চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

‘পুজোতে ফিরে আসুন, উৎসবে ফিরে আসুন’, আন্দোলনকারীদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: আর জি কর কাণ্ডকে(R G Kar Incident) ঘিরে শহর কলকাতাতে তো বটেই রাজ্যের প্রায় সব শহর এলাকাতেই জনজীবনে একটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তার মাঝেই নাগরিক সমাজের নামে দিনে রাতে নানা রকমের কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে। মিটিং হচ্ছে, মিচ্ছিল হচ্ছে, শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে, রাত দখল হচ্ছে। আর এই সবের জন্য ধাক্কা খাচ্ছে আমজনতার জীবনজীবিকা। খাস কলকাতার বুকে মার খাচ্ছে পুজোর বাজার। মার খাচ্ছে অর্থনীতিও। এই আবহে আন্দোলনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এদিন অর্থাৎ সোমবার নবান্নে(Nabanna) বসেছিল প্রশাসনিক বৈঠক(Administrative Meeting)। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের(Message to the Protesters) পুজোর মধ্যে, উৎসবের মধ্যে ফিরে আসার ডাক দেন। রাতের আন্দোলনের জন্য কাদের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে সেই তথ্যও তিনি তুলে ধরেন। তা কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

আরও পড়ুন, ‘আমরা প্রমাণ লোপাট করতে যাব কেন? কাকে বাঁচানোর জন্য?’, প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

এদিন বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে আপনারা যদি রাস্তায় থাকেন, তাহলে তো অনেক মানুষের তো সমস্যা হবে। অনেক এলাকায় অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন। আলো লাগালে, তাঁদের ঘুমের সমস্যা হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নিয়মও রয়েছে রাত ১০টার পর মাইক বাজানো নিয়ে। তা সত্ত্বেও তো আমরা সব ছেড়ে দিয়েছি। এক মাস তো হয়ে গেল। আমি অনুরোধ করব, পুজোতে ফিরে আসুন, উৎসবে ফিরে আসুন। সিবিআইকে অনুরোধ করব, তাড়াতাড়ি বিচারের ব্যবস্থা করুন। পুজো একটা অর্থনীতি। বাংলায় একটা উৎসব আসছে। এই উৎসবের সময় গরিব মানুষ করে খায়। ঢাকি থেকে ধামসা-মাদল, ছোট দোকান থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী সবার রুজিরুটি নির্ভর করে পুজোর ওপর। দুর্গাপুজো আমাদের সেরা উৎসব। এই উৎসবে যেন কোনও ভুলভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র, কুৎসা, অপপ্রচার, চক্রান্ত না হয়। পুজো যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে। কোন ক্লাব কী থিম করছে, সেটা পুলিশকে নজর রাখতে হবে। এমন কিছু আমরা করবা না যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে পুজোর সময় অনেক বিদেশি অতিথি আসে, সারা দেশ থেকে অনেক মানুষ আসেন। তাদের যেন কোনও অসুবিধা না হয়।’

আরও পড়ুন, CISF নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের মাঝেই মমতার ক্ষোভে ‘কেন্দ্রের চক্রান্ত’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বাংলা আর বাংলাদেশের মধ্যে একটা ফারাকও টেনে দিয়েছেন। বাংলাদেশে যেহেতু গণ অভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনাকে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে আসতে হয়েছে, তাই এখন আর জি কর কাণ্ডকে ঘিরে মাথাচাড়া দেওয়া আন্দোলগুলি থেকেও দাবি তোলা হচ্ছে মমতার পদত্যাগের। কিন্তু তিনি যে পদত্যাগ করবেন না সেটা গতমাসের শেষের দিকেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আর এদিন পরিষ্কার করে দিলেন কেন বাংলা আর যাই হোক বাংলাদেশ হবে না। তিনি বললেন, ‘সারা পৃথিবীতে বাংলার নামে বদনাম করা হচ্ছে। একটি হোয়াটস্‌অ্যাপ গ্রুপ জুটেছে। যারা এখান থেকে পড়াশোনা করে, খেয়েদেয়ে, মানুষ হয়ে বাইরে গিয়েছেন— তাঁরা একতরফা কথা শুনে বাংলার বদনাম করছেন। তাঁরা তো দু’পক্ষকে শুনতে পারছেন না। তাঁদের বোঝা উচিত, বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র। ভারত আলাদা রাষ্ট্র। এটি আপনারা মাথায় রাখতে ভুলে গিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি অন্য রাষ্ট্র, তাঁদের আমরা সম্মান করি। তাঁদের ভাষাকে সম্মান করি। এখানে বাংলাদেশ হবে না। বাংলায় একটি ঘটনা ঘটলেও, তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা কেউ তা সমর্থন করি না। চুপচাপ আছি। নীরবে বেদনা সহ্য করছি।’

আরও পড়ুন, ‘দয়া করে আপনারা কাজে যোগদান করুন’, সুপ্রিম ডেডলাইনের পরে চিকিৎসকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আর জি কর কাণ্ডকে হাতিয়ার করে এখন যে সব আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে, তার সবই প্রায় হচ্ছে সিপিআই(এম)’র মাঝারি স্তরের নেতানেত্রীদের মাধ্যমে আর দলের সংগঠনের দৌলতে। কার্যত বলা যায়, আর জি কর কাণ্ড সিপিআই(এম)’র মরা গানে কিছুটা হলেও জোয়ার নিয়ে এসেছে। গত ১৩ বছরে লাল পার্টির যে সব নেতানেত্রী থেকে পার্টির ক্যাডার, সদস্য, সমর্থকরা গর্তে ঢুকে বসবাস করছিলেন, তাঁরাই এখন পেশি শক্তি র আস্ফালন দেখানো শুরু করে দিয়েছেন। মমতা এদিন তাঁদেরও বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমাদের সরকার বামফ্রন্ট সরকার নয়। আমি সিঙ্গুর নিয়ে ২৬ দিন অনশনে বসেছিলাম কলকাতায়। কেউ দেখা করতে আসেনি। নন্দীগ্রামে ১৪ জনকে হত্যার সাজা এখনও জানি না। আরও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁরাও এখনও ফিরে আসেননি। স্থানীয়রা বলেন, তাঁদের টেনে নিয়ে গিয়ে হলদি নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দেহ আজও উদ্ধার হয়নি। যারা বড় বড় কথা বলছেন, তাঁদের আমলে স্বাস্থ্য দফতরে ঘুঘুর বাসা বানিয়ে রাখা হয়েছিল। সেটি আমরা ভাঙতে পারিনি। সেখানে বামেদের লোক বসে আছে। আমরা বলেছিলাম, ‘বদলা নয় বদল চাই’। তাই আজ পর্যন্ত কারও চাকরিতে হাত দিইনি। কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা করিনি। কিন্তু এটি আমাদের দুর্বলতা ভাববেন না।’

Published by:

Share Link:

More Releted News:

তালিকায় নাম থাকলেই দেওয়া যাবে না ভোট, নির্বাচন কমিশনের নয়া নিয়ম কী?‌

তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জোর ধাক্কা কমিশনের

ফোন কোনওভাবেই ‘সুইচড অফ’ রাখা যাবে না, অফিসারদের নয়া নির্দেশ কমিশনের

‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের কোনও পরিস্থিতি নেই’, ৮০০ তৃণমূল কর্মী গ্রেফতারের মামলার রায় স্থগিত

বৃষ্টি নাকি ভ্যাপসা গরম? ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগে জানুন কেমন থাকবে আবহাওয়া

‘কলকাতা বস্তির শহর’, তিলোত্তমাকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য শাহের

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ