দেখতে থাকুন
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

আসানসোলের মিঠানিতে চক্রবর্তী বাড়ির ৪০০ বছরেরও বেশি পুরাতন পুজো

Courtesy - Google

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। ইতিহাস এবং জনশ্রুতি মিলে দুর্গাপুজো ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা মিথ। বিশেষ করে বনেদি বাড়ির পুজোয়। বিভিন্ন নিয়ম-কানুন এবং প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু রীতি এই পুজোগুলিকে অন্য পরিচয় দেয়। রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান(Paschim Burdwan) জেলার আসানসোল মহকুমার কুলটি(Kulti) শহরের মিঠানি এলাকায় ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়ে চলেছে চক্রবর্তী বাড়ির(Chakrabarty Family Durga Puja) পুজো। এই পুজোর সব থেকে বড় পরিচিতি তার সন্ধিপুজো। এই বাড়ির সন্ধিপুজোয় সন্ধিক্ষণ নির্ধারিত হয় জলঘড়ির(Water Clock) মাধ্যমে। পরিবারের লোকেরা তাকে বলেন, ‘তামি’(Tami)। যখন এই পুজো শুরু হয়েছিল, তখন না ছিল কুলটি শহর না ছিল কোনও জনবসতি। ছিল শুধু চাষের জমি। সেই জমিতেই চাষ করতে গিয়ে বাড়ির লাগোয়া দুর্গামন্দিরের সামনে পাওয়া গিয়েছিল মায়ের অষ্টধাতুর মূর্তি। ওই মূর্তিকে দুর্গামন্দিরের বেদির তলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে ওই বেদির উপর দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে পুজো শুরু হয়। আজও চক্রবর্তী পরিবারে একইভাবে পুজো হয়ে আসছে।

চক্রবর্তী বাড়ির প্রতিমা সাবেকি হলেও সেখানেও একটি বৈশিষ্ট আছে। এখানে মায়ের সঙ্গে তাঁর ৪ ছেলেমেয়ে থাকলেও লক্ষ্মীর পাশে কিন্তু গণেশ থাকেন না, তিনি থাকেন সরস্বতীর পাশে। আবার কার্তিক থাকেন না সরস্বতীর পাশে, তিনি থাকেন লক্ষ্মীর পাশে। এই বাড়ির পূর্বপুরুষ রামলোচন চক্রবর্তী স্বপ্নাদেশ পেয়ে চাষের জমিতে দুর্গার মূর্তি পেয়েছিলেন। তাই পুজোর ৩দিন পাত পেরে অন্নভোগ খাওয়ানো হয় মানুষকে। এখানকার সন্ধিপুজোয় সন্ধিক্ষণ নির্ধারিত হয় জলঘড়ি বা তামির মাধ্যমে। কী সেই পদ্ধতি? তামার একটি বাটি থাকে। সেই বাটির মধ্যে একটি ছিদ্র থাকে। জলভরতি মাটির পাত্রের মধ্যে সেই তামার বাটি ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই বাটিটি যখন জলের মধ্যে ডুবে যায়, তখন তাকে এক তামি বলা হয়। পঞ্জিকা মতে, কত তামিতে সন্ধি হবে তা নির্ধারণ করা থাকে। আর সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের নিয়ম মেনে তামি সেই জলের ওপর বসানো হয় ও সন্ধিক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। চক্রবর্তী পরিবারের লোকেদের দাবি তামির সাহায্যে সন্ধিক্ষণ নির্ধারণ একেবারে নির্ভুল হয়। আবার এই পরিবারের আরও একটি রীতি, সন্ধিক্ষণ নির্ধারিত হলে, সেই বার্তা আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে পৌঁছে যায় রিলে পদ্ধতির মাধ্যমে।  

আশপাশে পাঁচটি গ্রাম থেকে চক্রবর্তী পরিবারের দুর্গামন্দির পর্যন্ত গ্রামবাসীরা নির্দিষ্ট দূরত্বে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যেই সন্ধিপুজো শুরু হয় তখনই রিলে পদ্ধতির মাধ্যমে মুখে মুখে সেই বার্তা পৌঁছে যায় আশপাশের গ্রামগুলিতে। তারপরে ওইসব গ্রামে সন্ধিপুজোর বলিদান হয়। এখনও এই প্রথা চালু আছে। আর তাই চক্রবর্তী মন্দিরের সন্ধিপুজো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান। বন্দুক বা কামান দেগে নয়, চক্রবর্তী বাড়ির দুর্গাপুজোর সন্ধিক্ষণের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে হঠাৎ চারিদিকে রোল ওঠে ‘সন্ধি-সন্ধি’। মন্দির থেকে পঞ্চাশ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকরা সেই আওয়াজ শোনামাত্রই ‘সন্ধি-সন্ধি’ আওয়াজ তুলে ছুটতে থাকেন পাশের গ্রামের দিকে। এভাবেই মিঠানির চক্রবর্তী বাড়ির সন্ধির বার্তা পৌঁছে যায় আশপাশের তিনটি গ্রামের ৭-৮টি গ্রামের পুজো মণ্ডপে। এই পরিবারের অনেকেই কর্মসূত্রে থাকেন রাজ্যের বাইরে বা কলকাতায়। কিন্তু পুজোর চারটে দিন বাড়িতে হাজির হন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য। পরিবারের যাবতীয় পারিবারিক ব্যবসা সবই শ্রীদুর্গার নামাঙ্কিত। পরিবারের অনেকেই আজ কয়লা খনির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের আক্ষেপ, মায়ের নামে অনেক জমিই এখন ধসের কবলে খনিগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এই পরিবারের পুজোয় নবরত্ন সহকারে ভাত, খিচুরি, লুচি-সহ বিভিন্ন ভোগ রান্না হয়। দশমীতে মাকে দেওয়া হয় পোড়া মাছের ভোগ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অষ্টমীতে বলির খড়গ ধোওয়া জল খেলে নারীর বন্ধ্যত্ব দূর হয়। সেই বিশ্বাস থেকে মনস্কামনা পূরণের জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসেন ভক্তকূল।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

ভোটের জন্য নেই বাস, আসানসোলে অটো-টোটোর বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ

সালানপুরে বলিউডের ‘গ্ল্যামার কুইন’ মন্দাকিনীর রোড’শো ঘিরে জনজোয়ার

রবিবাসরীয় প্রচারে গিয়ে জন্মদিনের কেক কাটলেন দিলীপ, কী বললেন?

বাংলার প্রথম দফার ভোটের ৩ দরিদ্র প্রার্থীকে চেনেন?

LIVE

‘বিজেপির একদিনও ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়’, দমদমে নিশানা মমতার

শুক্রে ঝোড়ো প্রচারে মমতা-অভিষেক, রয়েছে জনসভা ও পদযাত্রাও

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ