কামিন্সের শেষ মুহূর্তের জাদুতে রুদ্ধশ্বাস জয়! পাঞ্জাবকে হারিয়ে লিগ টেবিলের দুইয়ে মোহনবাগান, তবে চিন্তায় রাখল মাঝমাঠ

Share:

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে এখন ভোটের হাওয়া। আর সেই উত্তপ্ত ভোট আবহের মাঝেই নিজেদের ঘরের মাঠ, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চিরপরিচিত সবুজ-মেরুন ঝড় তুলতে নেমেছিল মোহনবাগান। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী পাঞ্জাব। এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে, কারণ কোচ লোবেরার লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—ম্যাচ জিতে সরাসরি পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষে ম্যাচ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য অপেক্ষা করছে এক চরম ক্লাইম্যাক্স। আপাতত বিরতিতে স্কোরলাইন ১-১।

ম্যাচের শুরুটা একেবারেই মোহনবাগানের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। প্রথম থেকেই সবুজ-মেরুন শিবিরের খেলায় ছিল এক অদ্ভুত এলোমেলো ভাব। রক্ষণ এবং মাঝমাঠের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট চোখে পড়ছিল। আর সেই সুযোগটাই দারুণভাবে কাজে লাগায় পাঞ্জাব। ম্যাচের মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় ড্যানিয়ালের একটি দুর্দান্ত গোল স্তব্ধ করে দেয় যুবভারতীর গ্যালারিকে। ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে শুরুতেই প্রবল চাপের মুখে পড়ে যায় হোম টিম।

এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাননি কোচ। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় জোড়া পরিবর্তন করে চমক দেন তিনি। মাঠে নামানো হয় ডিমি এবং মেহতাবকে, আর তুলে নেওয়া হয় মনবীর ও আলবার্তোকে। এত তাড়াতাড়ি জোড়া বদল বুঝিয়ে দিচ্ছিল ডাগআউটের চাপ।
পরিবর্তনের পরেও খেলার গতিপ্রকৃতি খুব একটা গুছিয়ে উঠতে পারেনি মোহনবাগান, বেশ কিছুক্ষণ ছন্নছাড়া ফুটবলই চলতে থাকে। তবে মাঝমাঠের সেই এলোমেলো ফুটবলের মাঝেই হঠাৎ জ্বলে ওঠেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস। তাঁর একটি মাপা, দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশ করেন ম্যাক্লারেন। বল সোজা জড়িয়ে যায় পাঞ্জাবের জালে। দুরন্ত এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে মোহনবাগান এবং স্বস্তি ফেরে সমর্থকদের মনে।

সমতায় ফেরার পর দু’দলই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় এবং শারীরিক ফুটবলের নিদর্শন দেখা যায়। ম্যাচের ৪০ মিনিটের মাথায় অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিসকে। ঠিক এক মিনিট পর, ৪১ মিনিটে, পাঞ্জাবের পরমবীরও একই কারণে রেফারির খাতায় নাম তোলেন এবং হলুদ কার্ড দেখেন।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়েও ছিল টানটান উত্তেজনা। ৪৮ মিনিটের মাথায় লিস্টন কোলাসোর একটি নিখুঁত কর্নার থেকে বক্সে বল পেয়ে অসাধারণ দক্ষতায় গোল করেন বদলি হিসেবে নামা ডিমি। গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়লেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রেফারি অফসাইডের বাঁশি বাজান এবং বাতিল হয়ে যায় গোলটি।

 প্রথমার্ধের ১-১ গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিল যুবভারতী। টানটান উত্তেজনার সেই দ্বিতীয়ার্ধে ফুটবলপ্রেমীরা দেখলেন এক চরম নাটকীয় থ্রিলার! ৯১ মিনিটে জেসন কামিন্সের দুর্ধর্ষ ফ্রি-কিক গোলে পাঞ্জাবকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে নিল মোহনবাগান। কোচ লোবেরার লক্ষ্য পূরণ হলো, এই জয়ের সুবাদে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু তিন পয়েন্টের স্বস্তি থাকলেও, দলের রক্ষণ ও মাঝমাঠের কঙ্কালসার চেহারা এদিন বারবার প্রকট হয়ে উঠল, যা জয়ের দিনেও সমর্থকদের মন ভরাতে ব্যর্থ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা প্রথমার্ধের তুলনায় অনেকটাই ধীরলয়ে হয়েছিল। দুই দলই কিছুটা মেপে পা ফেলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ৫৯ মিনিটের মাথায় হঠাৎই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন পাঞ্জাবের নুসুঞ্জি। তাঁর দুর্দান্ত গোলে ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পাঞ্জাব, আর ফের একবার স্তব্ধ হয়ে যায় যুবভারতীর গ্যালারি। লিড ধরে রাখতে ৬২ মিনিটের মাথায় নিজেদের দলে জোড়া বদল করে পাঞ্জাব শিবির। গোল হজম করার পর মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৬৬ মিনিটের মাথায় লিস্টন কোলাসোর একটি মাপা কর্নার থেকে হেড করেছিলেন মেহতাব, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বল গোলের জাল মিস করে বাইরে বেরিয়ে যায়।

সময় ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে দেখে ৬৯ মিনিটের মাথায় বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ লোবেরা। মাঝমাঠ ও আক্রমণে ধার বাড়াতে রবসনের জায়গায় জেসন কামিন্স এবং অনিরুদ্ধ থাপার বদলে সাহাল আব্দুল সামাদকে মাঠে নামান তিনি। কোচের এই ফাটকাই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায়, ৭৩ মিনিটে দিমির একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে দুরন্ত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দেন সাহাল। ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফিরে ফের ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনে হোম টিম।

সমতায় ফিরলেও, খেলা যতই শেষের দিকে এগিয়েছে, মোহনবাগানের মাঝমাঠের দুর্বলতা ততই নগ্ন হয়ে পড়েছে। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন খেলোয়াড়রা। তবে সব দুর্বলতাকে ঢেকে দেয় ইনজুরি টাইমের রোমাঞ্চ।

ম্যাচের একেবারে শেষলগ্নে, ৯১ মিনিটের মাথায় আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে গিয়ে সাহালকে মারাত্মক ট্যাকল করে বসেন পাঞ্জাবের লিকমাবাম। রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান এবং মোহনবাগান একটি ফাউল আদায় করে নেয়। সেই ফাউল থেকে বল পেয়ে জেসন কামিন্সের নেওয়া নিখুঁত ও জোরালো শট সোজা জড়িয়ে যায় পাঞ্জাবের জালে। ফলাফল দাঁড়ায় ৩-২।

এই জাদুকরী জয়ে মোহনবাগান লিগ টেবিলে দ্বিতীয় নম্বরে উঠে এলেও, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন সমর্থকরা। তিন পয়েন্ট হয়তো পকেটে এসেছে, কিন্তু গোটা ম্যাচে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের যে বেহাল দশা বারবার সামনে এসেছে, তা আগামী দিনের জন্য অশনিসংকেত। কোচ লোবেরাকে যে অবিলম্বে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কড়া নজর দিতে হবে এবং ভুলত্রুটি শুধরে নিতে হবে, আজকের ম্যাচ সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল।

ক্যান্সারের কাছে হার মানলেন ‘গজিনি’ অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত

১ অক্টোবর থেকেই সরকারি কর্মীদের বাড়তি ডিএ, নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন

ঝরে পড়া চুল ফেলছেন যেখানে-সেখানে? সংসারে হঠাৎ নেমে আসতে পারে বিপদ

৯০ মিনিট জেরার পরে থানা থেকে ছাড়া পেলেন উদয়নিধি স্ট্যালিন

চিয়া, ফ্ল্যাক্স নাকি ইসবগুল, জেনে নিন ওজন কমাতে কোন ফাইবার শরীরের জন্য উপকারী?

‘তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংস খান’, নাগরিকদের নিদান কিম সরকারের

‘সার্ভের পর আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে টাকা পাবেন ঠিকাদাররা,’ আশ্বাস দিলীপের

বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে জুনিয়র রিসার্চ ফেলো নিয়োগ, জানুন আবেদনের পদ্ধতি

রাত পোহালেই ছয় জেলায় তুমুল বৃষ্টির পূর্বাভাস, জারি সতর্কতা

ফ্রান্সে দাবানলের পর মাটির তলা থেকে উদ্ধার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৪০০টিরও বেশি গোলা

‘রাহানে কখনও প্রাপ্য স্বীকৃতি পাননি’, কেকেআরের প্রাক্তন অধিনায়কের পাশে গাভাসকর

সঞ্চয়ের সর্বস্ব দিয়ে পাইকপাড়ায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, ‘ভিটেছাড়া’র নোটিশ পেল ৩০ পরিবার

প্রীতি জিন্টার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ব্রেট লি, কী বললেন অজি পেসার?

কাজলের গদি টলমল, জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ১৯ তৃণমূল সদস্যের