চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘‌সততার পরিবর্তে বিভ্রান্ত করার পথ বেছেছেন প্রধানমন্ত্রী’‌, মোদিকে তোপ মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ সংসদে মহিলা বিল পাশ করতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে হয়েছে মোদি সরকার। আসলে মহিলা বিল আগেই পাশ করা হয়ে গিয়েছিল ২০২৩ সালে বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। এই বিলকে সামনে রেখে পিছন দিক দিয়ে ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে চেয়েছিল মোদি–শাহ। সেটাই ইন্ডিয়া জোট আটকে দিয়েছে। এটা বিরোধী জোটের কাছে নৈতিক জয়। প্রত্যেকটি সভা–সমাবেশ থেকে এই কথা বলে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, রবিবার বাঁকুড়ায় প্রধানমন্ত্রী সভা করতে এসে এই বিল পাশ করতে না পারার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল এবং কংগ্রেসের উপর। তারই কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আজ, রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষ হতেই এক্স হ্যান্ডেলে একটি কড়া পোস্ট করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘‌এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রধানমন্ত্রী জাতির সামনে সততার সঙ্গে বিষয়টি তুলে ধরার পরিবর্তে তাঁদের বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। আমি এই বিষয়টি নথিবদ্ধ করে রাখতে চাই। তৃণমূল কংগ্রেস সর্বদা নারীদের জন্য উচ্চতর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এসেছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অনুপাত সর্বাধিক। লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশই নারী। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ নারী সদস্যকে মনোনীত করেছি। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না—এবং ভবিষ্যতেও কখনও উঠবে না।’‌

 

এদিকে এই বিল পাশ করতে গেলে সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন দরকার ছিল। যা এনডিএ সরকার জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়। আর বিল পাশ করতে পারেনি। তাতেই বিরোধীদের জয় হয়। এতে জোর ধাক্কা খেয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই নিয়ে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স পোস্টে তোপ, ‘‌আমরা মূলত যে বিষয়টির বিরোধী তা হল ‘ডিলিমিটেশন’ প্রক্রিয়া—যা মোদি সরকার তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বলপূর্বক কার্যকর করার ষড়যন্ত্র করছিল। আমরা যে বিষয়গুলির ঘোর বিরোধী, তা হল—বাবাসাহেব আম্বেদকরের রচিত সংবিধানের পরিবর্তন, এই জাতির বিভাজন এবং রাজনৈতিক সীমানা নতুন করে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে—অন্যান্য রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব খর্ব করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে অধিকতর প্রতিনিধিত্ব প্রদানের মাধ্যমে—‘জেরিম্যান্ডারিং’–এর আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের ওপর এক নগ্ন আঘাত। আর আমরা নীরবে এই অনাচার ঘটতে দেব না।’‌

অন্যদিকে এই বিল পাশ করতে মোদি সরকার ব্যর্থ হতেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স পোস্টে মোদিকে নিশানা, ‘‌এই সরকার যদি সত্যিই এই মহৎ উদ্দেশ্যটির ব্যাপারে আন্তরিক হতো, তবে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ পাশ হওয়ার পরেও তারা কেন প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করল? যখন বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে, তখন কেন এত তড়িঘড়ি করে বিলটি পাশ করানো হল? আর কেনই বা এটিকে ‘ডিলিমিটেশন’–এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো? তৃণমূল কংগ্রেস দশকের পর দশক ধরে নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব। কিন্তু এমন একটি বিষয় নিয়ে আমরা কারো উপদেশ বা বুলি শুনব না—যে বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিন্দুমাত্র বোঝাপড়া নেই এবং যার প্রতি তাদের কোনও শ্রদ্ধাবোধও নেই।’‌

এছাড়া দেশকে ভাগ করার চক্রার্ত করেছিল কেন্দ্রের সরকার বলেও কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‌আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এরপর যখন আপনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন—তখন সেই সাহসটুকু দেখাবেন, যাতে আপনি সংসদের অধিবেশন কক্ষ থেকে তা করতে পারেন। ঠিক সেই স্থানটি থেকে, যেখানে আপনাকে যাচাই–বাছাই, চ্যালেঞ্জ এবং জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়। গতকাল আপনি যা করেছেন, তা ছিল কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামি পূর্ণ এবং দ্বিমুখী চরিত্রের পরিচায়ক। আপনি স্পষ্টতই অনুভব করতে পারছেন যে, ক্ষমতা আপনার হাতের মুঠো থেকে ফসকে যাচ্ছে। আর সেই ক্ষমতাকে—মাত্র আর কয়েকটা দিন—ধরে রাখার জন্য আপনি যে কোনও সীমা অতিক্রম করতেও প্রস্তুত। পুরো বিষয়টি আসলে এর বাইরে আর কিছুই নয়।’‌

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নন্দীগ্রামে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষর বাড়ি থেকে তাজা বোমা উদ্ধার

‘‌বিজেপিকে বাংলা থেকে আর দেশ থেকে বিদায় করব’‌, তারকেশ্বরে রণহুঙ্কার মমতার

‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ করব’, তারকেশ্বর থেকে তোপ মমতার

তৃণমূলকে পরাজিত করতে ৮ কোটির ডিল!‌ অডিও রেকর্ডিং ফাঁস, চাপে বিজেপি

ভোটের আগে শেষ রবিবার, পায়ে হেঁটে পাড়ায় পাড়ায় ভোটপ্রচারে সুজিত বসু

চকবাজারে মাছের ডিম কিনে জনসংযোগ দেবাংশুর, ভোটের আগে জমজমাট প্রচার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ