বৈশ্রবণই হয়ে উঠেছিলেন কুবের, জানুন অজানা কাহিনী

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দুধর্মে কুবের হলেন ধনসম্পদের দেবতা, যিনি যক্ষ নামক উপদেবতাদের রাজা। পৌরাণিক তথ্যানুসারে জানা যায়, তিনি উত্তর দিকের রক্ষক ও পৃথিবীর অন্যতম রক্ষাকর্তা দেবতা হিসেবে পূজিত হন। সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গ্রন্থ বেদে কুবেরকে অশুভ আত্মাদের অধিপতি বলা হলেও পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত ও পৌরাণিক সাহিত্যে তিনিই প্রথম দেবতার মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তবে তিনি কিন্তু প্রথমেই কুবের ছিলেন না। জানা যায়, তিনি ছিলেন রাক্ষস রাজ লঙ্কাধিপতি রাবণের ভাই। তাঁর আসল নাম বৈশ্রবণ। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তাঁর পিতা বিশ্রবা ছিলেন একজন শক্তিশালী ব্রাহ্মণ এবং পুলস্ত্য মুনি-র পুত্র। বিশ্রবা তার অসীম জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক শক্তির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী ইলাভিদার গর্ভে জন্ম নেওয়া পুত্র বৈশ্রবণ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নিকষার গর্ভজাত পুত্র ছিলেন রাবণ। দুই আলাদা নারীর গর্ভজাত হওয়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছিলেন দুই ভাই। যেখানে রাবণ শক্তি ও আধিপত্য অর্জনের পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে বৈশ্রবণ ধর্ম ও ঐশ্বরিক সেবার প্রতি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন।

জানা যায়, বৈশ্রবণ তার জীবনে মহান ক্ষমতা ও ঐশ্বরিক মর্যাদা লাভের জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তিনি একটানা সহস্র বছর কঠোর ব্রত পালন করেছিলেন। প্রথমে তিনি শুধুমাত্র জল পান করে থাকতেন, পরে বায়ুভক্ষণ করতেন এবং অবশেষে তিনি সম্পূর্ণ নিরাহারে ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁর এই কঠোর তপস্যা ব্রহ্মা-র দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অতঃপর ব্রহ্মা তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে উপস্থিত হন এবং তাকে একটি বর চাইতে বলেন। এটাই ছিল বৈশ্রবণের ভাগ্য পরিবর্তনের মুহূর্ত। বৈশ্রবণ তখন একটি অনন্য বর প্রার্থনা করেন। যেখানে অন্যরা ব্যক্তিগত শক্তি বা অমরত্ব চাইতেন, সেখানে তিনি বিশ্ব রক্ষকের দায়িত্ব চাইলেন। তিনি ব্রহ্মাকে বললেন, “আমাকে বিশ্বের রক্ষক করুন!” ফলে ব্রহ্মা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর নিঃস্বার্থতার প্রশংসা করেন এবং তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেন। তিনি বলেন, “পূর্ব দিকের রক্ষক ইন্দ্র, পশ্চিম দিকের বরুণ, দক্ষিণের যম। সেইসঙ্গে, উত্তর দিকের রক্ষক হিসাবে তোমার দায়িত্ব হবে।“ এইভাবে, বৈশ্রবণ যক্ষরাজ ও ঐশ্বর্যের রক্ষক কুবের হয়ে উঠলেন।

উত্তর দিকের অভিভাবক হওয়ার পাশাপাশি, কুবের যক্ষ, কিন্নর ও গন্ধর্বদের অধিপতি হয়ে উঠলেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য লাভ করেন এবং সম্পদের দেবতা হয়ে ওঠেন। ব্রহ্মা তাকে পুষ্পক রথের বর প্রদান করেন, যা তার চিন্তার গতিতে যে কোনো স্থানে যেতে পারত। এরপর কুবের তার রাজধানী লঙ্কায় স্থাপন করেন। এই সোনার শহর দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং এটি ছিল এক অনন্য সুন্দর ও সমৃদ্ধির প্রতীক। একসময় রাক্ষসরা লঙ্কায় বসবাস করত, কিন্তু দেবতারা তাদের পরাজিত করে সেখানে তাদের কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিল। কুবেরের শাসনে লঙ্কা শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে।

কিন্তু, কুবেরের এই রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাঁর সৎভাই রাবণ কুবেরের ঐশ্বর্য ও মর্যাদায় প্রবল ঈর্ষান্বিত হয়ে লঙ্কা দখল করার জন্য যুদ্ধ শুরু করে। রাবণ শক্তি ও আধিপত্যের মোহে মত্ত হয়ে লঙ্কা জয় করেন এবং কুবেরকে বিতাড়িত করেন। রাজ্য হারানোর পর বিষণ্ণ কুবের হিমালয়ের অলকাপুরীতে নতুন আবাস গড়েন এবং সেখানেই তিনি ঐশ্বর্যের দেবতা ও স্বর্গের রক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত থাকেন।

তৃণমূলের ভরাডুবির দায় এড়াতে দল ছাড়ছেন কেষ্ট!

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ রথীন ঘোষকে ফের তলব ইডির

বেআইনি মাটি মাফিয়াদের ঘুম কাড়লেন সাগরপাড়া থানার ওসি রাকেশ বিশ্বাস

প্যান-ফ্রাইড চিকেনে বিরক্ত? ট্রাই করুন এই হাই-প্রোটিন রেসিপি

গরিব পুজো কমিটির পাশে থাকবে রাজ্য সরকার, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

রোদে শুকোতে দিলেই মলিন হচ্ছে কাপড়ের রং? জেনে নিন দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখার পদ্ধতি

‘এপাং ওপাং’ থেকে ‘হাম্বা’, রাজ্যের সব লাইব্রেরি থেকে সরছে মমতার বই, ঘোষণা গ্রন্থাগার মন্ত্রীর

বৃষ্টির বিকেলের আড্ডা জমাতে মেনুতে রাখুন রেস্তোরাঁ-স্টাইলের ৮ মুচমুচে স্ন্যাকস

‘টাটাকে বাংলায় ফিরিয়ে আনব’, দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা শুভেন্দুর

‘বাংলাকে নতুন করে গড়তে সাহায্য করছেন প্রধানমন্ত্রী,’ দাবি শুভেন্দুর

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের গুপ্ত চিঠি প্রকাশ্যে, শত্রুঘ্ন সিনহার সই নেই

বাঙালি স্বাদে বিদেশি ছোঁয়া, বর্ষার দিনে বাড়িতে বানান ইলিশের পিৎজা

‘নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও শিল্প আনা সম্ভব’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভাইপো প্রশান্ত