আমরা আসছি
00
Days
00
Hours
00
Mins
00
Secs
এই মুহূর্তে

ভাইফোঁটায় কেন কপালে দই, চন্দন ও কাজলের ফোঁটাই দেওয়া হয় ?

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কালীপুজোর পরই পালিত হয় ভাইফোঁটা। শুধু বাঙালি বলে নয়, ভাইফোঁটার প্রচলন বাঙালি ছাড়া অবাঙালিদের মধ্যেও রয়েছে। জানা যায়, হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে ভাইফোঁটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়াতে পালিত হয় বলে এই উৎসবকে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া-ও বলা হয়ে থাকে। বাঙালির শারদ-উৎসবের মরশুমে মোটামুটি এটিই শেষ পর্ব। এই উৎসবে প্রতি বছর বাংলা তথা ভারতের সমস্ত ভাই-বোনেরা মেতে ওঠে। ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কে স্নেহের প্রতীক এই ভাইফোঁটা। এই দিন কপালে ফোঁটা পরিয়ে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির প্রার্থনা করে বোনেরা। রীতিগত ভাবে অনেকে ভাইফোঁটা দেয় প্রতিপদে, তবে ভাইফোঁটা সাধারণত দ্বিতীয়াতেই হয়।

কথিত আছে, বহুদিন যমলোকে কাটানোর পর এদিন নিজের বোন যমুনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন যমরাজ। যমুনা যেমন যমের মঙ্গলার্থে কপালে ফোঁটা দিয়েছিলেন, অনুরূপভাবে বোন এবং দিদিরা নিজেদের ভাইয়ের কপালেও ফোঁটা দেয়। যমরাজ যেন তাদের ভাইয়ের প্রাণ হরণ না করতে পারেন, তাই তাঁরা ‘যমের দুয়ারে কাঁটা’ দেয়। ভাইফোঁটা দেওয়ার সময় বোনেরা বলে থাকে,

“ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,

যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা,

যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,

আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা!”

প্রচলিত নিয়মানুসারে, বাংলায় ভাইফোঁটার দিন দিদিরা এবং বোনরা ভাইদের মূলত দই, চন্দন এবং কাজলের ফোঁটা দিয়ে থাকে। আবার দেশের অনেক জায়গায় ভাইদের কপালে চালের ফোঁটাও দেওয়া হয়। কাঁসা বা পিতলের থালায় ধান-দুর্বা, ঘরে আমপাতায় পারা কাজল, চন্দন সাজিয়ে রাখা হয় ভাইয়ের সামনে। সঙ্গে থাকে ঘিয়ের প্রদীপ ও শঙ্খ। আর মুখমিষ্টি করানোর জন্য থাকে ভাইয়ের পছন্দের সমস্ত মিষ্টিও। এরপর ধান-দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে বোনেরা। তবে দই, চন্দন এবং কাজলের ফোঁটা দেওয়ার নেপথ্যে আছে বিশেষ কারণ।

আসলে বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে গেলে, চন্দন এবং দই আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে। একাগ্রতা বাড়ানো ও  মন শান্ত করার পাশাপাশি ধৈর্য শক্তি বাড়ায় চন্দনের টিপ। বিভিন্ন হিন্দু অনুষ্ঠানে দেখা যায়, ভক্তদের কপালে চন্দনের টিপ বা তিলক। আসলে এর ফলে ঈশ্বরের প্রতি মন নিবিষ্ট রাখা যায়। চন্দনের এই গুণের জন্যই প্রাচীনকালে মুনি- ঋষিরা কপালে তিলক আঁকতেন। উপরন্তু, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী যে কোনও শুভ কাজে দইয়ের ব্যবহার করা উচিত। অপর দিকে বিশ্বাস করা হয়, কাজল নজর কাটায়। তাই কু-নজর থেকে আদরের ভাইকে রক্ষা করতেই কাজলের ফোঁটা দেওয়া হয় তাঁর কপালে। এই সকল কারণের জন্যই ভাইদের দই, চন্দন ও কাজলের ফোঁটা দেওয়া হয় ।

ভাইফোঁটায় দিনভর খুশি, আনন্দ, খাওয়া দাওয়া, খুনসুটি চলতে থাকে ভাই বোনের। সব মিলিয়ে ভাইফোঁটা ছিল, আছে, থাকবে। তবে জেনে রাখা ভালো, বাংলায় যা ভাইফোঁটা, উত্তর ভারতে তাই পালিত হয় ‘ভাই দুজ’ নামে। পশ্চিম ভারতে আবার সেটাই ‘ভাউ বিজ’, আর পূর্ব ভারত ও নেপালে সেটাই ‘ভাই টিকা’ নামে পরিচিত। শুধুমাত্র স্থান ফেরে নাম বদলেছে। কিন্তু উৎসবটা একই রয়ে গেছে। যা আদপে ভারতের সনাতনি ইতিহাসেরই ধারক ও বাহক।

Published by:

Share Link:

More Releted News:

নিরামিষ নাকি আমিষ! কোন খাবার দিয়ে দিন শুরু হয় গুগলের CEO সুন্দর পিচাইয়ের?

কম খরচে ভ্রমণ কীভাবে সম্ভব? ৩টি সহজ কৌশলেই বদলে যাবে আপনার ট্রিপ

৪০ ডিগ্রির গরম থেকে মুক্তি পেতে ফ্যান ব্যবহার? সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সদর দরজায় এটি ঝুলিয়ে রাখলে কেল্লাফতে, আর্থিক সমস্যা হবে দূর

গরমে হাঁসফাঁস পোষ্যও! স্বস্তি দিতে মেনুতে রাখুন এই খাবারগুলি

মাত্র ২৯৯ টাকায় একাধিক ওটিটি সাবস্ক্রিপশনের অফার? ফাঁদে পা দিলেই ফাঁকা হবে অ্যাকাউন্ট

Advertisement
এক ঝলকে
Advertisement

জেলা ভিত্তিক সংবাদ