চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

১০০ দিনের প্রকল্প বন্ধ করার ফন্দি মোদি সরকারের

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা(Bengal) সহ দেশের(India) গ্রামীণ এলাকার অর্থনীতিতে(Rural Economy) বড়সড় ধাক্কা দিতে এবার কোমর বাঁধছে নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) সরকার। কার্যত ধাপে ধাপে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েই ফেলেছেন। আর সেটাঅ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই। আর সেই কারণেই তাঁরা চলতি অর্থবর্ষে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের(100 Days Work Project) জন্য গত অর্থবর্ষের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম টাকা বরাদ্দ করেছেন। মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে যা দিয়ে ১০০ দিনের কাজ চালানো দূরের কথা মেরেকেটে ১৭ দিনের কাজ পাওয়া যাবে। নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই এমন আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিশেষজ্ঞরা। বাংলা সহ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য যা মোটেই খুশির খবর নয়।

আরও পড়ুন বিহারে ক্ষমতায় ফিরলে দাঙ্গাবাজদের উল্টো করে ঝোলাব, হুঙ্কার অমিত শাহের

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের আইন অনুযায়ী, জব কার্ড হোল্ডারদের(Jobcard Holders) বছরে ১০০ দিন কাজ দিতে বাধ্য সরকার। কিন্তু গাণিতিক হিসেবে ৬০ হাজার কোটি টাকায় তা সম্ভব নয়। মাত্র ১৭ দিনেই তা ফুরোবে। এছাড়া বকেয়া মজুরি মেটাতে হবে ওই বরাদ্দ থেকে। ফলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কাজের দিনের সংখ্যাটা আরও কমবে। সেই কারণে দেশজুড়ে ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ বছরভর কাজের সুযোগ হারাতে চলেছে বলেই দাবি বিভিন্ন সমীক্ষার। এমজিএনআরইজিএস সংঘর্ষ মোর্চা নামে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রিপোর্টের জেরে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। তাদের দাবি, দেশে জব কার্ডধারী প্রত্যেককে অন্তত ৪০ দিন কাজ পাইয়ে দিতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখন শুধু বকেয়ারই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭০ কোটিতে। সংস্থাটির সঙ্গে জড়িত সমাজকর্মী আশিস রঞ্জনের দাবি, ‘এটা মানুষের কাজের অধিকারে সরাসরি আঘাত এবং প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। কম বরাদ্দের কারণে আগামী দিনে কাজের চাহিদা বাড়বে। আবার উন্নত মানের সম্পদও তৈরি হবে না।’

আরও পড়ুন খোদ মোদি-শাহের গুজরাতেই ৩২ হাজারেরও বেশি স্কুলশিক্ষকের পদ শূন্য

যদিও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ থাকে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষেই সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ৯৮ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ ১ লক্ষ ১১ হাজার কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে সংশোধিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার ৪০০ কোটি। মার্চের শেষে খরচ ১ লক্ষ ছুঁইছুঁই বলে সরকারি সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবর্ষেও বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অবশ্য দাবি, গত পাঁচটি আর্থিক বছরে বাজেট বরাদ্দের ২১ শতাংশ বকেয়া মেটাতে ব্যবহার করেছিল কেন্দ্র। সেই প্রবণতা বজায় থাকলে চলতি অর্থবর্ষের শেষে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বরাদ্দ হ্রাসের কারণে অবশ্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলা।

আরও পড়ুন ২০১৮ সাল থেকে ইডির মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৫০৫%

গোটা দেশের জব কার্ডধারী পরিবারগুলির প্রায় ১১ শতাংশ এরাজ্যের বসিন্দা। বাংলার প্রায় দেড় কোটি ‘অ্যাক্টিভ’ জব কার্ড হোল্ডারকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর বকেয়া বাবদ কোনও টাকা দেয়নি কেন্দ্র। অঙ্কটা প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এনিয়ে কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার দরবার করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ‘লিবটেক ইন্ডিয়া’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় ২০২২ সালের এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়কালে ৩,৮৯২ কোটি থেকে ৬,০৪৬ কোটি টাকার মজুরি হারিয়েছেন এরাজ্যের শ্রমিকরা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা শ্রমিকরা। তারা ১৮৭০ কোটি থেকে ২৭৫৮ কোটি টাকার মজুরি হারিয়েছেন। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।    

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নির্বাচনে আগে কলকাতায় গঙ্গার পাড়ে ধরা পড়ল বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ধৃত ২

কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের ডিরেক্টরকে তলব ইডির

কলকাতায় গরম বেড়ে হবে ৩৭ ডিগ্রি, পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪১’র ঘরে

প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে থাকবেন মোদি-শাহ, বড় পরিকল্পনা বিজেপির

ভয় পেয়ে বিজেপি এজেন্সির চাপ দিচ্ছে, ভবানীপুরে কমিউনিটি বৈঠকে তোপ মমতার

আর্থিক তছরূপ মামলায় টানা ৭ ঘন্টা জেরার পর অবশেষে গ্রেফতার ব্যবসায়ী জয় কামদার

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ