চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বাংলার জনতাকে বঞ্চিত করে রাজ্য থেকেই রেকর্ড আয়কর আদায় মোদি সরকারের

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত ১০ বছর ধরে প্রতি পদে পদে বাংলাকে(Bengal) বঞ্চিত করে এসেছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকার(Narendra Modi Government)। সমস্ত রকমের কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে তাঁরা বঞ্চিত করেছেন বাংলাকে। বাংলার মানুষকে। আটকে রেখেছেন বাংলার প্রাপ্য কোটি কোটি টাকা। অথচ সেই বাংলা থেকেই ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে(2023-24 Financial Year) রেকর্ড আয়কর(Income Tax) আদায় করেছে কেন্দ্রের সরকার। এ রাজ্য থেকে কর্পোরেট বা শিল্প সংস্থাগুলির দেওয়া আয়করকে এই প্রথম ছাপিয়ে গেল সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা কর। পাশাপাশি লাফিয়ে বেড়েছে বাংলার সাধারণ করদাতার সংখ্যাও, বলছে Income Tax Department’র সূত্র। আর এই সব দেখে বাংলার আর্থিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মোদি জমানায় Income Tax দেওয়ার দায় যে সবচেয়ে বেশি মধ্যবিত্তের, বলা ভালো চাকুরিজীবীদের ওপর বর্তেছে, সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।  

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, আয়করকে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের দফতর হিসেবে তুলে ধরতে রাজি নন। বরং সাধারণ করদাতারা যাতে স্বেচ্ছায় কর দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে। বাড়ানো হবে করদাতার সংখ্যাও, এমন দাবিও করেছিলেন তিনি। তবে তখন তিনি এটা জানাননি যে, তাঁর সরকারের আমলে কোটিপতিদের আর শিল্পপতিদের আয়কর থেকে ঋণখেলাপির ছাড় দিয়ে তাঁরা দেশের মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়কেই(Middle Class People) বেছে নেবেন আয়কর দেওয়ার জন্য। কার্যত মোদি জমানায় দেশের অর্থভান্ডার ফুলেফঁপে উঠেছে এই মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত মানুষের দেওয়া কর থেকেই। অথচ সেই মধ্যবিত্তরাই মোদি জমানায় আয়কর ছাড় থেকে কোনও সুরাহা পাননি। বরঞ্চ আমজনতার সঞ্চয় ক্রমশ কমেছে এই ১০ বছরে। যদিও এই ১০ বছরে দেশের কর্পোরেট সংস্থাকে বিরাট ছাড় দেওয়া হয়েছে আয়কর ও ঋণের ক্ষেত্রে।

Income Tax Department’র সূত্রে জানা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে বাংলা, সিকিম এবং আন্দামান ও নিকোবর থেকে নিট আয়কর আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এই নিট আদায় বলতে মোট আদায় থেকে রিফান্ড বাদ দিয়ে বলা হচ্ছে। তারপরেও এত বিপুল পরিমাণ আদায় এর আগে কখনও হয়নি বলেই জানিয়েছেন Income Tax Department’র আধিকারিকেরা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই আয়কর আদায়ের অঙ্ক ছিল ৫৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, এই বিপুল অর্থের সামান্যই আসে আন্দামান ও সিকিম থেকে। মোট আদায় হওয়া অঙ্কের মধ্যে শিল্প সংস্থা থেকে এসেছে ৩১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। বাকি ৩১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা এসেছে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। Income Tax Department’র কর্তারা বলছেন, বিগত কয়েকটি বছরে শিল্প সংস্থা থেকে আদায় হওয়া টাকার অঙ্কের কাছাকাছি আসত সাধারণ মানুষের Income Tax, কিন্তু কখনও তা ছাপিয়ে যায়নি। গত অর্থবর্ষে শিল্পকে ছাপিয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের থেকে আদায়। পাশাপাশি বেড়েছে সাধারণ করদাতার সংখ্যাও।  

গত অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এরাজ্য থেকে আয়কর মিটিয়েছেন ৬৯ লক্ষ ৬২ হাজার জন। তার আগের বছর সেই সংখ্যা ছিল ৬৫ লক্ষ ৬০ হাজার। ৫ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে বঙ্গে আয়করদাতার সংখ্যা ছিল ৪৬ লক্ষ ২৮ হাজার।  কর বিশেষজ্ঞদের দাবি, মোদি জমানায় কর্পোরেট সংস্থাকে আর্থিক ছাড় দেওয়া নতুন কিছু নয়। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের কিছু অংশে এখনও নগদ লেনদেনে রাশ টানতে পারেনি কেন্দ্র। ফলে সেসব লেনদেনকে আয়করের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সাধারণ চাকরিজীবীরা যাতে কোনওভাবেই কর ফাঁকি দিতে না-পারেন, তার জন্য সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক-পোস্ট অফিসের সুদ থেকে শুরু করে শেয়ারের লভ্যাংশ বা অন্য কোনও খাতে আয়—সবটুকু‌ই এখন আয়কর দফতরের ‘স্ক্যানার’-এ। আর তাতেই ভরছে সরকারের ভাঁড়ার, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মধ্যবিত্তের ক্ষোভ আছড়েও পড়ছে ইভিএমের অন্দরে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

আগামী ২-৩ ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, জেলায় জেলায় হবে শিলাবৃষ্টি

ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, নিষ্পত্তি হওয়া নাম তুলতে হবে ভোটার তালিকায়

খাস কলকাতায় সিপিএমে ভাঙন, নির্বাচনের প্রাক্কালে একঝাঁক যুবনেতার যোগ তৃণমূলে

সল্টলেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেল গাড়ি, আহত ৪

‘‌বাংলায় আপনাদের মেয়াদ আর ঠিক ১৯ দিন’‌, বিজেপি–নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ তৃণমূলের, কড়া চিঠি পেশ

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ