চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

প্রোমোটরদের বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া আইন আসছে: ফিরহাদ হাকিম

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রোমোটরদের বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া আইন আসছে।বিধানসভায় আইন পাস করাতে হবে। আইনের সাত বছরের মধ্যে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। পৌরসভার আইনের ৪০১ ধারাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এই আইনের ফাঁকে প্রোমোটার/ বিল্ডাররা বেআইনি বিল্ডিং করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম(Mayor Firhad Hakim) । তিনি বলেন, আমরা আইন পরিবর্তনের প্রসেস করেছি। রাজ্য সরকারের থেকে সেই আইন পরিবর্তন হবে।বেআইনি বাড়ি হচ্ছে,ভাঙছি, আবার হচ্ছে। আসলে ভয় পাচ্ছে না।গার্ডেনরিচের বাড়ি ভেঙে পড়া আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অনেক কিছু খামতি আছে।এই বিধানসভার অধিবেশনে হবেনা। কিন্তু তারপরের অধিবেশনে পাশ হয়ে যাবে। যতদিন না পাস হচ্ছে ততদিন পুলিশকে বলছি যাতে কড়া হাতে দমন করে।পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,প্রতিটা বাড়ির সামনে পুলিশ বসিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এত পুলিশ নেই। কারণ পুলিশের অনেক কাজ আছে। দুর্ঘটনা ঘটছে, সেখানে যেতে হচ্ছে। কাজেই আমরা এখানে গার্ড বসিয়ে দিয়েছি।এক মাস কেটে গেল হকার উচ্ছেদ বিষয়টি। সেই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট জমা দিচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও একটা রিভিউ মিটিং(Revue Meeting) করবেন।

জঞ্জাল নিয়ে সমস্যা। এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,পাড়ার পুকুরে আমি সাঁতার কেটেছি। কিন্তু এখন আমার মেয়েদের বলবো না পাড়ার পুকুরে সাঁতার কাটতে। পুকুর জলাশয় , পরিত্যক্ত জমি অনেকে কিনে ফেলে রাখছেন।এইসব জায়গায় যখন আমরা পরিষ্কার করছি,তখন একটা মূল্য ধরে অ্যাসেসমেন্টের সঙ্গে যুক্ত করে দিচ্ছি। আমাদেরও একটা সমস্যা আছে রাস্তাঘাট এলাকা পরিষ্কার করবো? না কি ব্যক্তিগত জায়গা জমি পরিষ্কার করব?এবার থেকে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি নোটিশ ধরাচ্ছি এই ধরনের জমির মালিককে।বর্ষায় ডেঙ্গু প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,একুশে জুলাই পর্যন্তকলকাতায় ডেঙ্গু হয়েছে এবছরে ১৮৪জনের। গত বছর২৭১জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।ম্যালেরিয়ায় এবছর আক্রান্ত ৯৫৪জন। ২১৫৮জন আক্রান্ত গত বছর হয়েছিল।এবার বর্ষা দেরিতে এসেছে। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে। সচেতনতা প্রচার চালাতে হবে। মশার লার্ভা প্রতিরোধে স্প্রে করতে হবে।মশা বাহিত রোগে সচেতনতা আগে থেকে অনেকটা বেড়েছে। আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে।ডেঙ্গিতে মৃত্যু এবং সিভিয়ার কেস অনেকটা কম হচ্ছে।মশার লার্ভা পুরনো বাড়িতে বেশি থাকতে পারে। খোলা জায়গায় বেশি থাকতে পারে। প্রচার অনেক বেশি করছি আমরা।প্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,এই বিষয়ে পরিবেশ দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনারা আবার ড্রাইভ দেবেন। আমি নিজেই বিকেলে চেতলা সেন্টার পার্কে গিয়ে দেখি প্লাস্টিক ফেলে রেখেছেন খাওয়া দাওয়া করে অনেকে। আমি নিজে সেগুলো কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলি। অনেক পার্কেই একই অবস্থা।

নীতি আয়োগ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী(CM) প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,এটা ম্যাডাম ওখানে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন।রাস্তা বেহাল প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বেহালাতে যে জায়গায় রাস্তা বেহাল হয়েছে সেটা পিডব্লিউডি করেছে। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের dg সুকান্তবাবু আছেন। উনি দেখে নিচ্ছেন সব জায়গায় বরো ওয়াইজ সব জায়গায় রাস্তা সরানো হচ্ছে। এবার প্লাস্টিক রাস্তা করা হচ্ছে নতুন করে। যাতে বর্ষাতে নষ্ট না হয়।আদি গঙ্গা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন,আগামী দু বছরের মধ্যে অনেকটা বদলে যাবে আদি গঙ্গা। আমরা অনেকগুলো এসটিপি করেছি। আরো কিছু কাজ বাকি আছে। আদি গঙ্গায় আমি সাঁতার কেটেছি। ১৯৭৮ সালে আমি বন্যার সময় অনেককে উদ্ধার করেছি আদি গঙ্গায় সাঁতার কেটে। মুখ্যমন্ত্রী ও আদি গঙ্গায় সাঁতার কেটেছেন এক সময়।মেয়র আরোও বলেন, আমাদের এক্ট একটা গন্ডগোল আছে। ৪০১এ সাত বছরে নিচে আছে। ফলে তারা বেল পেয়ে যাচ্ছে মানে প্রোমোটাররা। আইনের উপরে কেউ না । মেয়র পরিষদ ও নয়। আমি ভাব ছিলাম যে সব ঠিক আছে। কিন্তু গার্ডেনরিচ ঘটনা আমার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা বাড়ি ভাঙছি আবার হয়ে যাচ্ছে। তার মানে আইন কে ভয় পাচ্ছে না। আমরা পুলিশ কে বলছি যে কঠোর ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পুলিশের অনেক কাজ আছে। পুলিশ এত নেই যে প্রত্যেকটি বাড়িতে দাড়িয়ে থাকবে। শীর্ষ যারা থাকে তারা ভাবে যে কাজ হয়ে যাচ্ছে। কোথায় বেআইনি হচ্ছে তার লক বুক সিস্টেম হয়ে গেছে। তার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বা সব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে দেখতে হবে। আমরা হকার নিয়ে রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী কে জমা দিচ্ছে। তার পরে মুখ্যমন্ত্রী দেখবেন। আসলে আমরা সবাই মডার্ন হয়ে গেছি। পাড়া পুকুরে আর কেউ সাঁতার কাটে না। অনেক জায়গায় পুকুর কিনে রেখে ফেলেছে। আমরা তার একটা কস্ট তাদের অ্যাসেসমেন্ট রেখে দিচ্ছি। তাদের কে আমরা একটা নোটিশ দিচ্ছি।

তারা যখন কোর্টে আসলে তখন তাদের মাথায় আসবে। ডেঙ্গু এখন নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আমাদের জানতে হবে আমাদের এখনে অনেক দেরি করে বর্ষা এসেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাতে হবে। পৌর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করবেন। এটা নরমাল ডিসিজ । খোলা জমি , ছাদে উপরে এই সব বেশি আছে। আমরা রেগুলার প্রচার চালাচ্ছি। মানুষের মধ্যে অনেক সচেতন হয়েছে। প্লাস্টিককে নিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নামছে। কিন্তু মানুষ সচেতন হচ্ছে না। আমার পার্কে চেতলা পার্ক হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা হচ্ছে। আমরা সব সময় সচেতন আছি। গর্ত যেখানে হচ্ছে আমরা সেটা সরানোর চেষ্টা করছি। আদি গঙ্গা আর কিছু দিনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা খুব শীঘ্রই খাল পরিষ্কার করে দেব। আমি নিজেই খালে সাঁতার কেটেছি দাবি মেয়রের।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

আগামী ২-৩ ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় হবে শিলাবৃষ্টি

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল গাড়ি, আহত ৪

‘‌বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর ঠিক ১৯ দিন’‌, বিজেপি–নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ তৃণমূলের, কড়া চিঠি পেশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ