আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ধরপাকড়ের ভয়ে পুরুষশূন্য বকটুই, হাজির সিবিআই-ফরেন্সিক টিম

নিজস্ব প্রতিনিধি: বীরভূম(Birbhum) জেলার রামপুরহাট থানার বগটুই-কাণ্ডের জেরে শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্ট তাঁদের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশে দিয়েছে। আর সেই নির্দেশের পরে পরেই শুক্রবার রাতেই রামপুরহাটে(Rampurhat) পৌঁছে যায় সিবিআই-য়ের ৩০জন সদস্যের একটি দল। ডিজিআই সিবিআই(CBI) অখিলেশ সিঙ্ঘের নেতৃত্বে ওই টিম কাজ করা শুরু করছে সেখানে। শনিবার সকালেই সেই টিম ৩টি দলে ভাগ হয়ে কাজ করা শুরু করেছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সিবিআই-য়ের একটি টিম বকটুই গ্রামে গিয়ে তদন্তের কাজ শুরু করে। এদিনই গ্রামে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক দল। সেখান থেকে তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করবে। তবে গোটা বকটুই(Boktui) গ্রামই এদিন পুরুষশূন্য অবস্থায় রয়েছে। কেননা ধড়পাকড়ের ভয়ে গ্রামের পুরুষেরা যে যার মতো করে গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেক বাড়ির সদস্যরাই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কার্যত গোটা গ্রাম থমথম করছে। গ্রামে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ পিকেট। মোতায়েন হয়েছেন ইএফআর জওয়ানরাও। তবুও গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকে ভয় এখনও যায়নি।  

গতকাল হাইকোর্টের নির্দেশের পরে পরেই পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ১০টি ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। ওই এফআইআরে খুন, খুনের চেষ্টা, আগুন লাগিয়ে খুনের অভিযোগ এবং হিংসা ছড়ানোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে জানা গিয়েছে, সিবিআই মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করেছে। সেখানে বকটুই ঘটনার মূল অভিযুক্ত আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনের নামও রয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, আনারুলকে গ্রেফতার করে জেরার পরে ঘটনার সঙ্গে জেলা তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেফতারির পথেও হাঁটতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল। কেননা অভিযোগ উঠেছে ভাদু শেখ খুনের পরে আনারুল ওই প্রভাবশালী নেতাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনিই নাকি তখন কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও সেই নির্দেশে খুন করার কথা বলা ছিল না।    

এদিন সকাল থেকেই বকটুই গ্রামে বাড়ে পুলিশের গতিবিধি। সকালে সিবিআইয়ের টিম গ্রামে আসার আগেই সেখানে চলে আসেন রাজ্য পুলিশের আইজি(বর্ধমান রেঞ্জ) ভরত মিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীও। এদিন সিবিআইয়ের একটি টিম যেমন বকটুই গ্রামে এসেছে তেমনি অপর একটি টিম গিয়েছে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে। সেখানে তাঁরা বকটুই কাণ্ডে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে অপর একটি টিম রামপুরহাট থানায় গিয়ে কেস ডায়েরি এবং মামলা সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংগ্রহ করে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বগটুই কাণ্ডের তদন্তে সিবিআইকে সবরকম ভাবে সাহায্য করতে হবে সিটকে। সেকারণেই সিবিআইয়ের আসার খবর পেয়েই এদিন সকালেই রামপুরহাট থানায় পৌঁছে যান সিটের(SIT) সদস্যরা। এদিন রামপুরহাট থানায় সিটের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা। জানা গিয়েছে, এদিন বকটুই কাণ্ডে ধৃতদের বয়ান নতুন করে নিতে পারে সিবিআই। রামপুরহাট হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরে নাম থাকা আরও ৭০ জন এখনও পলাতক। আর এই পলাতকদের ধরতে সিবিআই থেকে পুলিশ যে কঠোর মনোভাব নেবে সেটা বুঝেই এদিন বকটুই গ্রামের সব পুরুষই বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। গ্রাম এমনিতেই শূনশান। যে কটি পরিবার সেখানে রয়েছে তাঁরা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে। সেই সঙ্গে বাড়ির ভেতরে বসে দরজা জানলায় খিল তুলেছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করল কমিশন, ২১ মে ফের নির্বাচন

মিহিজামের জঙ্গলে যুবক-যুবতীর দেহ উদ্ধার, ব্যাপক চাঞ্চল্য,তদন্ত শুরু

রবিবার স্ট্রং রুমে ইভিএম পাহারায় বিজেপির মহিলা বাহিনী অবস্থানে বসছে

ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাটের ১৫ বুথে পুনর্নির্বাচনে ভোট পড়ল ৯০ শতাংশ

ভোট দিয়ে হরিয়ানায় ফেরার পথে পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই বাস রানিগঞ্জে দুর্ঘটনার কবলে

মুখপাত্র থেকে একেবারে গণনা পর্যবেক্ষক, বাড়তি দায়িত্ব পেলেন প্রতীক উর রহমান

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ