আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

হুঁশিয়ারির পরই কাজে ফিরলেন আরজিকরের পিজিটির একাংশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘ জটিলতার পরে এবার মিললো একটু আলোর আভাস। কলকাতার আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যে অচলাবস্থা চলছিল তা এবার কিছুটা হলেও মেটার লক্ষ্মণ দেখা দিল। যদিও তার জন্য রাজ্য সরকারকে কিছুটা হলেও কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি সমস্যা মুক্ত হয়নি। বরঞ্চ হাসপাতালের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ অনশন আন্দোলন চালিয়েই যাচ্ছে। একই সঙ্গে আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও এটা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার যে এই হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা একেবারেই ভেঙে পড়েছে।  

মঙ্গলবার আরজি করের জট কাটাতে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের ৩৮টি বিভাগের প্রধানরা। বেলা ১২টার সময় স্বাস্থ্য ভবনে ৩৮টি বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে সেই বৈঠক করেন ওই দুই আধিকারিক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে, পিজিটিদের ওপরে যেহেতু বিভাগীয় প্রধানদের প্রভাব রয়েছে তাই বিভাগীয় প্রধানদের এ বিষয়ে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। এক‌ই সঙ্গে পরিষেবা সচল রাখার জন্য যা যা করণীয় সেই সকল পদক্ষেপ‌ও করতে বলা হয়। বৈঠকে বিভাগীয় প্রধানদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিটি বিভাগে যাতে পরিষেবা ঠিকমতো পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে হবে বিভাগীয় প্রধানকেই। কারা কাজে আসছেন, কারা কাজে যোগ দিচ্ছেন না, সমস্ত রিপোর্ট আরজি কর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাস্থ্যভবনকে জানাতে হবে। এরপরেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান ভারপ্রাপ্ত এম‌এসভিপি বিকাশ ঘোষ, হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ত্রিদিপ মুস্তাফি, নার্সিং সুপার তৃষ্ণা সাহা এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার পিয়ালী দাস। সেই সময়েই তাঁরা নির্দেশ দিয়ে দেন যে, পরবর্তী দু’ঘণ্টার মধ্যে পিজিটিদের কাজে যোগ দিতে। এ ভাবে পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে পিজিটিরা আন্দোলন করবেন, এটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় কখনওই মান্যতা পায় না। এরপরই অবশ্য অর্থোপেডিক ও সার্জারির ইউনিট ফোরের পিজিটিরাও কাজে যোগ দেন।

পরে আরজিকর হাসপাতালের ডিন অব স্টুডেন্টস প্রবীর মুখোপাধ্যায় জানান, ‘সাড়ে চারশো পিজিটি’র মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ কাজে ফিরেছেন। পিজিটিরা যখন এখানে যোগ দেন, তখন তাঁদের নিয়মাবলীর মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল পরিষেবা ব্যাহত কোনও ভাবেই তাঁরা করতে পারেন না। এরপরেও যদি কেউ কাজে যোগ না দেন তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পিজিটিদের নিয়ন্ত্রক শক্তি যেহেতু বিভাগীয় প্রধান, সে কারণে বিভাগীয় প্রধানদেরও বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’ এরপরেই পিজিটিদের একাংশ কাজে যোগ দেওয়ার পরে সাড়ে ১২টা নাগাদ প্ল্যাটিনাম জুবিলি বিল্ডিংয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। সেখানেই ঠিক হয় এদিন আন্দোলনকারীরাও নিজেদের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমকে জানাবে। সেই মতো এদিন আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়, তাঁরা অচলাবস্থা কাটাতে আগ্রহী। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে আগে অনশন তুলতে হবে। কর্তৃপক্ষ কোনও কথা শুনতে নারাজ। তাঁরা শুধু অনশন তুলতে আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সচিবকে জনসমক্ষে বৈঠকের অনুরোধ জানান তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতটাই উদাসীন এবং অমানবিক যে অনশনরত পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য কেমন, তা জানার প্রয়োজন বোধও করেনি। পড়ুয়াদের অনশনের মাঝেই হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছেন অধ্যক্ষ। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অধ্যক্ষের প্রতিহিংসা পরায়ণ, স্বৈরাচারী মনোভাবই এই অবস্থার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অনশনরত হবু চিকিৎসকরা।

তাঁরা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না। সূত্রের খবর, আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের ১১ জন এবার আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবার ২ জন ইতিমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের তরফেও দুই জুনিয়র ডাক্তারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। শাস্তির কোপে পডে়ছেন অন্যান্য ডাক্তাররাও। তাঁরা আউটডোরে হাজির থেকে চিকিৎসা না করলে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে হাসপাতালের তরফে। তবে অনশনে ভঙ্গ দিয়ে কাজে ফেরেননি কেউ।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের আধিকারিকরা,নজরদারিতে আর কী থাকছে?

‘হেরে যাওয়া মানুষের নাটক শুরু’, স্ট্রংরুমকাণ্ডে মমতাকে তোপ দিলীপের

‘শ্রমিকরাই দেশের গর্ব ও সমাজের সম্পদ’, শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

অবশেষে পুর দুর্নীতি মামলায় ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে সুজিত বসু

বঙ্গে কে আসবে ক্ষমতায়? মনের কথা জানিয়ে দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

নির্বাচনে অশান্তি ঠেকাতে আধাসেনার জওয়ানদের দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ লাঠি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ