বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর ‘অপরাধে’ বাম আমলেই ঘর ছাড়া! ৩৩ বছর বাদে ফিরলেন বিমলচন্দ্র

Share:

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটপরবর্তী হিংসা এই নামের সঙ্গে বিগত কয়েক বছর ধরে পরিচিত হচ্ছেন বাংলার মানুষ। কিন্তু এমন নয় যে বিগত কয়েক বছরে এই ঘটনা ঘটছে। বাংলার বুকে ভোটপরবর্তী হিংসার কালো ইতিহাস শুরুই হয়েছিল বাম জমানায়। এই দুষ্কৃতী সংস্কৃতির আমদানি হয়েছিল সিপিএমের শাসনকালে। যার জলজ্যান্ত প্রমাণ বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি গ্রামের বিমলচন্দ্র বোড়া নামের এক যুবক। তবে এখন তিনি যুবক নন। বয়স বেড়েছে। কিন্তু এতদিন ধরে ছিলেন ঘরছাড়া। অবশেষে বিজেপি বিধায়কের সাহায্যে প্রায় ৩৩ বছর বাদে নিজের ঘরে ও এলাকায় ফিরেছেন বিমলচন্দ্র বোড়া। কিন্তু কী এমন ঘটেছিল যে দিনের পর দিন ঘরছাড়া ছিলেন তিনি?

এই প্রশ্নের উত্তরে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে যখন বাম শাসনের সূর্য বাংলার মাঝ আকাশে জ্বলজ্বল করছে। সেই সময়ে বিজেপির হয়ে গ্রামে পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন বিমলচন্দ্র বোড়া। তখন বাংলায় পদ্মপার্টির কোনও অস্তিত্ব ছিল না। দেশে অন্যতম বিরোধী দল হয়ে উঠলেও, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাটিতে পদ্ম ফোঁটা তখন শুরু হয়নি। তবুও বিজেপিকে ভালোবেসে সেই সময়ে পঞ্চায়েত ভোটে পদ্ম ফুল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। যদিও বামেদের সামনে জিততে পারেননি তিনি। ভোট শেষ হয়। তারপরেই শুরু হয় সন্ত্রাস। বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোই অপরাধ হিসেবে গণ্য় হয়। আর বামেদের শাসনকালে সেই ১৯৯৩-তে গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল বিমলকে। তারপরেই ২০১১ সালে তৃণমূল এসেছিল রাজ্যে ক্ষমতাতে। তাতেও আতঙ্ক কাটেনি। ঘরে ফিরতে পারেননি বিমলচন্দ্র বোড়া। কারণ তাঁর অভিযোগ, সিপিএমের হার্মাদগুলিই তৃণমূলের জল্লাদ হয়েছে। মাঝে ঘরে তথা গ্রামে ফেরার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে মনে আশা ছিল বাংলায় বিজেপি আসবেই। আর তখনই হবে তাঁর ঘরওয়াপসি। অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ৩৩ বছর। কিন্তু ফল মিলেছে। বাংলায় এখন ক্ষমতাতে বিজেপি। আর তারপরেই ঘরে ফিরেছেন তিনি। বাঁকুড়ার ইন্দাসের বিধায়ক নির্মলকুমার ধাড়াই বিমলচন্দ্রকে ঘরে ফিরিয়ে এনেছেন। যদিও বিজেপি বিধায়ক তাঁর কথা জানতেন।

আরও পডুন: বুধ থেকে শুক্র দক্ষিণের সব জেলা জুড়ে চলবে ঝড়- বৃষ্টির দাপট, সতর্কতা জারি

এতদিন বাদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে বিমলচন্দ্র জানিয়েছেন, ‘নির্বাচন মিটতেই তৎকালীন শাসকদলের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। বাড়ি ছেড়ে মাসের পর মাস ভবঘুরের মতো ছিলাম। এই শহর-ওই শহর ঘুরেছি। একটা সময়ে হুগলির আরামবাগের গোপীনাথপুর এলাকায় থিতু হই। হুগলির স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে কাজ শুরু করি। সেখানেই বিয়ে হয়। সংসার করেছি। তবে সাংসারিক চাপেও রাজনীতি থেকে দূরে সরে যায়নি। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও সাহস হয়নি। তাই বাড়ি ফিরতে পারিনি। সে সময়ে আমার এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা শাসকের সন্ত্রাসের সাক্ষী থেকেছে। গত ৩৩ বছর নিজের গ্রামের মুখই দেখতে পায়নি।’ তবে এতকিছুর মাঝেও বিজেপির হয়ে রাজনৈতিক ময়দানে নামতে ভয় পাননি তিনি। বিমল আরও বলেন, ‘নিজের মাটি, নিজের গ্রাম ছেড়ে কে আর বাইরে থাকতে চায়? কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করেছিল। প্রথমে বামেরা, তার পর তৃণমূল… সন্ত্রাসের জন্য গ্রামে ফেরার সাহস দেখাতে পারিনি। আজ নিজেদের মাটির বাড়িটা দেখে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।’

সংসদ অধিবেশন নিয়ে রবিবারের সর্বদলীয় বৈঠকে ডাক পেলেন সুদীপ-কাকলি

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট আরও গভীর, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি সমঝোতা স্মারক বাতিল করল ইরান

রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার লঞ্চ, ২৪ জুলাই বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে ছবি

মেসি নাকি এমবাপে, গোল্ডেন বুটের দাবিদার হিসেবে কে এগিয়ে?

সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে? বিকল হতে পারে শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ!

দিল্লির রক্তচাপ বাড়িয়ে রবিবার থেকে শুরু বাংলাদেশ ও মার্কিন সেনার যৌথ মহড়া

৭২ বছরের দাম্পত্য সম্পর্কে ছেদ, স্ত্রীকে হারালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়া

সেরা হিন্দি ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতে নিল ‘আর্টিকেল ৩৭০’ 

লর্ডসে সিরিজ ফয়সালার ম্যাচে দলে ফিরছেন রাহুল-কুলদীপ? কারা বাদ পড়বেন?

বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত ৮, আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সোনম ওয়াংচুকের অনশনের সমর্থনে ওয়াশিংটনের রাস্তায় নামলেন মার্কিন প্রবাসী ভারতীয়রা

‘দলে ফিরে আসুন, এক ঘন্টার মধ্যে ইস্তফা দেব’, বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

বার বার যৌন হেনস্থায় ভাঙল ধৈর্য্যের বাঁধ, ব্লেড দিয়ে শ্বশুরের পুরুষাঙ্গ ফালাফালা করল পুত্রবধূ

শাহরুখ-সলমান-আমির চুপ, ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়ালেন হৃত্বিক