

মঙ্গলে বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শুভেন্দুর, একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা

টুলু-কাণ্ডে নয়া মোড়! রাতভোর তল্লাশিতে উদ্ধার একাধিক নথি, গ্রেফতার ৩

সাতসকালেই ব্লু লাইনে সিগন্যালিং ত্রুটি, সমস্যায় নিত্যযাত্রীরা

২৩৮ মিলিয়ন ডলারের ধাক্কা! বিপুল ক্ষতির মুখে ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’

মঙ্গলে ফের ভবানী ভবনে হাজিরা অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের

তারেক রহমানের মাসতুতো দাদার কোটি টাকা ছিনতাই করে চম্পট দুষ্কৃতীদের

মার্কিন স্বামীর শেষ ইচ্ছে পূরণে উত্তরাখণ্ডে হাজির জাপানি পত্নী, সঙ্গে যা নিয়ে এলেন..

বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের ইঙ্গিত, মঙ্গলবার কলকাতা-সহ কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস?

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ

‘তোমাদের খতম করে দেব’, সৌরভ -ডোনাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চিঠি

গ্রামে গ্রামে এবার পৌঁছবে ইন্টারনেট, ৩ বছরের মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবারে জুড়বে বাংলা

ভূমিকম্পের তাণ্ডবে তছনছ কলম্বিয়া! ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে নিখোঁজ ২,০০০-এর বেশি

ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের মিলনক্ষেত্র, ঘুরে আসুন বর্ধমানেশ্বর শিবমন্দির