এই মুহূর্তে

মুকুল স্মৃতিতে দ্বিধাবিভক্ত বিজেপি, ছেলে শুভ্রাংশু এগিয়ে রাখলেন বাবাকেই

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ রাজ্য–রাজনীতির চাণক্য বলে পরিচিত মুকুল রায় প্রয়াত হয়েছে বেশ কিছুদিন হয়েছে। কিন্তু বিজেপি এখনও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দিতে পারেনি। এই নিয়ে এখনও নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল থকে বিজেপিতে যাওয়া মুকুল রায়। কয়েক মাস পরেই মুকুল রায় আবার ফিরে যান তৃণমূলে। তাতে মুখ পোড়ে বিজেপির। পাঁচ বছর আগের সেই ‘বিড়ম্বনা’র স্মৃতি এখনও টাটকা কৃষ্ণনগরের বিজেপি নেতা–কর্মীদের মনে। তাই এবার আর বহিরাগত প্রার্থী চাইছেন না তাঁরা। এই নিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন। কেউ লিখেছেন, ‘‌বহিরাগত নয়, কৃষ্ণনগরের নাগরিককেই প্রার্থী চাই।’‌ কেউ আবার লিখেছেন, ‘‌বহিরাগত প্রার্থী দিলে মানা হবে না।’‌

এদিকে মুকুল রায় প্রয়াত হওয়ার পর তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় বলেছিলেন, তাঁর বাবার শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখ ছিলেন তৃণমূলের সদস্যরাই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুকুল রায়ের খোঁজখবর রাখতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নেই শুভ্রাংশু রায়ের নাম। আর তা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুকুল পুত্র। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বীজপুর কেন্দ্র থেকে শুভ্রাংশু রায়কে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল বলে জল্পনা ছিল। কিন্তু দেখা যায় বীজপুরের বিদায়ী বিধায়ক সুবোধ অধিকারীকে প্রার্থী করেছে। তবে দলের অন্দরেই নিজের কোনও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি শুভ্রাংশু রায়। তবে শুভ্রাংশুর দাবি, দলের পক্ষ থেকে তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।

অন্যদিকে মুখে না বললেও এখন হয়তো ভাবছেন ওখান থেকে প্রার্থী হলেই ভাল হতো। কারণ বিজেপির এমন অবস্থা হবে তা তাঁর জানা ছিল না। এই আবহে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব শুরু হলেও হদিশ নেই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর। এখন এটা নিয়েও ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছে পদ্ম শিবির। নেটাগরিকরা পোস্ট করছেন, ‘এইমাত্র খবর পাওয়া গেল কৃষ্ণনগরে বিজেপি প্রার্থী দিচ্ছে না।’‌ হাসির রোল উঠতে শুরু করেছে নেট পাড়ায়। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে এই বহিরাগত ইস্যুর মধ্যেই লিয়েন্ডার পেজকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর তখনই জেলার নেতা–কর্মীদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আবার প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সঞ্জীব স্যান্যালের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি এখন হরিয়ানার বাসিন্দা।

এছাড়া প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে গড়িমসিকে ভাল চোখে দেখছেন না বিজেপির নীচুতলার নেতা–কর্মীরা।‌ তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, ‘কৃষ্ণনগরের‌ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে।‌ তার ফলে একজন স্থানীয় বিধায়কের থেকে যে পরিষেবা পাওয়া প্রয়োজন, সেখানে কৃষ্ণনগরবাসী সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত। আর এই অবস্থা দেখে সাংবাদিকদের শুভ্রাংশু রায় বলেছেন, ‘‌আমি মুকুল রায় নই যে যেখান থেকে খুশি প্রার্থী হব। আবার জিতবও। আমি দলকে জানিয়ে ছিলাম, বীজপুর বা আশেপাশের কোনও কেন্দ্র থেকে আমাকে প্রার্থী করা হোক। এখন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমি নির্ধারিত প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছি।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নববর্ষে মশলার মেলা, বিনিময়ে প্রথার মাধ্যমে চলে বিকিকিনি

পয়লা বৈশাখে দক্ষিণেশ্বর-কালীঘাটে ভক্তদের ঢল, নতুন খাতা পুজোয় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

হাঁসফাঁস অবস্থা বঙ্গবাসীর, প্রচণ্ড গরমে কীভাবে শরীর সুস্থ রাখছেন ঋতুপর্ণা?

নববর্ষে ভোটপ্রচারে উত্তরবঙ্গে মমতা-শাহর দ্বৈরথ, দক্ষিণে অভিষেক

ফাঁসিদেওয়ায় এবার ‘মহিলা মহারণ’! ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই নারী, জমজমাট ভোটের লড়াই

মা ভবতারিণীর আশীর্বাদে নতুন বছরের শুরু, দক্ষিণেশ্বরে উপচে পড়া ভিড়

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ