দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিজেপি ভাষণ দেয়, তৃণমূল দেয় রেশন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার মালবাজার চা বাগানে সভা করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ABHISHEK BANERJEE)। এদিন তিনি নরমে গরমে দাবি করেন, সব রকম ভাবে চা শ্রমিকদের পাশে আছে রাজ্য। সোচ্চার হন চা শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে। প্রতিশ্রুতি দেন, মজুরি থেকে জল সমস্যার সমাধান করবে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল। বলেন, শ্রমিকদের দাবি আদায়ের লড়াই হবে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত। এদিন তিনি সরব হন, পিএফ- গ্র্যাচুয়েটি- মজুরি প্রসঙ্গেও। বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি ভাষণ দেয়, আর তৃণমূলের সরকার দেয় রেশন।

গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা ভোটের আগেই পরিযায়ী পাখির মত আসে। ভোট মিটলে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু বাংলা ভাগের রাজনীতি করে। তারপরেই অভিষেকের হুঁশিয়ারি, বাংলা অখণ্ড। তাকে ভাগ করা যাবে না। বিজেপি ও বামেদের আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘ওরা চেঁচাচ্ছিল অভিষেকের দেখা পাওয়া যাবে না বলে। কিন্তু আমি কথা দিয়েছি ২ মাস ছাড়া ছাড়া এখানে আসব। এখনও দু’মাস হয়নি। সেই কথা রেখেছি’। অভিষেক বলেন, বিজেপির বড় বড় নেতারা ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ নির্বাচনের আগে বারবার ছুটে এসেছেছিলেন। বলেছিলেন পাহাড়ের মানুষদের পাশে থাকবেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া ৭টি চা বাগান অধিগ্রহণ করে খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তবে সেই কথা রাখেননি। বলেন, ‘কথা দিয়েছিল বিজেপি কিন্তু শ্রমিকদের স্বার্থে সেই কথা রেখেছে তৃণমূল’। এরপরেই বলেন, রাজ্য সরকার একাধিক চা বাগান খুলিয়েছে শ্রমিকদের স্বার্থে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিকদের জন্য চিন্তা করেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। এরপরেই অভিষেক বলেন, বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল ১ হাজার কোটি টাকা চা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ করার। তবে সেই টাকা আজও বরাদ্দ করেনি। মিথ্যে বলছেন না দাবি করে তিনি বলেন, এ কথা যদি মিথ্যে হয় তিনি রাজনীতি করা ছেড়ে দেবেন।

অভিষেক বলেন, পিএফ- গ্র্যাচুয়েটি নিয়ে শ্রমিকদের ঠকানো হয়। অভিযোগ, কত টাকা জমা পড়ছে তা জানতে পারেন না শ্রমিকরা। এরপরেই অভিষেক বলেন, শ্রমিকদের বঞ্চিত করা যাবে না। পিএফ ও গ্র্যাচুয়েটি’র দিকে লক্ষ্য রাখা কেন্দ্রের কর্তব্য, ওটা রাজ্যের কাজ নয়। বলেন, তবু তা নিয়ে লড়াই করবে রাজ্য ও তৃণমূল। এদিন তিনি বলেন, তৃণমূল মালিক পক্ষ নয়, শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। তারপরেই শ্রমমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে যেন চা শ্রমিকদের পরিচয় পত্র দেওয়া হয়। অভিষেকের ডেড লাইন, আগামী ৩১ জানুয়ারি। তিনি বলেন, পিএফ- ইএসআই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা না হলে সাড়ে ৩ লক্ষ শ্রমিকের জন্য আন্দোলন করবে ট্রেড ইউনিয়ন। তাঁর হুঁশিয়ারি, আগামী ৩ মাসের মধ্যে মালিকরা পিএফ ও গ্র্যাচুয়েটি’র টাকা শ্রমিকদের না দিলে এফআইআর করা হবে। চা শ্রমিকদের স্থানীয় থানায় এফআইআর করতে বলে অভিষেকের বার্তা, রাজ্য সরকার এই তদন্ত বিশেষভাবে করবে।

 

এদিন অভিষেক বলেন, মোদি নিজেকে চা বিক্রেতা বলেন। অথচ চা শ্রমিকদের স্বার্থটুকুই দেখেন না। অভিষেকের কটাক্ষ, শ্রমিকদের আচ্ছে দিন আসেনি। আচ্ছে দিন এসেছে নিশীথ প্রামাণিকের। এরপরেই অভিষেক বলেন, চা শ্রমিকদের লুঠ করা হচ্ছে। দিল্লিতে মার্বেল প্যালেস তৈরি করিয়েছেন নিশীথ। তবে শ্রমিকরা পড়ে রয়েছেন অন্ধকারেই। তাঁদের দিকে চোখ দেননি নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী।

এদিন তিনি আরও বলেন, বিজেপি সাংসদ- নেতা- মন্ত্রী- নিশীথ প্রামাণিক থেকে জন বার্লা শ্রমিকদের জন্য বিন্দুমাত্র চিন্তা করেন না। বিজেপি মানেই স্বার্থের রাজনীতি। তাঁরা ভোটের রাজনীতির জন্যই ভোটের আগে শ্রমিকদের কাছে আসে। আর তৃণমূল ভোট না থাকলেও বার বার ছুটে আসে পাহাড়ে। অভিষেক বলেন, নির্বাচনের এখনও ১ বছর দেরি তবুও চা শ্রমিকদের স্বার্থেই তিনি এসেছেন।

অভিষেক বলেন, চা বাগানে শ্রমিকরা কাজ করেন কাঁধে সন্তানকে বেঁধে। ছয় মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবেন বলে দাবি করেন অভিষেক। বলেন, ৫০ জন প্রতি ক্রেশ তৈরি করা হবে। এভাবেই থাকতে পারবে ২,৫০০ জন শিশু। তিনি বলেন, এ্যাম্বুলেন্স থেকে হেলথ সেন্টার সবই হবে। শ্রমিকদের থাকার জন্যেও করা হবে বিশেষ ব্যবস্থা। এও বলেন, ‘চা- সুন্দরী তৈরি হয়ে যাবে কয়েকদিনেই’।

এদিন অভিষেকের হুঁশিয়ারি, পিএফ- গ্র্যাচুয়িটির টাকা আদায় না হলে বিজেপি সাংসদ বিধায়কদের বাড়ি ঘেরাও করা হবে। শ্রমিকরা নিজেদের দাবি আদায় করতে দিল্লি যাবে। সাড়ে তিন লক্ষ শ্রমিকের পাশে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আটকানোর ক্ষমতা আছে নিশীথ প্রামাণিক, জন বার্লার?’

এদিনের সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থ বলে ‘আচ্ছে দিন’। তবে সেই আচ্ছে দিন তারা আনতে পারেনি। শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেছে। এরপরেই তাঁর প্রশ্ন, ‘বিজেপি- সিপিএম পাশে দাঁড়িয়েছে?’ তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় থাকলেও চা শ্রমিকদের কথা ভাবেন। ছুটে আসেন। বলেন, ‘বিজেপি ভাষণ দেয়। আর তৃণমূল দেয় রেশন’। অভিষেকের অভিযোগ, চা বাগানের জায়গা ঘিরে বাড়ি তৈরি করছেন বিজেপি নেতারা।

অভিষেক ‘নতুন তৃণমূল’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন এদিন। গত ১২ জুলাই তিনি বলেছিলেন নতুন তৃণমূলের কথা। তা নিয়ে কেউ কেউ জল ঘোলা করতে চাইছেন। সেই ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যেভাবে তৃণমূলকে দেখতে চাইবে সেই ভাবেই তৈরি হবে দল। একথাই তিনি বলেছিলেন।

অভিষেক এদিন বার্তা দেন দলের নেতাদেরকেও। বলেন, ব্যক্তির স্বার্থে কেউ ভুল করলে বা দলকে ব্যবহার করলে, দল তার পাশে দাঁড়াবে না। বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ইডি- সিবিআই বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের প্রতি কোনও ব্যবস্থা নেয় না। তৃণমূল অভিযোগ এলেই ব্যবস্থা নেয় এবং তা করে দেখিয়েছে। বিজেপি এবং বিজেপি শাসিত কেন্দ্র স্বার্থের রাজনীতি করে। নবান্নে বিজেপি অভিযান পড়ে থাকবে একদিকে। আর শ্রমিকদের স্বার্থে দিল্লিতে অভিযান চালাবে তৃণমূল। তাঁর হুঁশিয়ারি, দেখা যাবে কোন অভিযান সফল হয়। এরপরেই তিনি বলেন, ‘ভোটের রাজনীতি করি না। যা বলি তা করি’।

বঙ্গ বিভাজনের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, বঙ্গ একটাই। ‌ তার নাম পশ্চিমবঙ্গ। এখানে উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গ আলাদা নেই। মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। বলেন, বিজেপি বঙ্গ বিভাজন চাইছে কিন্তু জনগণের- শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হয় না। উত্তরবঙ্গেও ৪ বিজেপি সাংসদ শ্রমিকদের দাবি নিয়ে মাথা ঘামায় না বলে দাবি করেন অভিষেক।

এদিন অভিষেক বলেন, ‘রাজনীতি একদিকে। রাজনীতির সময় রাজনীতি’। বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিখিয়েছেন সরকার মানে  মানুষের জন্য কাজ করা’। বলেন, ‘এখানে হিন্দু- মুসলিম ধর্ম নেই। বিভাজন থাকা উচিত নয়। ধর্ম একটাই, তার নাম মানব ধর্ম।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নিশাচর কমিশন! ভোটের আগে গভীর রাতে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে CEO মনোজ

বৃহস্পতি-শুক্রতে শহরে আসতে গেলে হাতে রাখুন অতিরিক্ত সময়, জানাচ্ছে কলকাতা পুলিশ

বুধবার সন্ধ্যে নামতেই জঙ্গিপুরে নামল সাঁজোয়া গাড়ি, রাতভর টহল শুরু

বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দিল পুলিশ

ভোটের জন্য নেই বাস, আসানসোলে অটো-টোটোর বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ

ইভিএম মেশিন খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে দার্জিলিংয়ের দুর্গম বুথে পৌঁছলেন ভোট কর্মীরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ