এই মুহূর্তে

পেটের টানে নেপালে গিয়ে বিপাকে বাংলার ৩০০ পরিযায়ী শ্রমিক, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নেপালে চতুর্থ দিনেও অশান্তি অব্যাহত। কাঠমান্ডুর রাজপথ উত্তাল হয়ে রয়েছে বিক্ষোভে। সেনার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাণ্ডব অব্যাহত। বিক্ষোভের আগুনে পুড়েছে বিপনী থেকে হোটেল। আজ ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে। কার্ফু উঠে কবে সব স্বাভাবিক হবে তার কোনও ঠিক নেই। এখনও নেপালে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। সকলকেই দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে নেপালে এখন যারা রয়েছেন তাদের দেশে ফিরে আসা তো দূরের কথা, বাড়ির বাইরে বেরোনোর অনুমতিটুকুও নেই। বাধ্য হয়ে নেপালে নিজের নিজের কর্মস্থলেই আটকে রয়েছেন বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ ব্লকের লালবাজার গ্রামের প্রায় ৩০০ পরিযায়ী শ্রমিক। নেপালে লাগাতার অশান্তির খবরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তাদের পরিবারে।

বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ ব্লকের লালবাজার গ্রামে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। এই গ্রামে এমন কোনও পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যে পরিবার থেকে কেউ না কেউ নেপালে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজে যাননি। এই গ্রাম থেকে নেপালে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা মূলত নেপালের কাঠমান্ডুর নেপালগঞ্জ এলাকায় কাঁসার বাসন তৈরি করেন। নেপালগঞ্জ কাঁসার বাসন তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে একের পর এক কাঁসার বাসন তৈরির কারখানা। সেখানে কর্মরত লাল্বাজার গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা।

প্রতি বছর পুজোর সময় গ্রামে ফেরেন তাঁরা। শ্রমিকদের পরিবারও অপেক্ষায় থাকেন কবে উমা আসবেন। মহামায়ার আগমনই যে ঘরের মানুষগুলোর ঘরে ফেরার সময়। এবছরও তেমনটাই ঠিক ছিল। নেপালে কর্মরত লালবাজার গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামে ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার আগেই নেপালে শুরু হয় বিক্ষোভ। অশান্তির জেরে নেপালের কাঁসার বাসন তৈরির কারখানাগুলিতে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। কারখানা লাগোয়া আবাসগুলিতেই অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি আটকে পড়েন বাংলার প্রায় ৩০০ পরিযায়ী শ্রমিক।

নেপাল জুড়ে কার্ফু জারি হওয়ায় এখন দেশে ফেরা তো দূরের কথা, কারখানা চত্বর থেকে রাস্তায় বেরোতে পর্যন্ত পারছেন না মানুষগুলো। মালিক পক্ষ শ্রমিক আবাসগুলিতে খাবার ও জল সরবরাহ করলেও তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে শ্রমিক পরিবারগুলিতে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নেপালের ভয়ঙ্কর অশান্তির খবর দেখে ঘরের মানুষগুলোর চিন্তায় লালবাজার গ্রামে কোনও পরিবার চিন্তায় দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। রান্নাবান্না,  খাওয়া দাওয়া নিয়েও যেন কারও কোনও ভাবনা নেই। এই পরিস্থিতিতে পরিবারগুলির একটাই কামনা, পুজোর আগেই সুস্থ অবস্থায় নিজের গ্রামে ফিরে আসুক প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিক।

নেপালের প্রধান মন্দির পশুপতিনাথে লুঠের চেষ্টা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে নেপালের ঐতিহ্যশালী সিংহ দরবারে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সংসদ, সর্বত্র চলেছে তাণ্ডব। এই মুহূর্তে সেনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নেপাল।

Published by:

Ei Muhurte

Share Link:

More Releted News:

ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে, রেডরোড থেকে কটাক্ষ মমতার

সল্টলেকে পথচারীকে পিষে জোড়া মোটরবাইকে ধাক্কা, সরস্বতী পুজোয় বেপরোয়া গতিতে শোকের ছায়া

রামকৃষ্ণের নামে বিশ্ববিদ্যালয় বিল আটকে রাজভবনে, আরটিআইয়ে মিলল চাঞ্চল্যকর সাফাই

‘‌যে মূল্যবোধের জন্য তিনি সারাজীবন লড়েছেন, রক্ষা করব’‌, নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে শপথ অভিষেকের

নেতাজি সম্পর্কিত সব তথ্য প্রকাশ করা হোক, জন্মজয়ন্তীতে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা মমতার

সরস্বতী পুজোয় নামল পারদ, ১৪ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ