চোখ রাখুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

আর জি কর কাণ্ডের জেরে, রাজ্যে সিভিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পদ্ধতি বদলের সম্ভাবনা

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার পরই রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের সহায়তা ও নিরাপত্তায় সিভিক ভলান্টিয়ার(Civic Volunteer) পদে নিয়োগ শুরু হয়। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, পুলিশ না হয়েও পুলিশ(Police) বাহিনীরই অংশ হয়ে গিয়েছে বাংলার(Bengal) সিভিক ভলান্টিয়াররা। এই নিয়ে বিরোধীরা বার বার সরহ হয়েছে রাজ্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু ছবিতে বদল আসেনি। রাজ্য সরকার সিভিক ভলান্টিয়ারদের সংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে। সেই সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের বেশ কিছু সুযোগ-সবিধা। বাড়ানো হচ্ছে তাঁদের বেতনও। তারপরও একশ্রেনীর সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বার বার অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। আর জি কর কাণ্ডে নতুন করে সেই অস্বস্তি আবারও সামনে চলে এসেছে। একইসঙ্গে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকেরা মনে করছেন, সিভিকদের বাছাই ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় গলদ রয়ে যাচ্ছে আর সেই কারণেই সিভিকদের একাংশের জন্য বার বার অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। আর সেই কারণেই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মের(Civic Recruitment Process) বদল ঘটানো হতে পারে, এমনটাই জানা যাচ্ছে নবান্ন সূত্রে।

আরও পড়ুন, বাগডোগরায় ৬ শিবভক্তকে পিষে দিল স্করপিও, ছাতনায় ট্রাক পিষল ২জনকে

বস্তুত বাংলার বুকে পুলিশ বাহিনীর সাহায্যে যেভাবে সিভিক ভলান্টিয়ার বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে, সারা দেশে তার দ্বিতীয়টি কোনও রাজ্যে দেখতে পাওয়া যাবে না। সিভিক ভলান্টিয়ারদের পদ তৈরি হওয়ার পরে বহু যুবক-যুবতীর সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে এটা ঠিক কথা। কিন্তু সিভিক ভলান্টিয়ারদের একশ্রেনীর কার্যকলাপ বার বার অস্বস্তিতে ফেলছে রাজ্য সরকারকে। পুলিশ আধিকারিকদের এই সিভিকদের প্রতি মদত থাকার সুবাদে একশ্রেনী সিভিক ভলেন্টিয়ার যা খুশি করে বেড়াচ্ছে। আর সেই সঙ্গে মুখ পুড়ছে রাজ্য সরকারেরও। ওই সব সিভিকদের কারও বিরুদ্ধে উঠছে মস্তানির অভিযোগ, কারও বিরুদ্ধে উঠছে তোলাবাজির অভিযোগ, কারও বিরুদ্ধে উঠছে জমি-বাড়ি দখলের অভিযোগ, কেউ কেউ তো চুরি-ডাকাতি-অপহরণের ঘটনার সঙ্গেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি খুন ধর্ষণের মতোও অভিযোগ উঠছে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে। আর পথচলতি সাধারণ মানুষকে হেনস্থা থেকে তাঁদের মারধরের তো গুচ্ছের অভিযোগ ওঠে নিত্যদিনই। যদিও আর জি করের ঘটনা(R G Kar Incident) সেই সব নৃশংসতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন, বিহারের শিবমন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ৭ ভক্তের

এখন নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠছে, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ঠিক মতো ব্যবহারই করছে না পুলিশ। সেই সঙ্গে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও গলদ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগের সময় আবশ্যিক সিভিক পদপ্রার্থীর চারিত্রিক শংসাপত্র। কিন্তু, আদতে তা যাচাই করা হয় না বলেই অভিযোগ উঠছে। এমনকি পুলিশ  ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেটও অনেক সময় নেওয়া হয় না। নিয়ম বলছে, পুলিশ জেলার ক্ষেত্রে পুলিশ সুপার ও কমিশনারেটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করবেন। প্রার্থী যে এলাকার বাসিন্দা, সেখানেই বা তার পার্শ্ববর্তী থানাতেই কাজে যুক্ত করা হবে। কোনও সমস্যায় তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ কিংবা কমিশনারেটের সদর দফতরে বদলি করা যেতে পারে। কিন্তু, আদতে সেই নিয়ম মানা হয় না। সব থেকে বড় যে অপভিযোগ উঠেছে তা হল, সিভিক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘সুপারিশ’ বড় ভূমিকা নেয়। সেই ক্ষেত্রে আবার যাচাই করা হয় না চারিত্রিক শংসাপত্র।

আরও পড়ুন উচ্চমাধ্যমিকের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই স্নাতকে আসন কমুক, চাইছেন শিক্ষা প্রশাসকেরা

শুধু তাই নয়, নিয়ম অনুযায়ী, পদপ্রার্থীর কোনও অপরাধের নজির রয়েছে কি না, সে আগে গ্রেফতার হয়েছে কি না, ইত্যাদি খতিয়ে দেখার কথা। কিন্তু, আদতে সেসব কিছুই হয় না। এবার কিন্তু এই সব ক্ষেত্রে বদল আসতে পারে। সূত্রের খবর, কলকাতা ও রাজ্যের ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ হবে তাঁদের ডেটাবেস খতিয়ে দেখে। পুরনো রেকর্ড খতিয়ে দেখেই হবে নিয়োগ। স্বয়ং পুলিশ সুপার বা ডেপুটি কমিশনার নিজেই খতিয়ে দেখবেন প্রার্থীর নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। সেই সার্টিফিকেট জাল কি না, তাও যাচাই করা হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক স্তর থেকে আসা ‘সুপারিশ’ যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া হবে। সেই সঙ্গে জোর দেওয়া হবে আবেদনকারীর চারিত্রিক শংসাপত্র খতিয়ে দেখার কাজেও। পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট জমা দেওয়াও আবশ্যিক করে দেওয়া হচ্ছে।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতে ব্যবসায়ী জয় কামদারকে রাখার নির্দেশ আদালতের

দু’‌দিন পর আবার বাংলায় আসছেন রাহুল গান্ধি, ভোট মরশুমে সভা করবেন কোথায়?‌

বিধানসভা নির্বাচনে মদের দোকান খোলা–বন্ধের নিয়মে ব্যাপক রদবদল, চাপ সুরাপ্রেমীদের

ব্রাত্য লাল, তুমুল রেষারেষি চলছে গেরুয়া–সবুজের মধ্যে, বড়বাজারে তুঙ্গে চর্চা

‘‌বাংলার মানুষ–তৃণমূলের বন্ধন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি’‌, বার্তা ঘাসফুলের

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু ও ২ ছেলেকে ইডির তলব, সোনা পাপ্পু যোগে তদন্ত

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ