আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

বিশ্বজয়ী রিচাকে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবে দেখতে চান মমতা-সৌরভ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় ক্রিকেটে রিচা ঘোষ এক গৌরবের নাম। প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছেন তিনি। বাংলার মেয়ে বিশ্বকাপ জিতে যেদিন ঘরে ফিরেছিলেন, সেদিন রেড কার্পেট অপেক্ষা করছিল তার জন্য। রেড কার্পেটে হেঁটে পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে মায়ের হাতের পায়েস খেয়ে ঘরে ঢুকে ছিলেন শিলিগুড়ির ২২ বছরের তরুণী। হয়তো কোনও এক সময়ে এই তরুণী স্বপ্ন দেখতেন এমনই এক দিনের। বাংলার সোনার মেয়ের জন্য গর্বিত রাজ্য সরকার এবং সিএবি। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতে শনিবার উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয় কলকাতায়। শনিবার রিচাকে সংবর্ধনা দিল সিএবি। ভারতে মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য যিনি মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এসেছিলেন এই দিন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েও দিয়েছেন নিজের মনের ইচ্ছার কথা। সৌরভ বলেছেন তিনি ভবিষ্যতের ভারত অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চান রিচাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইডেন থেকে একই বার্তা দিয়েছেন। অকুণ্ঠ প্রশংসা এবং বিপুল প্রত্যাশার শিখরে বসে আপ্লুত রিচা স্বয়ং। 

ইডেনে এদিন উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী, সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সিএবি কর্তা সঞ্জয় দাস, নীতিশ রঞ্জন দত্ত, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সহ অনেকেই শনিবার রিচাকে পুষ্পস্তবক, সোনার চেন, ৩৪ লক্ষ টাকার চেক, সোনার ব্যাট বল দিয়ে সম্মানিত করলেন রাজ্য সরকার এবং সিএবি। সেই সঙ্গে রিচা পেলেন বঙ্গভূষণ সম্মান। তাঁর হাতে এল ডিএসপি হিসাবে যোগদানের অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার। শুধু মেয়েকেই না, মা-বাবা কেও সম্মানিত করা হয়েছে এদিন। এমন মা বাবা না থাকলে কি এমন মেয়ে হয়! তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম এর ফসলই ঘরে এনেছেন রিচা। তাঁর মা বাবার অবদান কোনওভাবেই ভুলে যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্মানিত করার পাশাপাশি নিজের গলার মাফলার খুলে পরিয়ে দিয়েছেন রিচার মায়ের গলায়। প্রসঙ্গত রিচার বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে সিএবির আম্পায়ারের ভূমিকায় রয়েছেন।

রিচা ঘোষকে সম্মান প্রদানের মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখলেন ঝুলন গোস্বামী। সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন রিচাকে আবিষ্কারের অভিজ্ঞতা। বললেন, “”২০১৩ সালে ভারতীয় মহিলা দল খুব ভাল খেলতে পারেননি। বাংলার ক্রিকেটেও সেভাবে উন্নতি হয়নি। আমি তখন সিএবি সেক্রেটারি বিশ্বরূপ দে, গৌতম স্যার, বাবলু স্যারকে জিজ্ঞাসা করি আমরা কি ডিস্ট্রিক্টে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম করতে পারি। আমার কথায় তাঁরা সমর্থন করেন। সেই সূত্রেই আমার রিচাকে দেখা। প্রথম শিলিগুড়িতে গিয়ে অনূর্ধ্ব ১৫ ও অনূর্ধ্ব ১৬ তে আমি ওকে দেখেছিলাম। আমি ফিরে বলি সিএবি কর্তাদের জানাই আমাদের কাছে কিন্তু প্রচুর ট্যালেন্টেড ক্রিকেটার আছে। তাঁদের সাপোর্ট করতে পারলে ভবিষ্য্যতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে। রিচা এত ট্যালেন্টেড ছিল, ওই বয়সে আমি আর কাউকে দেখিনি । এরপর বেঙ্গল টিমে ও সিলেক্ট হয়। সেই সময় সৌরভ স্যার প্রেসিডেন্ট, অভিষেক স্যার সেক্রেটারি । আমি বলি যে ওকে সিনিয়র টিমে সিলেক্ট করতে চাই, অনেকেই তখন বলেছিলেন ও এখনও অনেক ছোট। এখুনি সিনিয়রে আনার দরকার নেই। কিন্তু স্যারেরা আমাকে সাপোর্ট করেন। তারপর তো ইতিহাস। একের পর এক জয় পেয়েছে। গত ৪৭ বছর ধরে ভারতীয় মহিলা দল যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ করল এবার রিচা, হরমন, স্মৃতি সকলে মিলে। ওদের অসংখ্য ধন্যবাদ। রিচার জার্নির এই শুরু, আরও অনেক দূরে এগিয়ে যেতে হবে ওকে। “

এদিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মঞ্চে উঠে রিচাকে সম্মানিত করেছেন। বলেছেন, “আগে মহিলাদের ক্রিকেট তো অর্থনৈতিকভাবে এত ভাল জায়গায় ছিল না। কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন মহিলাদের ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনটি আইসিসি ইভেন্টের ক্যাপ্টেন ছিলাম আমি, তিনটেতেই রানার আপ। তুমি বিশ্বকাপ জিতে এসেছ। রিচারা যখন চ্যাম্পিয়ন হয় তখনই আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলেন।রিচা ভারতীয় দলে যে রোল টা প্লে করে তা খুব কঠিন। কারণ ৬ নম্বরে নেমে বল খুব কম পাওয়া যায়। তোমার কেরিয়ার সবে শুরু, এখনও অনেক খেলার সুযোগ পাবে। তোমাকে আমাদের তরফ থেকে অভিনন্দন। ভারতীয় দলে রিচার মূল্য স্মৃতি, হরমণদের থেকে কিছু কম নয়। আমরা যে কোন একটা দিন বলতেই পারি রিচা, ভারত অধিনায়ক।”

রিচা ঘোষকে সম্মাননা প্রদানের মঞ্চ থেকে জানা গেল ৯০ এর দশকে দিল্লিতে পুরুষ ও মহিলা সংসদদের নিয়ে এক ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছিল সেখানে সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করে তিনি বলেন, “ওর বয়স অল্প, ওকে মানসিক চাপ বেশি দেওয়া উচিত নয়। ভালবাসা দিয়ে বাংলা ও বিশ্ব জয় করবে ও। মনের শক্তি সব থেকে বড় । নিজের কাজ নিজেকে করে যেতে হবে। দুর্গম কে জয় করে পৌঁছে যেতে হবে। লড়তে হবে খেলতে হবে জিততে হবে।”

Published by:

Share Link:

More Releted News:

কাটল শনির দশা, নিশাঙ্কা-রাহুলের ঝোড়ো ইনিংসে রাজস্থানকে হারিয়ে জয়ী দিল্লি

বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী বিজড়িত পুরাতন মালদার দেবকুন্ডকে ঘিরে গন্ধেশ্বরী মাতার পুজো

বিধ্বংসী ব্যাটিং রিয়ান-ডোনোভানের, দিল্লিকে ২২৬ রানের লক্ষ্য দিল রাজস্থান

মালদায় গণনা কেন্দ্রে কী করতে হবে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

সোমবার গণনার দিন কলকাতা সহ গোটা বঙ্গে ধেয়ে আসছে প্রবল দুর্যোগ

গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী কেন?‌ সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, শনিবারই জরুরি শুনানি

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ