চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ঝাঁঝ কমছে DA আন্দোলনের, গুরুত্ব পাচ্ছে না কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের(West Bengal State Government Employees) একাংশের শুরু করা DA আন্দোলন(DA Movement)। এদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে গঠিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ কর্মবিরতির(Lay-Up Strike) ডাক দিয়েছে মহার্ঘ ভাতা সহ অন্যান্য দাবিকে ঘিরে। এর আগেও মার্চ মাসে এই ধরনের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মবিরতি ঘিরে রাজ্য সরকার(West Bengal State Government) ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে কার্যত যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছিল। দুই তরফেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কর্মবিরতিকে সফল ও ব্যর্থ হিসাবে তুলে ধরার জন্য। কিন্তু এদিন যখন আবারও কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হচ্ছে দেখা যাচ্ছে সেই আগের মাসের ছবিটাই উধাও। এদিনের কর্মবিরতি সফল করতে না সেভাবে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে না তা ঠেকাতে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে। আর তার জেরেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে DA আন্দোলন। অনেকেই মনে করছেন আন্দোলন তার ঝাঁঝ হারাচ্ছে।

আরও পড়ুন স্কুলস্তরেই শিক্ষার গেরুয়াকরণে জোর, কোপ গান্ধীহত্যার ইতিহাসে

ঠিক একমাস আগে যে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল তা ঠেকাতে বিশেষ ভাবে পদক্ষেপ করে নবান্ন। রাজ্যের অর্থদফতর রীতিমত বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, কর্মবিরতিতে যোগ দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে তখনই প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ সংগঠন জানিয়েছিল, কর্মী-শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় সই করে কর্মবিরতি পালন করবেন। তাহলে কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণকারীদের কীভাবে চিহ্ণিত করা হবে, সেই প্রশ্ন ওঠে। এদিনও হাজিরা খাতায় সই করেই কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। কিন্তু এবারে রাজ্য সরকার এই আন্দোলনের কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে কোনও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়নি। তবে সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতির প্রভাব যাতে কোনও নিম্ন আদালতে না পড়ে তা নিয়ে নিম্ন আদালতের প্রধান বিচারকদের নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়াও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এই কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার শুনানি এদিনই হওয়ার কথা আছে।

আরও পড়ুন হনুমান জয়ন্তীর প্রাক্কালে শান্তির বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলন তার ঝাঁঝ হারাচ্ছে কেন? ওয়াকিবহাল মহল এর জন্য বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের অভিমত, আন্দোলনের মূল দাবি বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা আদায় এবং কেন্দ্রের কর্মচারীদের সমহারে এ রাজ্যেও মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান। এই দুটি দাবির সঙ্গে সরাসরি রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু গত এক দেড় মাস ধরে দেখা যাচ্ছিল আন্দোলনের মঞ্চ কার্যত রাজ্য সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল(TMC) বিরোধী যৌথ মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। অনেক আন্দোলনকারী এই ঘটনা সমর্থন করছেন না। তাঁরা চান না তাঁদের আন্দোলন কোনও একটি বা একাধিক রাজনৈতিক দল হাইজ্যাক করে তা নির্বাচনী ইস্যু বানিয়ে ফেলুক। দ্বিতীয়ত তাঁরা এটাও বুঝেছেন খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। কেননা একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন এখনই ৩ শতাংশের বেশি DA দেওয়া সম্ভব নয়, তেমনি সুপ্রিম কোর্টেও এই মামলার শুনানি ক্রমশ পিছোচ্ছে। এমনকি সেই মামলা সংবিধান বেঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তৃতীয়ত মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের হারে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা দিতে না পারলেও এই আন্দোলনকালেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে। তার লাভ তাঁরা পাবেন। সেটা দেখেও অনেক আন্দোলনকারী আর রণংদেহী মেজাজে এগোতে চাইছেন না। চতুর্থত, সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার জন্য কলকাতা সহ জেলায় জেলায় সরকারি কর্মীদের তালিকা তৈরি হয়েছে, ভোটের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং সর্বোপরি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে আন্দোলনের বিরোধিতা করে। এইসবের জেরে কেউ আর একক ভাবে শাস্তির জন্য নিজেকে চিহ্নিত করতে চাইছেন না। সব মিলিয়ে তা ঝাঁঝ কমছে আন্দোলনের।  

Published by:

Share Link:

More Releted News:

মঙ্গলে শহরে ইডির হানার সম্ভাবনা, টার্গেট দক্ষিণ কলকাতার হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী!

কর্তব্যে গাফিলতি ও নিয়ম অমান্য করায় ভবানীপুরের তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড কমিশনের

‘মিনি পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে থানা ঘেরাও বিজেপির, পুলিশের লাঠিচার্জে জখম প্রার্থী

‘জাহাজ বাড়ির মালিক’ সুফিয়ানের জামাই তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা আটক, বিক্ষোভ তৃণমূলের

তৃণমূল এবং ‘আইপ্যাকের’ বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপি সাংসদের

‘এবারে সরকার গড়তে না পারলে আর কোনও দিনই পারব না’,তমলুকে মন্তব্য হিমন্ত’র

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ