চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

১১৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হুগলি নদীর পাড়ে ভাঙনের কারণ জানতে হবে সমীক্ষা

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিপদ দেখা গিয়েছিল দেড় দশক আগেই। কিন্তু সেই বিপদ ঠেকাতে কিছুই করেনি তৎকালীন রাজ্যের ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট সরকার। কিছু করেনি কেন্দ্রের সরকারও। আর এই দেড় দশকে সেই বিপদ আরও বেড়ে গিয়েছে। কার্যত ডালপালা মেলে তা বিস্তার লাভ করেছে কলকাতা(Kolkata) সহ রাজ্যের ৫টি জেলায়। সেই বিপদের নাম গঙ্গার ভাঙন(Ganga Erosion)। নিঃশব্দে এই বিপদ ক্রমশই কয়েক কোটি মানুষের পায়ের জমি কেড়ে নিতে পারে আগামী দিনে, এমন সম্ভাবনাই দেখা দিয়েছে। আর তাই দেরী করতে চাইছে না রাজ্য সরকারও(West Bengal State Government)। কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়া ও হুগলি জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গার দুইপাড়েই ভাঙনের কারণ খুঁজে দেখতে একটি সমীক্ষা(Survey) করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকার। মোট ১১৪ কিমি এলাকা জুড়ে হবে সেই সমীক্ষা। 

আরও পড়ুন, রাজ্য প্রশাসনে আস্থা রাখার ফল, জমি ফেরত পাচ্ছেন সন্দেশখালীর বাসিন্দারা

সাধারণত আমরা গঙ্গার ভাঙন বললেই চোখের সামনে দেখতে পাই মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার ভাঙন। সেখানে রাতারাতি কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বহারা হন শয়ে শয়ে মানুষ। মালদা জেলার মানিকচক, কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩ এবং মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, সুতি-১, সুতি-২, রঘুনাথগঞ্জ-২, লালগোলা, ভগবানগোলা-১, ভগবানগোলা-২, রানীনগর-২ ও জলঙ্গি ব্লকগুলি ভাঙন কবলিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। গঙ্গা আর পদ্মা এই দুয়ের দাপটে সেই সব ব্লকে কয়েক লক্ষ মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি, জমি, বাগান হারিয়ে রাস্তার ভিখারিতে পরিণত হয়েছে। সেই ভাঙন ঠেকাতে না কেন্দ্র সরকার কিছু করেছে, না ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন প্রদান বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের কাজে কিছু করেছে। গত দেড়-দুই দশকে বিচ্ছিন্ন ভাবে কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও গঙ্গা নদীর দুই পাড়েই সেই ধরনের ভাঙন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই সব ভাঙন শুধু বেড়েই চলেছে তাই নয়, তা নিঃশব্দে পায়ের নীচে মাটি কেড়ে নিচ্ছে গ্রামের পাশাপাশি শহর এলাকাতেও। আর সেই সূত্রেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে গঙ্গার তীরবর্তী কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়া ও হুগলি জেলার জনপদগুলি, শহরগুলি কতখানি নিরাপদ!

আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে হাওড়ায় রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারদের কাঁধে

কার্যত কলকাতা এবং তার আশপাশের শহরাঞ্চলে যে ভাবে গঙ্গার পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে বিপদের গন্ধ পাচ্ছে নবান্ন। বিশেষজ্ঞরাও বার বার সতর্ক করছেন যে, নদীর পাড় ভেঙে গঙ্গার জল কলকাতা শহরে ঢুকে পড়বে যে কোনও মুহুর্তে। আর তাই সময় ব্যয় না করে গঙ্গার পাড় ভাঙার কারণ খুঁজে বের করতে বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করাতে চাইছে রাজ্য সরকার। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট দেখেই গঙ্গার পাড় রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে নবান্ন। হুগলির ত্রিবেণী থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি পর্যন্ত প্রায় ১১৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গঙ্গা নদীর পাড়ে ভাঙনের কারণ জানতে বিশদে সেই সমীক্ষা হবে। গঙ্গার পাড় ভেঙে যে সব জায়গায় ভবিষ্যতে তলিয়ে যেতে পারে পারে, সেই এলাকাগুলি শনাক্ত করা হবে। হুগলি নদীর পাশাপাশি তার সংযোগকারী বিভিন্ন নদ-নদী ও খালের অবস্থাও সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। এই সব এলাকায় সারা বছর আবহাওয়া কেমন থাকে, তার ওপরও দৃষ্টিপাত করা হবে। খতিয়ে দেখা হবে গত ২৫ বছরের আবহাওয়ার রিপোর্টও।

আরও পড়ুন, আর জি কর হাসপাতালে কাজে যোগ দিলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা

নবান্নের আধিকারিকদের দাবি, কলকাতার আশপাশে গঙ্গার পাড় গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক নিয়মে। গঙ্গার পলিমাটি জমে তৈরি হয়েছে বাঁধ। সেই বাঁধ ততটা শক্তপোক্ত নয়। তাই ভাঙনের আশঙ্কা বেশি। যে হেতু এই অংশে প্রতিদিন জোয়ার, ভাটা হয়, তাই রোজ পাড় ভাঙছে। হঠাৎ করে যদি কোনও দিন গঙ্গায় জলস্ফীতি হয়, তা হলে পাড় ভেঙে কলকাতা শহরে জল ঢুকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিশ্ব উষ্ণায়নে ক্রমশ গঙ্গার জলস্ফীতি ঘটছে। ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সংখ্যাও বাড়ছে। গত কয়েক বছর ধরেই গঙ্গার পাড়ে ভাঙন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বড়বাজারের পোস্তার কাছে পাড় ভেঙে গঙ্গা স্থলভাগের দিকে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। নদীর পাড়েই রয়েছে অসংখ্য গোডাউন। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে সেগুলো নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের বেশ কিছুটা অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। সেখানে নদীর পাড় মেরামতির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। হাওড়ার গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্রের কাছে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হুগলি নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই পাড় মেরামতে সেচ দফতরকে কয়েক কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে। হুগলির বলাগড়ের কাছেও নদী ভাঙনে বেশ কিছু এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সময় থাকতে থাকতেই বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণের টাকায় পাড় বাঁধানোর কাজ করতে চায় রাজ্য সরকার। যদিও তাতে বিপদ কতখানি কমবে তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

ভবানীপুরে মমতার প্রস্তাবক ব্যবসায়ী মিরাজ শাহের বাড়িতে আয়কর হানা

‘‌যেখানে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ, সেখানে পরিণাম ঐচ্ছিক’‌, অভিষেকের নিশানায় মধ্যপ্রদেশের বিধায়কের ছেলে

অধ্যাপকদের ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করে হাইকোর্টে মুখ পোড়াল জ্ঞানেশ গ্যাং

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ভবানীপুরে জোরদার প্রচার সারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অফিস টাইমে ফের মেট্রো বিভ্রাট, চূড়ান্ত ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ