চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

কৃষ্ণনগরে রাজমাতার তুলনায় শত যোজন এগিয়ে মহুয়া

Courtesy - Facebook

নিজস্ব প্রতিনিধি: মেয়েটা বড্ড চিল্লাতো। কঠিন কঠিন শব্দে ইংরেজি বুলির ঝড় তুলতো। বড্ড প্রশ্ন করতো। আর ভান্ডা ফাটিয়ে দিতো। দিল তাই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে। খালি সেই ধাক্কা দেওয়ার সময় ধাক্কাবাবুরা বুঝতে পারেননি তাঁদের দিকে ঠিক কোন রামধাক্কা এগিয়ে আসছে। আর সেই রামধাক্কা দেওয়ার অপেক্ষাতেই প্রহর গুণছেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের(Krishnanagar Constituency) ভোটাররা। কেননা মেয়েটার নাম যে মহুয়া মৈত্র(Mahua Moitra)। যাকে নরেন্দ্র মোদির দল লোকসভা থেকে অপবাদ দিয়ে সাংসদ থেকে বার করে দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে যার সাংসদ পদ। এবার জনতার আদালতে সেই মহুয়ার বিরুদ্ধেই রায় নিতে নামতে হচ্ছে বিজেপিকে। সঙ্গী ‘রাজমাতা’ অমৃতা রায়। তবে নদিয়াবাসী রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রায়গুণাকর কবি ভরতচন্দ্র রায় আর গোপাল ভাঁড় ভিন্ন আর কাউকেই সেভাবে চেনে না। রাজমাতাকে তো নয়ই। তাই প্রচারে নেমে মহুয়া যেখানে ঝড় তুলছেন, সেখানে অমৃতা শুধুই নিজেকে চেনাচ্ছেন। বেচারা মোদি, রাজমাতাকে জেতাতে তাঁকেও ২ বার এসে সভা করতে হচ্ছে। তারপরেও জয় চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় ঢাকা।

নদিয়া জেলার ২টি লোকসভা কেন্দ্র। কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট। তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া এবং কৃষ্ণনগর উত্তর ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ – এই ৭টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়েই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের গঠন। ২০০৯ সাল থেকেই এই কেন্দ্র থেকে টানা জিতে চলেছে তৃণমূল(TMC)। তাই এবারেও জয় নিয়ে কোনও সংশয়ে নেই জোড়াফুল শিবির। ২০০৯ সালে তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল টলি অভিনেতা তাপস পালকে। তিনি জিতেছিলেন ৭৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বামেরা। তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। ২০১৪ সালে তাপস পালের জয়ের ব্যবধান সামান্য কমলেও দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছিল বামেরাই। বিজেপিও ছিল তৃতীয় স্থানেই। তবে সেই নির্বাচনেও তৃণমূল ও বামেদের ভোটপ্রাপ্তির সংখ্যায় খুব একটা পরিবর্তন না এলেও বিজেপির ভোট বেড়েছিলে একলপ্তে ২ লক্ষ। কীভাবে বিজেপির এই ভোট বেড়েছিল, তা আজও একটা রহস্য। ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনেও বিজেপির ভোট বেড়েছিল প্রায় ২ লক্ষ। সাড়ে ৫ লক্ষ ভোট পেয়ে সেই নির্বাচনেই বিজেপি(BJP) কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে উঠে এসেছিল দ্বিতীয় স্থানে। বামেরা প্রায় সম পরিমাণ ভোট হারুট্ব চলে গিয়েছিল তৃতীয় স্থানে। তবে মহুয়া সেই নির্বাচনেই প্রথমবার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি জেতেন ৬৩ হাজার ভোটে।

আর এবার? এবার তৃণমূল মাঠেই নামছে, মহুয়াকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে দেশের সংসদ ভবনে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে। যে বিজেপি মহু্য়ার সাংসদ পদ খারিজ করে দিয়েছিল, সেই বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিতে মহুয়াকে সাংসদ হিসাবেই দিল্লি পাঠাতে চায় তৃণমূল। একুশের ভোটে এই লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতেই জিতেছে তৃণমূল। শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন মুকুল রায়। সেই নির্বাচনেই দেখা যায় কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ১ লক্ষ ১১ হাজার ভোটের লিড তুলে নিয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেই লিডের নেপথ্যে কাজ করেছিলে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন। এবারেও তৃণমূল আশাবাদী, সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক তাঁদের দিকেই আসবে। একই সঙ্গে তৃণমূল আশাবাদী এই কেন্দ্রে থাকা মতুয়া ভোটাররাও তাঁদের দিকেই সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেবে। কেননা নাগরিকত্বের ইস্যুতে বিজেপি তাঁদের সঙ্গে যে প্রতারণা করেছে তাতে পদ্মের বিরুদ্ধে ফুঁসছে জেলার মতুয়া বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁদের গ্রাস করেছে সিএএ(CAA) আতঙ্কও। সেই আতঙ্ক থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ তৃণমূলকে সমর্থন। তাই মহুয়ার দিল্লিযাত্রা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই তৃণমূলের।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

পুরুলিয়ায় ‘মমতা পরশে জঙ্গলমহল হাসছে’ তথ্যচিত্রের উদ্বোধন করলেন সায়নী ঘোষ

নির্বাচনের মুখে কলকাতায় ম্যারাথন তল্লাশি ইডি-র

শুক্রে ঝোড়ো প্রচারে মমতা-অভিষেক, রয়েছে জনসভা ও পদযাত্রাও

দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও কার্যালয়ে IT হানা, কী কারণে আয়কর তল্লাশি?

প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি, সেরা ধনী কে?‌

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী, নিজের হাতে থালা সাজিয়ে দিলেন পুজো

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ